আপনি হয়তো আইবিএ অ্যাডমিশন টেস্ট বা অন্য কোন অ্যাপটিচিউড টেস্টের জন্য প্রিপারেশন নেবার ডিসিশন নিলেন মাত্র। স্বভাবতঃই, আপনি প্রথমেই ছুটে যাবেন আপনার কোন ফ্রেন্ড অথবা পরিচিত কোন বড় ভাইয়ের কাছে যে কিনা ইতোমধ্যে কোন না কোন অ্যাপটিচিউড টেস্টে অলরেডি সফল হয়েছে। টেস্টের অন্য পার্টগুলোতে ভালো করার জন্য যা ই পরামর্শ দিক না কেন, ভোকাব্যুলারির ক্ষেত্রে সবার পরামর্শই হয় সাধারণত গৎবাঁধা। ব্যারন'স স্যাট থেকে ৩৫০০, ব্যারন'স জিআরই থেকে ৬৫০০, ওয়ার্ড স্মার্ট-১,২ ব্লাহ ব্লাহ। কি? পরিচিত মনে হচ্ছে না পরামর্শ গুলো? আরও  বিষফোঁড়া হবার ফিলিং হয় কখন জানেন? কোন ফ্রেন্ড কে জিজ্ঞেস করলেন,"দোস্ত, প্রিপারেশন কেমন?" দোস্ত আপনার বুক ফুলিয়ে দাঁত কেলিয়ে জবাব দিলো, " জিআরই'র ৬০০০ ওয়ার্ড ঝাড়া মুখস্থ করে ফ্যালাইছি!" আপনার যাও বা কনফিডেন্স ছিলো, দোস্তের জবাব শুনে ফুস!

 

এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে শেয়ার করি আপনাদের সাথে। আমি নিজে যখন আইবিএ তে অ্যাডমিশন টেস্ট দেবার সিদ্ধান্ত নিলাম, আমিও প্রথমে ছুটে গেলাম আমার একজন ফ্রেন্ডের কাছে, যে আগেরবার এক্সাম দিয়েছিলো (চান্স পায় নাই)। তার কাছেই জানতে পারলাম, সে এক্সাম দেবার আগে প্রায় ৫০০০ ওয়ার্ড মুখস্থ করেছিলো। শুনে তো আমার রীতিমতো ভিরমি খাবার দশা। নিজেকে আমি ভালোই চিনি। যে ছেলে শুধুমাত্র ঘুমানোর জন্য পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে একটা ইয়ার ড্রপ করে দিতে পারে, তার পক্ষে চার-পাঁচ হাজার ওয়ার্ড যে অন্তত মুখস্থ করা সম্ভব না তা সে নিজেও জানে।


যাই হোক, নিজেকে নিজেই যাচাই করলাম তারপর। ম্যাথস নিয়ে আমার কোন প্রবলেম ছিলো না কোনকালেই। অ্যানালাইটিক্যাল সেকশন টা একটু প্র্যাকটিস করলে যে কেউই পারবে। আমার জন্য বাকী থাকলো শুধু ইংরেজী সেকশন টা। এটুকু বুঝতে পারলাম যে এই ইংরেজী সেকশন টা তে যদি কোনমতে কোয়ালিফাইং মার্কস তুলতে পারি আমি, তাহলেই কেল্লা ফতে। এক ভাইয়ার কাছে মাসদুয়েক গ্রামার টা পড়লাম। খুব দ্রুতই আয়ত্বে চলে আসলো। বেকায়দায় পড়লাম এই ভোকাব্যুলারি নিয়ে। এটা কিছুতেই কন্ট্রোলে নিয়ে আসতে পারছিলাম না। এমনিতেই অনার্সের রেজাল্টের পরে সব মিলিয়ে আমার সামনে সময় ছিলো মাত্র ৫ মাসের মতো। ম্যাথস বাদে অন্য সব সেকশন মোটামুটি ২ মাসের মধ্যে কন্ট্রোলে চলে এলেও ভোকাব্যুলারিতে এসে ধরা খেয়ে যাচ্ছিলাম। আমার এটাও বুঝতে পারছিলাম যে ভোকাব্যুলারি সেকশনটা পুরোপুরি ছেড়ে দিলে ইংরেজীতে কোয়ালিফাইং মার্কস না পাবার সম্ভাবনা মোটামুটি ৯০%। সাইফুর'স এ সন্ধ্যার সলভ ক্লাস করতাম সপ্তাহে ২-৩ দিন (তখন সাইফুর'র ই আইবিএ'র জন্য সবথেকে নামকরা কোচিং ছিলো)। ওখানে যারা পরিচিত হয়ে গেছিলো তাদের কথা শুনলে গায়ে জ্বর চলে আসতো। সবাই ই মোটামুটি তিন থেকে পাঁচ হাজার ভোকাব্যুলারি মুখস্থ করে ফেলাইছে অলরেডি।

 

