কানাডা মাইগ্রেশনের সুযোগ, প্রিপারেশন, প্রসেসিং এবং সফল সেটেলমেন্ট নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা, গুজব, ভয় এমনকি উচ্চাভিলাষী ভাবনা আমাদের মধ্যে হরহামেশাই কাজ করে।

১০ পর্বের ধারাবাহিক ফিচার লিখছি আপনাদের জন্য আশাকরি অনেকেই উপকৃত হবেনঃ

পর্ব ০৪ঃ কানাডার লাইফ স্টাইল আর খরচাপাতি?
 

কানাডার আবহাওয়া মূলত ঠান্ডা হলেও কিছু কিছু প্রভিন্সে গ্রীষ্মকালে অসহনীয় গরম পরে। পরিসংখ্যান ঘাটলে দেখা যাবে ১৯৩৭ সালে সাস্কাচুয়ানে গ্রীষ্মকালে গরম ৪৫ ডিগ্রিতে গিয়ে ঠেকেছিলো। ভ্যাঙ্কুভার ছাড়া প্রায় সকল প্রভিন্সেই শীতকাল বেশ রয়েসয়ে কাটাতে হয়। গড় তাপমাত্রা -১৫ থেকে -২০ এর মধ্যেই থাকে। আমাদের দেশে যেমন সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস, হিট ওয়েভ কিংবা শৈত্য প্রবাহ জনজীবন দূর্বিসহ করে তুলে তেমনি এই মুল্লুকে স্নো স্ট্রোম বা তুষার ঝড় শীতকালে নিয়মিতই নিত্যনৈমিত্তিক কাজে ব্যঘাত ঘটায়। ১৯৪৭ সালে ইউকন টেরিটরিতে একবার তাপমাত্রা মাইনাস ৬৩ (-৬৩) ডিগ্রি পর্যন্ত নেমে যায়। অনেক বড় প্রভিন্সের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা -৪০ থেকে -৫০ এর ঘরে নেমে যাওয়ার নজির আছে। তবে এই এক্সট্রিম আবহাওয়া বেশী দিন স্থায়ী হয় না কিন্তু গড়ে অনেকে প্রভিন্সেই হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রা বহাত তবিয়তে চার থেকে পাঁচ মাস বজায় থাকে।

 

তাহলে কানাডা কি আসলে বসবাস যোগ্য?

অবশ্যই বসবাস যোগ্য! এই ঠান্ডা কিন্তু হঠ্যৎ করে আসেনি। উত্তরের আবহাওয়া বরারবরই এমন আর তার সাথে মানিয়ে চলার জন্য আপনাকে প্রপার জামা কাপড় পড়ে রাস্তায় বের হতে হবে। কানাডার বেশীরভাগ প্রভিন্সের বড় শহরের ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম অত্যন্ত চমৎকার! বাস, মেট্রো রেল কিংবা সি-বাস প্রতিটি পাবলিক ট্রান্সপোর্টের মধ্যেই হিটিং সিস্টেম বাধ্যতামূলক। গুগল ম্যাপ বা সিটির বিশেষায়িতই মোবাইল এপ্লিকেশন দিয়ে আপনি লাইভ বাস মনিটর করতে পারবেন। বাস স্টপে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকার দিন শেষ। মুঠোফোনে বাসের গতিবিধি এবং আবার বাস স্টপে বাস পৌছানোর সময় দেখে আপনি সহজেই সময়ক্ষেপণ ছাড়াই বাসে চড়তে পারবে।

 

বুঝলাম কিন্তু টিকিট?

