১৯৬০-এর দশকের প্রথম দিকে, ৪৪-বছর-বয়সী স্যাম ওয়ালটন চুক্তিভিত্তিক সমস্যার জন্য তার প্রথম সফল স্টোর ছেড়ে যেতে বাধ্য হন এবং কয়েক বছর পর আয়ারকান্সের বেন্টনভিলে তাঁর প্রথম ডিপার্টমেন্ট স্টোর প্রতিষ্ঠা করেন। জুলাই ২, ১৯৬২ থেকে ওয়ালমার্ট বিশ্বের সবচেয়ে সফল বিক্রেতা হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং বর্তমানে তার দশ হাজারেরও বেশি দোকান রয়েছে যার বাজার মূল্য ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি (বর্তমানে অ্যামাজন থেকে দ্বিতীয়)। এগুলো সম্ভব হওয়ার পিছনে একমাত্র অবদান ছিল তার কঠোর পরিশ্রম ও নিজের নীতিতে অবিচল থাকা।


ওয়ালটন এর আত্মজীবনী 'স্যাম ওয়ালটনঃ “ মেইড ইন আমেরিকা”  থেকে আপনাদের জন্য শীর্ষ চারটি শিক্ষণীয় বিষয় তুলে ধরা হল:


 

১. ডলার মূল্য বুঝতে শুরু করুন

ওয়ালটন কখনও অতিবিলাসী জীবনধারায় বিশ্বাসী ছিলেন না বরং জীবনে ভারসাম্য রাখতে সক্ষম ছিলেন। তিনি দেখেছেন কিছুটা উপভোগ করার জন্য মানুষ কিভাবে তাদের কোম্পানি বিক্রি করে এবং পরবর্তীতে কতটা ভোগান্তির সম্মুখীন হন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে তার গ্রাহকদের সন্তুষ্ট করার জন্য তাকে অবশ্যই খরচ কমিয়ে ফেলতে হবে এবং টাকা খরচ করার ক্ষেত্রে আরো সচেতন হতে হবে।

তাই তিনি একটি নীতি তৈরি করেন, তিনি যে কয়টি পয়সা সংরক্ষণ করবেন সেগুলো তার গ্রাহকদের জন্য সংরক্ষন করবেন এবং এখান থেকে তিনি বিখ্যাত ওয়ালমার্ট নীতিমালা তৈরি করেন: "অর্থ সংরক্ষণ করুন ভালো ভাবে বাঁচুন"। ওয়ালটন তার পারিবারিক রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া করতেন, তার অফিসারদের সাথে ভ্রমণ করার সময় এক ঘরে ঘুমাতেন এবং তিনি তার সারা জীবনে যে ১৮ টি বিমান কিনেছেন তার কোনটিই নতুন ছিলো না।

 

“যখন ওয়ালমার্ট এক ডলার অসচেতনভাবে ব্যয় করে তখন এটি আমাদের গ্রাহকদের পকেট থেকে ব্যয় হয়। তাই যখন প্রতিটি সময় আমরা তাদের এক ডলার খরচ কম করিয়ে সঞ্চয় করার ব্যবস্থা করে দেই তখন তা আমাদের প্রতিযোগিতায় আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায় "- স্যাম ওয়ালটন

 

২. আপনার সাফলতা রক্ষা করুন এবং প্রতিটি ভুল থেকে শিখুন

আরকানসাসে পাঁচ বছরের কঠোর পরিশ্রমের পর, ওয়ালটন অবশেষে পুরো প্রতিযোগিতায় অগ্রগামী হন এবং সমগ্র অঞ্চলের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে লাভজনক স্টোরগুলো নির্মাণ করেন। দুর্ভাগ্যবশত, তিনি একটি ভুল চুক্তির জন্য সবকিছু হারিয়ে ফেলেন। তার বাড়িওয়ালা লোভের বশ্যবর্তি হয়ে ওয়ালটনের সব স্টোর তার ছেলেকে দিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, তাই তিনি যেকোনও মুল্যে তার ইজারার চুক্তি নবায়ন করতে অস্বীকার করেছিলেন। সত্যি বলতে, ওয়ালটনকে ফ্রাঞ্চাইজির জন্য যথাযথ মূল্য প্রদান করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো কিন্তু ওয়ালটন সেটা চায় নি তাই তিনি যে সমস্ত জিনিস সাফল্যের সাথে তৈরি করেছিলেন তা ত্যাগ করে চলে আসতে বাধ্য হন।


