ভদ্রলোকের নামটা খটমট, হাওয়ার্ড শুল্টজ্ (Howard Schultz), কিন্তু যখন জানবেন Starbucks Corporation নামক কোম্পানি যার ভ্যালু ৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি তার Chairman এবং CEO এই ভদ্রলোক তখন খটমট নামটা শুনতেও কেমন যেন ভাল লাগে। তার সাথে যোগ করেন ভদ্রলোকের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমান, প্রায় ২.বিলিয়ন ডলার, নোট করেন যে শুন্য থেকে শুরু করে তার কোম্পানিকে তিনি অ্যামেরিকার টপ ১০০ ব্রান্ডের একটাতে নিয়ে গেছেন মাত্র ৩০ বছরে; কি এইবার এই নামটার প্রেমে পড়ে গেলেন?

হাওয়ার্ড শুল্টজ্ এমন একজন এন্টারপ্রেনেয়র যিনি ১৯৮৬ সালে একটা সিঙ্গেল কফি শপ থেকে শুরু করে এখন ২০,০০০ আউটলেটের একটা জায়ান্ট কোম্পানি তৈরি করেছেন এক অবিশ্বাস্য গতিতে। কিন্তু শুনলে আশ্চর্য হবেন যে, ২০০৭ সালে এই কোম্পানি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল তার ভুলের খেসারত হিসেবে, আরও আশ্চর্যের ব্যাপার হলো সেই ভুল শোধরাতে গিয়ে শুল্টজ্ আরো বড় ভুল করে বসেন! ভুল এবং তার থেকেও বড় ভুল থেকে কিভাবে বেরিয়ে আসলেন হাওয়ার্ড শুল্টজ্ তা পৃথিবীর সকল এন্টারপ্রেনেয়রের জন্যে এক চমৎকার শিক্ষা হতে পারে।

 

হাওয়ার্ড শুল্টজ্ হাওয়ার্ড শুল্টজ্


শুল্টজ্ ছিলেন তার পরিবারের প্রথম কলেজে যাওয়া ব্যক্তি। ক্যারিয়ার শুরু করেন সেলস এন্ড মার্কেটিং এ, শেষ হয় Starbucks Coffee Company নামে এক কোম্পানির Director of Marketing হিসেবে যাদের ব্যবসা ছিল কফি বিন এবং চা পাতা বিক্রি করা। তারপর তিনি শুরু করেন 'Il Giornale' নামক কফি শপ। এর বছর দুয়েক পরে, শুল্টজ্ কিনে নেন Starbucks Coffee Company, নতুন করে নাম দেন Starbucks Corporation।

এরপরে যে গতিতে Starbucks Corporation এগিয়েছে তা এক কথায় অবিশ্বাস্য, ১৯৯২ সালের মধ্যে শুল্টজ্ ১৪০ টি ষ্টোর ওপেন করেন, কোম্পানির ভ্যালু দাঁড়ায় ২৭১ মিলিয়ন! ২০০০ সালে শুল্টজ্  CEO-র পদ ছেড়ে Chairman হিসেবে দায়িত্ব নেন, উদ্যেশ্য ছিল কোম্পানির অপারেশনাল কাজ-কম্ম থেকে দূরে তিনি যেন গ্রোথে ফোকাস করতে পারেন। এই দায়িত্বে তিনি অসম্ভব সফল; ২০০৭ এ এসে সারা পৃথিবীজুড়ে Starbucks এর আউটলেট দাঁড়ায় ১৩,০০০ এবং গ্রোথ রেট এমন ছিল যে গড়ে প্রতিদিন প্রায় দুটি করে আউটলেট ওপেন হচ্ছিল!

 

হাওয়ার্ড শুল্টজ্ হাওয়ার্ড শুল্টজ্


কিন্তু সমস্যা শুরু হলো ২০০৭ এ এসে। প্রথম সমস্যার ব্যাপারে কারো কিছু করার ছিল, গ্লোবাল ইকোনমিক রিসিশন Global Economic Recession। সারা পৃথিবী জুড়ে মন্দাভাব চলছিল এবং ব্যয়বহুল এক কাপ কফি লাক্সারি ছাড়া কিছু ছিল না। সাধারন মানুষ লোকাল ছোট উদ্যোগের পাশে Starbucks এর মত বিদেশী বড়লোক কোম্পানিকে ঠিক পছন্দ করতে পারছিল না। কিন্তু এর চেয়েও বড় সমস্যা ছিল Starbucks এর ভেতরেই।

Starbucks Corporation এর ব্যবসার যে ধরন তাতে CEO-র পদ ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন, মানুষজন কফি শপে শুধু কফি খেতে আসে না, তারা আসে একটা পরিবেশ এক্সপেরিয়েন্স করতে। অন্যান্য বড় বড় কোম্পানি হয়তো বাইরে থেকে CEO এনে সফলতা পেয়েছে কিন্তু Starbucks এর বিজনেস মডেলে CEO হলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তি যেটা শুল্টজ্ ছেড়ে দিয়েছিলেন অন্য জায়গায় ফোকাস করতে গিয়ে।

এই প্রতিকূল পরিবেশ থেকে বের হয়ে আসতে এরপর শুল্টজ্ যেটা করলেন সেটা ছিলো একদম-ই আত্মঘাতি। শুল্টজ্ সিদ্ধান্ত নিলেন খরচ কমানোর। আস্ত কফি বিনের পরিবর্তে সিদ্ধান্ত হলো গুঁড়ো কফি ব্যবহারের যেটা কফির ফ্রশনেস নষ্ট করে দিল, ব্রেকফাষ্টে স্যান্ডউইচ আনা হলো, প্রফিট মার্জিন হয়তো বাড়লো কিন্তু কফির গন্ধের পরিবর্তে চীজের গন্ধে পুরো শপ ভরে যেতে থাকলো।

 

হাওয়ার্ড শুল্টজ্ হাওয়ার্ড শুল্টজ্


এখানেই শেষ নয়, Starbucks এ কফির সাথে সাথে বিক্রি হতে থাকলো নন-কফি প্রোডাক্টস, সিডি, ডিভিডি, বই, ম্যাগাজিন! কোম্পানি হয়তো প্রফিট ঠিকই করতো কিন্তু ব্র্যান্ড আইডেনটিটি হারিয়ে ফেলার ফল জানতে বেশি সময় লাগলো না, কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে গেল ৪২ পার্সেন্ট, অনেক ষ্টোর বন্ধ হয়ে যেতে থাকলো। শুল্টজ্ পরে এটাকে ব্যাখ্যা করেছেন এক লাইনে, “Starbucks had begun to fail itself”।

এই সময় হাওয়ার্ড শুল্টজ্ তার ভুল বুঝতে পারলেন, মাথা ঠান্ডা করে বসলেন Starbucks Corporation কে আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। সেই গল্প লিখবো পরের পর্বে।

 

ব্যর্থতার গল্পসমগ্র - ষ্টিভেন স্পিলবার্গ

ব্যর্থতার গল্পসমগ্র - ল্যারি পেইজ - Co Founder of Google

ব্যর্থতার গল্পসমগ্র - স্টিফেন হকিং

ব্যর্থতার গল্প - বারাক ওবামা

ব্যর্থতার গল্পসমগ্র - ওয়ারেন বাফেট

ব্যর্থতার গল্পসমগ্র - মাইকেল জর্ডান

ব্যর্থতার গল্পসমগ্র - অপরাহ উইনফ্রে