হুম, পাবলিক ট্রান্সপোর্টের টিকেটিং ব্যবস্থাও অত্যন্ত চমৎকার! আপনার হাতে সাকুল্যে ২টা অপশন থাকবে। অপশন ১ঃ বাসে উঠে নির্ধারিত কয়েন বক্সে একে এক কয়েন ড্রপ করতে থাকবেন আর যখনি কয়েন দিয়ে টিকেটের মূল্য পরিশোধ হয়ে যাবে ড্রাইভারের পাশের টিকেটিং সিস্টেমে সবুজ বাতি জ্বলে উঠবে। এখানে ভাংতির কোনো সিস্টেম নাই, ড্রাইভারের কাছে কানাকড়িও থাকে না আর হেল্পার থাকার কথাও ভাবাও যায় না! টিকেটের সম পরিমাণ কয়েন আপনাকেই ব্যবস্থা করতে হবে। ধরুন টিকেটে মূল্য ৩ ডলার ২৫ সেন্ট কিন্তু আপনার কাছে আছে ২ ডলারের ২টা কয়েন মানে ৪ ডলার। হিসাবে আপনার ৭৫ পয়সা ফিরত পাবার কথা, কিন্তু ক্যাশলেস সিস্টেমের কারণে আপনার অতিরিক্ত পঁচাত্তর পয়সা ফিরত পাবেন না। আবার ধরুণ আপনি বিপদে পরেছেন, মানিব্যাগের সকল গোপন কুঠুরি হাতরে ৩ ডলার পেয়েছেন, অর্থ্যাৎ আপনার এখনো ২৫ পয়সা ঘাটতি! বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আপনি ড্রাইভারকে অনুরোধ করলে সে আপনাকে বাকি টাকা ওয়েভ (মাফ) করে দিবে।

 

ইয়া মাবুদ, কয়েনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে কি আবার মাটির ব্যাংকের প্রথা ফিরায়ে আনতে হবে?

মুহতারামে হাজিরিন, এখানের যারা বাসে চলাচল করেন তাদের ৯০ ভাগ মাসিক বাস পাস করে থাকেন। নির্ধারিত মূল্যের বিনিময়ে আপনি মাসিক পাস কিনতে পারবেন আর বাসে উঠার সময় নির্ধারিত স্থানে কার্ড পাঞ্চ করে দিব্বি যাতায়ত করতে পারবেন। মাসিক বাস পাসের ক্ষেত্রে আপনি যতখুশি তত বার উঠানামা করতে পারবেন, আনলিমিটেড এক্সেস! তবে এর জন্য আপনাকে গড়ে ১০০ ডলার গুনতে হবে। প্রভিন্স ভেদে এই রেট আবার উঠা নামা করে। ভালো খবর হলো এই মূল্যের উপর আপনাকে ট্যাক্স প্রদাণ করতে হবে না আর এই মাসিক কার্ড দিয়ে শুধু বাস না বরং আপনি বাস, রেল এমন কি সি-বাস (বাংলাদেশের ফেরীর মত) পর্যন্ত সার্ভিস উপভোগ করতে পারবেন।

 

কিন্তু আমি যদি গাড়ী কিনি?

অবশ্যই, এখানে গাড়ি খুবই মামুলি ব্যাপার। এমন অনেক স্টোর দেখবেন যেখানে ক্যাশিয়ার ২০১৭ ল্যাটেস্ট মডেলের ফোর্ড চালায় তো দোকানের মালিক মারুতি চালাচ্ছে! আপনি পার্ট টাইম চাকুরীতে জয়েন করলেই লোনে গাড়ী কিনতে পারবেন। বাংলাদেশের মত এখানে আকাশ ছোঁয়া ইন্টারেস্ট না, ইন্টারেস্ট বেশ সহনীয়। আপনি চাইলে কিছু টাকা ডাউন পেমেন্ট দিয়ে শোরুম থেকে গাড়ী কিনতে পারবেন বাকি টাকা মাসে/সপ্তাহে নির্দিষ্ট ইন্সটলমেন্ট ৪/৫ বছরে পরিশোধ করতে পারবেন।

 

বুঝলাম কিন্তু লাইসেন্স?