কিন্তু তিনি ইতিবাচক চিন্তাধারার কারনে এই ভুলের জন্য নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকেই দোষারপ করেন নি এবং প্রতিজ্ঞা করেন এই ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহন করার এবং ভবিষ্যতে যেকোন লিজ চুক্তি পড়ার সময় দ্বিগুণ সময় ব্যয় করতেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তার পরিবারের আইন কানুনে অভিজ্ঞ এমন কাউকে দরকার, যে তাদের সর্বোচ্চ স্বার্থকে ধরে রাখতে পারবে, তাই তিনি তার ছেলে রবকে আইনজীবী হওয়ার জন্য উত্সাহিত করতে থাকেন।

 

 

৩. ব্যবসা সম্পর্কে আপনি যত কিছু করতে পারবেন তার সবকিছু শিখে ফেলুন

ব্যবসা সম্পর্কে সবকিছু শিখতে আগ্রহী হন এবং আপনার চেয়ে ভাল জানেন এমন ব্যক্তিদের সাথে থেকে শেখার চেষ্টা চালিয়ে যান। ওয়াল-মার্ট স্টোরগুলি খুচরা শিল্পের ওপর বছরের পর বছর ধরে নিয়ন্ত্রণ ধরে আছে কিন্তু আপনি কি জানেন, ওয়ালটনকে এই ধরনের ব্যবসাতে উৎসাহ দিয়েছিলো কে? তার নাপিত। ওয়ালটন প্রথম তার নাপিত এবং ভাইয়ের কাছ থেকে খুচরা ব্যাবসা সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন।


ওয়ালটন তার বেশিরভাগ রবিবারই তার ম্যানেজারের বাড়িতে ব্যবসা শেখায় ব্যয় করতেন। এমনকি যখন তিনি জে.পি.এন.ই. ছেড়ে চলে আসেন এবং আরকানসাসে চলে যান, তখন তিনি অভিজ্ঞ কাউকে খুজছিলেন, যাতে তিনি ব্যাবসা শিখতে পারেন আর ব্যাবসা শেখার জন্য তিনি তার দুপুরের খাবারের বিরতি কাটাতেন প্রতিদ্বন্দ্বীদের দোকানে এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বীর যেসব কাজ পছন্দ হত তা অনুকরন করার চেস্টা করতেন।


"আপনার ব্যবসাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন এবং ব্যবসার প্রতি অন্য যে কারো থেকে বেশি বিশ্বাস রাখুন। "- স্যাম ওয়ালটন


৪. প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে

ওয়ালটনকে এক শব্দে ব্যাখ্যা করার জন্য সেরা শব্দটি হল তিনি "প্রতিযোগিতামূলক"। তিনি তার মায়ের কাছ থেকে এই শিক্ষা পেয়েছিলেন। তার মা তাকে শিক্ষা দিয়েছিলেন সব সময় জীবনকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করার এবং জীবনে যখন যা কিছু করার প্রয়োজন হবে তখন তাতেই সেরা হতে চেষ্টা করতে হবে। তিনি লাইফগার্ড হিসেবে কাজ করতেন এবং স্কুল শুরু হলেই ভাতা নেওয়া বন্ধ করে দিতেন। ওয়ালটন এতো প্রতিযোগিতামূলক ছিলেন যে তিনি একই সময়ে বেসবল, ফুটবল এবং বাস্কেটবল খেলতেন এবং দুটি ভিন্ন খেলায় রাষ্ট্রীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিলেন। না বললেই নয় ওয়ালটন অল্প বয়সেই  স্কাউটে খুব উচ্চ পর্যায়ে চলে গিয়েছিলেন এবং শহরের বাইবেল ক্লাসের সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছিলেন।

 

তার এই অভিজ্ঞতাগুলো ওয়ালটনের সাফল্যের প্রতি সচেতন থাকতে এবং দলবদ্ধ কাজের গুরুত্ব বোঝাতে সাহায্য করেছিল। তিনি জানতেন অহংবোধ দিয়ে তিনি একটি শক্তিশালী ব্যবসা গড়ে তুলতে পারবেন না, তাই তিনি তার দল সবচেয়ে প্রতিভাবান, সেরা এবং সর্বাধিক অনুগত ব্যক্তিদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন।

তথ্যসূত্র - এডিক্টেড টু সাক্সেস । 

 

ওয়ারেন বাফেট এর জীবন থেকে যে ৫টি শিক্ষা আপনি নিতে পারেন

ব্যর্থতার গল্পসমগ্র - রিচার্ড ব্র্যানসন

ব্যর্থতার গল্পসমগ্র - হাওয়ার্ড শুল্টজ্ (পর্ব -১)

ব্যর্থতার গল্পসমগ্র - স্টিভ জবস