এই গল্পটি হাওয়ার্ড শুল্টজ্ নামক একজন এন্টারপ্রেনয়রের, Starbucks Corporation নামক একটা কোম্পানির। শুন্য থেকে শুরু করে উড়তে থাকা, তারপর ধপাস করে পড়ে যাওয়া এবং পুনরায় যূদ্ধ।

আগের পর্বে লিখেছিলাম Starbucks Corporation কীভাবে সমস্যায় পড়লো। যার অন্যতম প্রধান কারন ছিল হাওয়ার্ড শুল্টজ্ –র CEO পদ ছেড়ে কোম্পানির গ্রোথে ফোকাস করা যেটা এই টাইপ কোম্পানির জন্যে ছিল আত্নঘাতি। কোম্পানির গ্রোথ হয়েছে অ্যাবনর্মাল কিন্তু বেসিকেই সমস্যা দেখা দিয়েছে।

২০০৮ সালের জানুয়ারিতে হাওয়ার্ড শুল্টজ্ তার CEO পদে ফেরত আসার সিদ্ধান্ত নেন এবং Starbucks Corporation বাঁচানোর যুদ্ধ শুরু করেন। এটা ছিল কোম্পানি ভ্যালু পরিবর্তনের ১৮০ ডিগ্রী যূদ্ধ। তার ভাষায়, “large numbers that once captivated me—40,000 stores!—are not what matter. The only number that matters is “one.” One cup. One customer. One partner. One experience at a time. We had to get back to what mattered most.”

 

হাওয়ার্ড শুল্টজ্ হাওয়ার্ড শুল্টজ্


এই যূদ্ধের শুরুটা ছিল দর্শনীয়, হাওয়ার্ড শুল্টজ্ একদিনে ৭,১০০ স্টোর বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন, কোম্পানির সেদিন লস হয়েছিল ৬ মিলিয়ন ডলার। এখানেই শেষ নয়, ম্যানেজারদেরকে জানানো হলো সেলস গ্রোথ ভুলে যেতে, শুধু কাস্টমার এক্সপেরিএন্সে ফোকাস করতে। ইনভেস্টর আর পাকনা মিডিয়ার সামনে কাজটা মোটেও সহজ ছিল না, কিন্তু শুল্টজ্ পাত্তা দিলেন না।

শুল্টজ্ ফোকাস করলেন সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে কাস্টমারদের কাছাকাছি যেতে। ফেসবুক-টুইটার পেজ নতুন করে সাজানো হলো, তার সাথে চালু করা হলো MyStarbucksIdea.com নামক সাইট যার মাধ্যমে যে কেউ তার আইডিয়া শেয়ার করতে পারবেন এবং অন্যের আইডিয়া ভোট করতে পারবেন। সেরা আইডিয়া গুলো কোম্পানি হাই অফিসিয়ালদের কাছে পাঠানো হতো প্রয়োগ করার জন্যে। 

হ্যারিকেন ক্যাটারিনা Starbucks Corporation-র জন্য শাপে বর হয়ে আসলো যখন শুল্টজ্ ৫০,০০০ ঘন্টা স্বেচ্ছাশ্রম ঘোষনা দিলেন নিউ অর্লিয়ন্স নতুন করে করার কাজে। এই কর্ম তৎপরতা Starbucks ভেতরকার পূনর্গঠনের রুপক হিসেবে কাজ করেছিল।

 

হাওয়ার্ড শুল্টজ্ হাওয়ার্ড শুল্টজ্


এই সকল চেষ্টার ফল আসতে শুরু করলো ২০০৯ এর শেষের দিকে যখন থার্ড কোয়ার্টারে ইনকাম গ্রোথ দেখা গেল। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ন ছিল, কাস্টমাররা আবার ফিরে আসতে শুরু করলো। প্রসেসটা সহজ ছিল না। খোদ USA তেই ৬০০-র উপরে স্টোর বন্ধ করতে হয়েছিল। শুল্টজ্ অপারেটিং কস্ট থেকে ৫৮০ মিলিয়ন ডলার সেভ করেছিলেন যেটা বিনিয়োগ করা হয়েছিল কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্সের উন্নতিতে। সোশাল মিডিয়ার কাস্টমার এনগেজমেন্টের চেষ্টাও সফল হচ্ছিল, তাদের ফেসবুক পেজ ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় পেজে পরিনত হয়েছিল।

 

হাওয়ার্ড শুল্টজ্ হাওয়ার্ড শুল্টজ্


হাওয়ার্ড শুল্টজ্ এমন একজন মানুষ যিনি ভুল থেকে শিক্ষা নেন। ১৯৯০ সালে তিনি Mazagran নামে কার্বোনেটেড কফি লঞ্চ করেছিলেন যা ছিল সম্পূর্ন ব্যর্থ ভেঞ্চার। মজার ব্যাপার হলো শুল্টজ্ এখনো তার ডেস্কে Mazagran এর একটা বোতল রাখেন যাতে তিনি ভুলে না যান “celebrate, learn from, and do not hide from mistakes.”

ব্যর্থতার গল্পসমগ্র - হাওয়ার্ড শুল্টজ্ (পর্ব -১)

 

ব্যর্থতার গল্পসমগ্র - ষ্টিভেন স্পিলবার্গ

ব্যর্থতার গল্পসমগ্র - ল্যারি পেইজ - Co Founder of Google

ব্যর্থতার গল্পসমগ্র - ষ্টিভেন স্পিলবার্গ

ব্যর্থতার গল্প - বারাক ওবামা

ব্যর্থতার গল্পসমগ্র - স্টিফেন হকিং

ব্যর্থতার গল্পসমগ্র - ওয়ারেন বাফেট

ব্যর্থতার গল্পসমগ্র - অপরাহ উইনফ্রে

ব্যর্থতার গল্পসমগ্র - জেফ বেযস

ব্যর্থতার গল্পসমগ্র - মাইকেল জর্ডান