উঁহু, সে এক বিশাল কাহিনী। গাড়ী আপনি যখন খুশি কিনতে পারলেও লাইসেন্সের ব্যাপারে কর্তপক্ষ অত্যন্ত কঠোর। ধরে নিলাম বাংলাদেশে আপনার লাইসেন্স ছিলো না, এখানে এসে প্রথমেই আপনাকে ট্রাফিক রুলস নিয়ে পড়াশোনা করে কম্পিউটার টেস্টে পাস (মূলত মাল্টিপল চয়েস) করে লার্নাস নিতে হবে। লার্নাস পাবার পর আপনি চালানো শিখবেন কিন্তু যখনি গাড়ী নিয়ে রাস্তায় বের হবেন তখন আপনার পাশে অবশ্যই, আই রিপিট অবশ্যই ফুল ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে এমন কেউ থাকতে হবে যে আপনাকে গাইড করবে। কোনো অবস্থাতেই লারনাস নিয়ে একা বের হওয়া যাবে না। আর যদি একা বের হয়ে ধরা খেয়ে যান তাহলে আপনি শেষ, প্রভিন্সের আইন অনুযায়ী মোটা অংকের জরিমানা এবং নেগেটিভ টিকিট আপনাকে ধরিয়ে দেয়া হবে যা কিনা আপনার ইন্সুরেন্সে প্রভাব ফেলবে। প্রভিন্স ভেদে ৯ থেকে ১২ মাস লার্নাস হিসাবে চালানো, নির্ধারিত সেন্টার থেকে ত্বাত্তিক এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষন নিয়ে তবেই মূল লাইসেন্সের জন্য আপনি ড্রাইভ টেস্ট দিতে পারবেন। ড্রাইভ টেস্টে পাস করলে আপনাকে ফুল লাইসেন্স দেয়া হবে তবে প্রথমেই এর সাথে নবিস টাইটেল যুক্ত থাকবে। আরো বেশ কিছুদিন এভাবে চালোনোর পর নির্ধারিত সময়ে আপনি ফুল লাইসেন্স পাবেন। লার্নাস থেকে ফুল লাইসেন্স পেতে গড়পড়তা ১৫-১৮ মাস লেগে যায় তবে তা প্রভিন্স ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

 

কিন্তু আমি তো বাংলাদেশে তুখোর ড্রাইভার ছিলাম ভাউ!

ইয়ে মানে বাংলাদেশে কবে আইন মেনে গাড়ী চালিয়েছেন? বাংলাদেশের শতকরা শতভাগ ট্রাফিক লাইটা আসলে ঘোড়ার ডিম। খুবই দুঃখজনক তবে সত্যি। তবে, আপনার যদি বাংলাদেশে গাড়ী চালানোর অভিগ্যতা থাকে তাহলে আপনার লাইসেন্সের বয়সের উপর ভিত্তি করে অথরিটি আপনাকে ওয়েটিং টাইম ওয়েভ করে দিতে পারে। সাধারণত এক বছর চালানোর অভিগ্যতা থাকলে আপনি কম্পিউটার টেস্ট দিয়ে সাথে সাথে ড্রাইভ টেস্ট দিতে পারবেন।

 

আমার তো ড্রাইভিং লাইসেন্স নাই, কিন্তু নীলক্ষেত আছে না উস্তাদ 

মুহতারামে হাজিরিন, একটা সময় ছিলো বাংলাদেশের সবকিছুই এনালগ ছিলো। অনেক আদম নীলক্ষেত থেকে লাইসেন্স নিয়ে এসে সেটার উপর ভিত্তি করেই পার পেয়ে গেছেন। এখন আর সেই দিন নাই, এখন লাইসেন্সে চিপ বসেছে। আর এখানকার অথরিটি লাইসেন্স অনেক ক্ষেত্রেই বিআরটিএ বা লোকাল বাংলাদেশ এম্বেসীর সাথে কথা বলে আপনার লাইসেন্স ভেরিফাই করে নেয়। জাল লাইসেন্স নিয়ে ধরা খেয়েছেন তো আপনি শেষ। গত পরশুই আমার পরিচিত দুই ভাই নীলক্ষেতের জাল লাইসেন্স নিয়ে ধরা খেয়েছেন। তারা যে হেনেস্তার স্বীকার হয়েছেন তা আর নাই বা বললাম। উপরন্তু আমরা বাংলাদেশীরা চোর হিসাবে ট্যাগড হয়েছি। এখন আসল লাইসেন্স নিয়ে আসলে আপনার দিকে যেভাবে তাকাবে তা মোটেও শোভনীয় নয় আর তার জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী।

