চাষের জমি প্রতিবছর কমতেছে। কিন্তু এদেশের সত্যিকারের দেশ প্রেমিক আমার দেশের চাষারা তাদের উপর অর্পিত দায়ীত্ব ঠিকই পালন করে যাচ্ছেন। গেল বছরে প্রায় ১.৬০৪ কোটি টন সবজির উৎপাদন করেছেন আমাদের দেশের খেটে খাওয়া কৃষকরা। 

সবজি চাষের সাথে জড়িত প্রায় ১.৬২ কোটি মানুষ। প্রায় ১৫৬ ধরনের সবজি চাষ করেছেন তারা। আমার দেশের নারীরা কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখে এক্ষেত্রে। দেখবেন বাড়ির উঠানে সামান্য জায়গা পেলেও পরম আদর যত্নে সেখানে বুনে রেখেছেন লাউ, সিম অথবা পুই শাক। 

বিষয়টা একটু অবাক করার মতই। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রতিবছর নগরায়নের বলি হচ্ছে লক্ষ লক্ষ হেক্টর কৃষি জমি। অথচ স্বাধীনতার পর থেকে ২০১৭ পর্যন্ত সবজির উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৫ গুন। 

 

কেন জানিনা আমাদের দেশের কৃষক যারা এরা প্রযুক্তির সাথেও নিজেদের খুব সহজে মানাই নিয়েছেন। নতুন ও আধুনিক পদ্ধতির প্রয়োগ তো করতেছেনই মাঠে, সাথে দেখা যায় কেউ কেউ আবার ওভার স্মার্ট। নিজেরাই নতুন পদ্ধতি আবিস্কার করে ফেলেন। কিছুদিন আগে সারা বিশ্বে স্বীকৃতি পেল গোপালগঞ্জের কৃষকদের ভাষমান ফসল চাষ পদ্ধতি। যেসব জমি বছরের ৫-৬ মাস পানির নীচে থাকে সেসব জমিতে কচুরি পানার উপর তারা ভাসমান ফসলের চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। 

 

তাদের প্রয়োজন ন্যায্য মূল্য পাওয়া। কষ্টের ফসলের লাভ নিয়ে যায় কষ্ট না করা একদল মধ্যস্বত্ত ভোগীরা। এখানেও অবাক লাগে কৃষকদের আত্বা দেখলে। টমেটো বাজারে দাম না পেলে গরু দিয়ে খাওয়াই দেয়। রাস্তায় ফেলে দেয়। একবার পত্রিকায় পড়েছিলাম খুলনার দৌলতদিয়ায় এক কৃষক পাটের দাম মন মত পাইনি বলে দিয়াশলায়ের কাঠি খরচ করে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছেন। 

 

আসুন আমরা তাদেরকে প্রাপ্য সম্মান দিতে শিখি। এদেশে শিক্ষিত চোরের দরকার নাই। এরকম কৃষকদের দরকার।