আমার মতে মানব সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ন আবিষ্কার Google (Alphabet), আর যার মাথা থেকে Google এর আইডিয়া এসেছিল সেই ভদ্রলোকের নাম ল্যারি পেইজ। আপনারা অনেকেই জেনে থাকবেন যে, Google এর সার্চ এলগরিদম যাকে বলা হয় PageRank এসেছে Lary page এর নাম থেকে। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে ল্যারি পেইজ ইন্টারনেট দুনিয়ার সবচেয়ে বড় লিডারশিপ ব্যর্থতার এক জ্বলন্ত উদাহরন!

১৯৯৫ সালে পেইজ যখন স্ট্যানফোর্ডে গ্রাজুয়েট স্টুডেন্ট তখন তিনি লক্ষ্য করলেন সেই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন Altavista শুধুমাত্র কিওয়ার্ড ম্যাচ করে সার্চের কাজ করে, তাঁর মাথায় আইডিয়া আসলো আরো ভাল সার্চ ইঞ্জিন বানানোর। তিনি চিন্তা করলেন একটা ভাল সার্চ ইঞ্জিনে একটা পেজকে র্যা ঙ্ক করানোর জন্যে কিওয়ার্ড এর সাথে অন্য আরো কিছু প্যারামিটার যোগ করা দরকার (যেমন, অন্য সাইটগুলো ঐ পেজের সাথে কীভাবে লিঙ্ক করা)। আইডিয়া বাস্তবে রুপ নিলো যখন ল্যারির সহপাঠি সার্জি ব্রিন একটা প্রোগ্রাম লিখলেন যেটা সাইটের কন্টেন্ট এনালাইসিস করে পেইজের চিন্তামাফিক সার্চ করে। এরপর পেইজ এবং ব্রিন দিন-রাত এক করে খেটে বানিয়ে ফেললেন Google!

 

ল্যারি পেইজ ল্যারি পেইজ


কাজ শেষ করার আগেই সার্চ ইঞ্জিন ব্যাপক হিট, দুজনের চিন্তার বাইরের হিট। এবার আইডিয়া থেকে টাকা কামানোর চিন্তা চলে আসলো। দুজনেই তখন ছাত্র, ভাবলেন বিক্রি করে কিছু টাকা কামানো যাক। মুল্য ধরা হলো ১ মিলিয়ন ডলার, কিন্তু হতাশ হতে হলো কারন আইডিয়া সবার পছন্দ হলেও কেউ কিনতে রাজি নন! রাগের চোটে দুজন সিদ্ধান্ত নিলেন নিজেরাই ব্যবসা করবেন। অল্প কিছু ফান্ড রেইজ করা হলো এবং একটা ভাড়া অফিসে শুরু হলো Google এর যাত্রা। সময় সাল ১৯৯৮।

১ মিলিয়ন ডলারে কিনলে যে সেটা পৃথিবীর সর্বকালের সেরা ইনভেস্টমেন্ট হতো তা বোঝা গেল ১২ মাসের মধ্যেই, এই অল্প সময়েই Google দুই জনের কোম্পানি থেকে শত জনের কোম্পানি, ভেঞ্চার ক্যাপিটালও পাওয়া গেছে ২৫ মিলিয়নের!

কিন্তু সমস্যা হলো পেইজের নেতৃত্ব। Google কে পৃথিবীর সবচেয়ে সফল কোম্পানি করার জন্যে যে লিডারশিপ স্কিল দরকার তা পেইজের নেই বলেই সবার মত। কিন্তু পেইজ CEO পজিশন থেকে সরবেন না। অস্বাভাবিক গ্রোথের একটা কোম্পানির CEO যেমন হওয়া দরকার পেইজ তেমন নন। তিনি চান সব কাজে নিজেকে জড়াতে, তাঁর ভাষায়, “don’t delegate: do everything you can yourself to make things go faster.” যেটা Google এর মত কোম্পানির জন্যে অসম্ভব একটা ব্যাপার।

 

ল্যারি পেইজ

সবচেয়ে মজার ব্যাপার দাড়ালো যখন পেইজ সিদ্ধান্ত নিলেন প্রজেক্ট ম্যানেজার পদ বিলুপ্ত করার। তাঁর মতে ইঞ্জিনিয়ারদেরকে কেন নন-ইঞ্জিনিয়াররা সুপারভাইজ করবে। ফলাফল দাঁড়ালো ভয়াবহ, যখন এই নতুন স্ট্রাকচার সম্পূর্ন ব্যর্থ হলো। কেউ ছেড়ে কথা বলার লোক নয়, Google এর ভেতরে-বাইরে সবার তখন বদ্ধমূল ধারনা Page was not ready to be CEO!

পেইজ মেনে নিলেন। ২০০১ সালে Eric Schmidt কে দায়িত্ব দেয়া হলো CEO-র। এই সিদ্ধান্তটা ভাল ছিল, এরিকের সময় Google ২৪,০০০ মানুষের একটা জায়ান্টে পরিনত হয়, ২০০৪ সালে সফলভাবে IPO তে যায়।

আর ওদিকে পেইজ আস্তে আস্তে নিজেকে গুটিয়ে নেন। যারা বোঝার তারা বুঝেন, বৃহত্তরো স্বার্থে নিজের ইগো কীভাবে বিসর্জন দিতে হয়। পেইজ কিন্তু দমে যাননি, তিনি আস্তে আস্তে গুছাতে থাকেন নিজেকে।ল্যারি পেইজ

 

ল্যারি পেইজ

এই গল্পের শেষটা মিলনাত্নক, ল্যারি পেইজ আবার Google এর CEO হন ২০১১ সালে যখন তিনি প্রস্তুত। এই দশ বছরে পেইজ প্রত্যেকটা ছোট ছোট জিনিস নিয়ে কাজ করেছেন যাতে তাঁর স্বপ্নের কোম্পানিকে নিজ হাতে জায়গামত নিয়ে যেতে পারেন।

বিদায়ী CEO Eric Schmidt মজা করে tweet করেছিলেন, “Adult supervision no longer needed”!ল্যারি পেইজ