এই দেশে অনেক চাকুরীর সার্কুলারে স্পষ্ট লেখা থাকে ফুল ড্রাইভিং লাইসেন্স আবশ্যক। আপনার ফুল ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে আপনি এপ্লাই পর্যন্ত করতে পারবেন না। এখানে শীতকাল বেশ লম্বা হয়, বরফ পরলেও আপনি যাতে সঠিক সময়ে অফিসে পৌছাতে পারেন অনেক রিক্রুইটার এটা নিশ্চিত করতে চায়। এর পাশাপাশি যে সকল চাকুরীতে সাইট ভিসিটের ব্যাপার থাকে সেখানে সব জায়গাতেই আপনাকে নিজের গাড়ী নিয়ে যেতে হবে। অফিসের গাড়ী বলে কোনো কনসেপ্ট নেই, অফিস আপনাকে হয়ত তেলের খরচ বহন করবে অনেক ক্ষেত্রে কিন্তু গাড়ীটা আপনারই হতে হবে আর সাথে ড্রাইভিং লাইসেন্সটাও!

 

এখানে গাড়ী চালানোর ১২ আনাই রুলস। তার উপর গাড়ী চলে রাস্তার ডান দিকে যা বাংলাদেশের সম্পূর্ণ বিপরীত! অনেক ঝানু ড্রাইভারও এখানে এসে ৩/৪ ঘণ্টা লেসন নিয়ে থাকেন এই পরিবর্তনের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার জন্য। মনে রাখতে হবে অভার কনফিডেন্স ইজ এ কিলার।

ইলিয়াস কাঞ্চনের কথা সব সময় মাথায় রাখবেন, "একটি দূর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না"।

বাংলাদেশের বেশীরভাগ গাড়ীর মালিক থার্ড পার্টি ইনস্যুরেন্স করে থাকেন যা পাওয়া যায় নাম মাত্র মূল্যে কিন্তু এই মুল্লুকে আপনাকে বেশ বড় অংকের টাকা মাসিক ব্যয় করতে হবে। গড় পড়তা ১০০-৩৫০ পর্যন্ত মাসিক প্রদান করতে হতে পারে। প্রভিন্স, আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সের বয়স, গাড়ীর বয়স ইত্যারি প্যারামিটারের উপর ভিত্তি করে ইন্সুরেন্স উঠা নামা করে। উদাহরণ দেয়া যাক, টরেন্টোতে গড়ে ৩০০ ডলার আপনাকে মাসিক গুণতে হবে গাড়ীর ইন্স্যুরেন্সের পিছনে। আর ইন্স্যুরেন্স ছাড়া গাড়ী রাস্তার বের করতে পারবেন না।!

 

হুম বুঝলাম, ভালো কথা এবার বাসাবাড়ীর কথা বলেন?

হুম, কানাডার প্রায় শতভাগ বাড়ীই কাঠের তৈরী! এই বাড়ীগুলোকে আবার ভিক্টোরিয়ান স্টাইল বাড়ী বলে ডাকা হয়। কিন্তু ভিক্টোরিয়া আসলো কোথা থেকে? জনাব, প্রথমত ইংল্যান্ডের রানী ভিক্টোরিয়াকে কানাডাও তাদের নিজেদের রানী হিসাবে মানে। এমনকি কানাডা সংক্রান্ত ব্যাপার দেখভাল করার জন্য ব্রিটেনের রানীর নিযুক্ত এজেন্ট জেনারেল কানাডায় কাজ করে থাকেন। যদিও ব্যাপার গুলো আলংকারিক কিন্তু এখনো কানাডায় কলোনিয়াল কন্ট্রিবিউশনের জন্য ভিক্টোরিয়াকে কানাডার রানী হিসাবে সাদরে মানা হয় ।

 

বুঝলাম কিন্তু ভিক্টোরিয়ান হাউস এর সাথে এর কি সম্পর্ক?