আমার অবস্থা দেখে পরিচিত একজন একটা বুদ্ধি দিলো। বললো, " ভাই, আমি আপনার অবস্থা বুঝতেছি। আপনি এতো ওয়ার্ড মুখস্থ করতে পারবেন না। আপনি হাজার খানেক ওয়ার্ড ভালোমতো মুখস্থ করে ফ্যালেন। আমার মনে হয় ওখান থেকেই বেশ কিছু কমন পেয়ে যাবেন।" সে আমাকে একটা বইয়ের সন্ধান ও দিয়ে দিলো। সাইফুর'স এমবিএ গাইড। ওই বইয়ের প্রথম দিকে "ভোকাব্যুলারি রিভিউ" বলে একটা পার্টে প্রায় শ' পাঁচেক শব্দের একটা লিস্ট ছিলো। তারপর ডিফিকাল্টি লেভেল অনুযায়ী লেভেল-১, লেভেল-২ আর লেভেল-৩ হেডিংয়ে আরও প্রায় ৫০০-৬০০ শব্দের তিনটি লিস্ট ছিলো। আমি খুব কষ্ট করে এই সবগুলো ওয়ার্ড মুখস্থ করে ফেললাম। প্রতিদিনের সিংহভাগ সময়ই ব্যয় করতাম এই ভোকাব্যুলারি গুলো আয়ত্ব করার পিছনে। শেষের দিকে এসে এই হাজার খানেক ওয়ার্ড এমনভাবে মুখস্থ করে ফেললাম আমি, এর মাঝে একটা আসলে ওই একটাই পারবো আমি। পরে এটাই আমার কাজে লেগেছিলো। আমার জীবনে এ পর্যন্ত পাঁচবার বিভিন্ন অ্যাপটিচিউড টেস্ট ফেইস করেছি আমি, সবগুলোতেই এই হাজারখানেক ওয়ার্ড থেকেই কমন পেয়েছি। আমার প্রথম পরীক্ষাটা ছিলো বিআইবিএম, সেখানে ১০ টা ভোকাব্যুলারি প্রশ্নের মধ্যে ৭ টা কমন পেয়েছিলাম এখান থেকে। এরপর আইবিএ তে ১০ টার মধ্যে ৫-৬ টা (প্রথমবার আইবিএ থেকে ভাইবাতে বাদ পড়ে গিয়েছিলাম)। পরের বারেও আইবিএ তে ৫-৬ টা ভোকাব্যুলারি কমন পেয়েছিলাম। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক, আমার জীবনে দেওয়া প্রথম চাকুরীর জন্য পরীক্ষা। এখানে কয়টা কমন পেয়েছিলাম এক্স্যাক্টলি মনে নেই। তবে এখানেও বেশ কয়েকটি কমন পেয়েছিলাম। এরপরে একটি প্রাইভেট ব্যাংকের পরীক্ষায় বসেছিলাম, যেটার ১০ টি ভোকাব্যুলারির সব কয়টিই আগে মুখস্থ করা সেই হাজার খানেক ওয়ার্ড থেকেই কমন পেয়েছিলাম।

 

পরে খেয়াল করে দেখলাম, যেসব পরিচিত মানুষেরা তখন বলেছিলো হাজার হাজার ভোকাব্যুলারি হজম করে ফেলাইছি, তারা কেউই ভালো কোন জায়গায় টিকে নাই। পরে একটা জিনিস খেয়াল করেছিলাম, যারা এরকম ৬-৭ হাজার করে ওয়ার্ড মুখস্থ করার চেষ্টা করে, তাদের আসলে কিছুই মুখস্থ হয় না। একটা ওয়ার্ডের অর্থ জিজ্ঞেস করবেন, পারবে না। খেয়াল করে দেখতাম, আমার পরিচিত যারা বলতো যে তারা ৪-৫ হাজার করে ভোকাব্যুলারি মুখস্থ করেছে তাদের থেকে আমি পরীক্ষার হলে বেশী কারেক্ট করে আসতাম, মাত্র হাজারখানেক মুখস্থ করেই।

সুতরাং, আপনাদের প্রতি আমার পরামর্শ হচ্ছে, এরকম হাজার হাজার ওয়ার্ড মুখস্থ করার চেষ্টা না করে অল্প কিছু হাই ফ্রিকুয়েন্সি ওয়ার্ড মুখস্থ করেন। এ পর্যন্ত আইবিএ অ্যাডমিশন টেস্টের ভোকাব্যুলারি পার্টে যেগুলো চলে এসেছে সেগুলোকে একসাথে করে ফেলতে পারেন। অথবা আমার মতো সাইফুর'র এমবিএ'র ওই পার্টটুকুকেই টার্গেট করতে পারেন। কি করবেন সেটা আসলে আপনার নিজেকেই ঠিক করতে হবে। তবে অ্যাপটিচিউড টেস্টের অন্য পার্টগুলোতে এমফেসাইজ না করে শুধু হাজার হাজার ভোকাব্যুলারি মুখস্থ করার পিছনে ছোটা কে আমার কাছে বোকামী ছাড়া কিছু মনে হয় না। ইদানীং তো নতুন এক বাকাওয়াজ শুরু হইছে বাজারে, mnemonic পদ্ধতিতে ভোকাব্যুলারি শিক্ষা! ভাই, এর পিছনে এতো সময় নষ্ট না করে বরং ম্যাথস শেখেন। যে ম্যাথস পারে, তাকে দুনিয়াতে কেউ আটকাতে পারবে না। কোন জায়গাতেই না।

 

যাই হোক, ফাইনালি আমার পরামর্শ হলো, হাজার হাজার ওয়ার্ডের পিছনে না দৌঁড়িয়ে অল্প কিছু সিলেক্টেড ভোকাব্যুলারি ভালো করে শেখেন। যতটুকু শিখবেন, সময় নিয়ে সেটাকে প্রতিদিন রিভিশন করতে হবে। একদিন না করলেই ভুলে যাবেন অনেকটা। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে, আপনি হাজার খানেক ভোকাব্যুলারি শিখলে সেটাকে আপনার প্রতিদিনই রিভিশন করতে হবে। নাহলে পরীক্ষার হলে সেটাকে এফিসিয়েন্টলি কাজে লাগাতে পারবেন না। অবশ্য, আমার ক্ষেত্রে প্রতিদিন রিভিশন করতে হইছে বলে ব্যপারটা এরকম ও না যে আপনার ক্ষেত্রেও করতে হবে। একেকজনের ব্রেইনের ক্যাপাসিটি একেক রকম। শুভকামনা রইলো।