কুইন ভিক্টোরিয়ার রাজত্বকালে (১৮৩৭ থেকে ১৯০১ সাল) যে সকল বাড়ী তৈরী হয়েছিলো সেই বাড়ীগুলোকে ভিক্টোরিয়ান হাউস বলে। মূলত ঠান্ডা থেকে বাঁচতে ইট সিমেন্টের বদলে কাঠ দিয়ে তৈরী হত দ্বিতল বিশিষ্ট এই বাড়ীগুলো। সময়ের পরিক্রমায় এই স্টাইলের বাড়ীগুলো ভিক্টোরিয়ান হাউস নামে পরিচিতি প্রায় যা প্রায় গোটা ইউরোপ আর নর্থ আমেরিকায় জনপ্রিয়। কাঠের দেয়াল অনেকটা দ্বিস্তর বিশিষ্ট, মাঝে ইন্সুলেটর বসানো হয় যাতে ঠান্ডা বাইরে থেকে ভিতরে ঢুকতে না পারে। আপনি চাইলে পুরো হাউস ভাড়া নিয়ে থাকতে অথবা কিনতে পারবেন। পুরো বাড়ী কিনতে গেলে আপনাকে বেশ মোটা অংকের টাকা ব্যয় করতে হবে। যেমন একই বাড়ী হয়ত আপনাকে ভ্যাঙ্কুভারে কিনতে গেলে ৬০০,০০০ ডলারে কিনতে হবে আবার সেই বাড়ী সাস্কাচুয়ান বা মন্ট্রিয়ালে কিনতে গেলে হয়ত ২০০,০০০ ডলার ব্যয় করতে হবে। বাড়ীর দাম প্রভিন্স থেকে প্রভিন্সে উঠানামা করে।

 

কিন্তু বাড়ী তো আর কিনতে পারবো না ভাই, সস্তা কিছু বলেন!

কথা সত্য, আপনি চাইলে খুব সহজেই ১/২ রুমের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতে পারবেন যা অনেকটা বাংলাদেশের আদলে তৈরী করা (কিন্তু কাঠের)। বেশীরভাগ ফ্ল্যাটেই নিচে বেসমেন্ট আর উপরে সাধারণত আরো দুইতলা থাকে। বেসমেন্টে আলো বাতাস সাধারণত অত্যন্ত সীমিত, আবার কোনো কোনো বেসমেন্টে আলো বাতাসের সুযোগ পর্যন্ত থাকে না আর স্বভাবতই বেসমেন্টে রেন্ট খানিটা কম হয়ে থাকে। গড়পড়তা ১ রুমের বাসার জন্য আপনাকে ৮০০-১২০০ ডলার ব্যয় করতে হবে যা প্রভিন্স ভেদে উঠা নামা করে। টরেন্টোতে ১ রুমের স্টুডিও এপার্ট্মেন্টের জন্য যদি আপনি ব্যয় করবেন ১২০০ ডলার তাহলে একই বাসার জন্য হয়ত মন্ট্রিয়ালে আপনাকে ব্যয় করতে হবে ৯০০ ডলার! ২ রুমের বাসার জন্যও গড় পরতা ১১০০-১৪০০ ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে হতে পারে। মূলত আপনার প্রভিন্স ও লোকেশন অনুযায়ী বাসা ভাড়ার দাম উঠানামা করে। যেমন আপনি ডাউন টাউনে (মূল সিটিসেন্টার, আমাদের গুলশান কিংবা মতিঝিল অফিস পাড়া) থাকলে আপনাকে চড়া মূল্য পরিশোধ করতে হবে। ডাউন টাউনেই প্রায় সকল অফিস যে কারণে দাম ও চড়া। আপনি যদি একটু সাব আর্ব (সাব আর্বান, এই ধরুণ উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর) দিকে চলে যান তাহলে ভাড়াও আনুপাতিক হারে কমে আসবে।

হুম, সমস্যা নাই এক রুমেই থাকবো ব্রাদার, ট্যাকা সেভ 

 

উঁহু, এই মুল্লুকে হাইজিন আর হেলথ ফ্যাক্টর অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। ধরুণ আপনি আলহাদুলিল্লাহ দুই বাচ্চার জনক বা জননী। ভাবছেন কানাডা পৌছে চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত এক রুমেই কষ্ট করে থাকবেন। এই মুল্লুকে এটা সম্বভব নয়, আপনাকে বাচ্চার জন্য আলাদা রুম নিতে হবে। বাচ্চার একটা নির্দিষ্ট বয়স হয়ে গেলে তাকে অবশ্যই আলাদা রুম দিতে হবে। আপনি গাদাগাদি করতে থাকতে চাইলেও বাড়ীওয়ালা বা এপার্ট্মেন্টের এজেন্ট এলাও করবে না। মোদ্যাকথা, পরিবারের আকার আকৃতি অনুযায়ী আপনাকে বাসা ভাড়া নিতে হবে। বেসমেন্টে বাসা ভাড়া কম হলেও সেখানে আবার অন্য ঝামেলা! কানাডায় ছারপোকার ভয়াভব, বেসমেন্টের এদের বাস হলেও উপরের তলাগুলোতেও হরহামেশা দেখা যায়। ভালো ভালো এপার্ট্মেন্টের এজেন্টরা ছারপোকা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেস্টা করে থাকেন। অনেক সিটিতেই আপনি কোন কোন বাসায় ছারপোকার আছে তার লিস্ট অনলাইনে পাবেন। ছারপোকা অত্যন্ত দ্রুত বংশবিস্তার করে আবার একবার কোনো বাসায় ঢুঁকে গেলে তা থেকে পরিত্রান পাওয়া বেশ কঠিন!

 

এই দেশে অনেকেই তার ব্যবহৃত আসবাব পত্র বাসার সামনে রেখে দেন যা আপনি ফ্রি নিয়ে আসতে পারবেন। কি নেই তাতে? টিভি, ফ্রিম, বিছানা থেকে শুরু করে অনেক কিছুই। আমি পরিচিত এক ভাই কি চিনি যিনি কিনা ফ্রি সোফা বাসায় নিয়ে আসার পর সেখান থেকে ছারপোকা পুরো বাড়ীতে ছড়িয়ে যায়। এপার্ট্মেন্টের লোকজন অনেক চেষ্টা করেও ছারপোকা উৎপাটন করতে পারেনি। পরিশেষে সেই বাসাই তাদের ছাড়তে হয়েছিল!

পরিশেষে, সবাই শুধু সুবিধা জানতে চায়! শতশত মেম্বার ইনবক্স করেছেন কি কি সুবিধা পেতে পারি! মুহতারামে হাজিরিন যারা শুধু গাদা গাদা সুবিধার কথা ভেবে কানাডা আসার কথা ভাবছেন তাদের প্রতি অনুরোধ দয়া করে কিছু রিসার্চ করে আসুন। কানাডা অবশ্যই ল্যান্ড অফ লিভিং, এখানে আপনি সুন্দর ও পরিচ্ছন জীবন পাবেন কিন্তু তার মানে এই না আপনি নাকে তেল দিয়ে ঘুমাবেন আর সরকার আপনার সকল দায়ভার নিজের কাধে নিবে।

 

সবাই শুধু ফ্রি চায়!

তাহলে ফ্রি নিয়েই আজকের লেখা শেষ করি! আগেই বলেছি ব্রিটেনের রানীকে কানাডাও রানী হিসাবে মানে। আপনি রানীর ছবি বাসায় বা আপনার অফিসে টাঙাতে চান? নির্দিস্ট ইমেইল এড্রেসে আপনার পূর্ণ ঠিকানা সহ পাঠিয়ে দিন আপনার বাসায় রানীর স্ট্যান্ডার্ড সাইজের ছবি প্রিন্ট করে যথাযথ কতৃপক্ষ আপনার বাসায় বিনামূল্যে পাঠিয়ে দিবে!

ভালো থাকুন।

 

কানাডা মাইগ্রেশনের সুযোগ, প্রিপারেশন, প্রসেসিং । পর্ব ০১

পর্ব ০২ঃ কানাডায় সুযোগ সুবিধা?

পর্ব ০৩ঃ কানাডায় চাকুরী সমাচার?