একটি কঠিন বাস্তবতা হলো আমরা উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক যেখানে একটি চাকুরীর বিপরীতে হাজারটা আবেদন। আমরা যারা বাবা মায়ের কষ্টের উপার্জিত টাকা দিয়ে পড়াশুনা করি তাদের দিন শেষে চাকুরীই একমাত্র ভরসা। এমন অনেকেই আছেন যারা অনার্স কমপ্লিট করার সাথে সাথে চাকুরী পান না। এতে জুনিয়রদের কাছে লজ্জায় কথাই যেমন বলা যায় না তেমনি বাবা-মা, আত্বীয় স্বজন সবার কাছে মাথা হেঁট হয়ে যায়। হোন আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কোন নরমাল কলেজের ছাত্র। এই পর্যায়ে লজ্জাটা মেনে নিতে খুব লাগে।

 

আপনি হয়ত বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কলেজ লাইফে একটু উপভোগ করেছেন কিংবা পারিবারিক সমস্যার কারণে পড়তে পারেননি বা অন্য কোন বিষয়ে ব্যাস্ত থাকায় চাকুরীর প্রস্তুতিটা নিতে পারেন নি। তাই বলে কী এই রকম হতে হবে। তবে হ্যাঁ, এই লজ্জাটুকুই আপনার অনুপ্রেরণাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

 

আমাদের দেশের একটি চমৎকার বিষয় হলো স্বপ্নের চাকুরী পেতে আইনস্টাইন কিংবা অনেক জ্ঞানের অধিকারী হওয়া লাগেনা। শুধুমাত্র অংক ও ইংরেজিতে ভাল করতে পারলেই চাকুরী নিশ্চিত করা সম্ভব। পাশ্ববর্তী দেশ শ্রীলংকা কিংবা ভারতে চাকুরী পেতে যে পরিমান Quality Competition এর সম্মুখীন হতে হয় তার দশ ভাগের এক ভাগও আমাদের করা লাগেনা। আসলে আমরা অধিকাংশরাই জানিনা প্রস্তুতি কিভাবে নিতে হয়।

সঠিক গাইডলাইন এর অভাবে আমরা অনেক পিছিয়ে থাকি। এছাড়া, আমাদের অনেকেরই বেসিকে সমস্যা থাকায় পড়ার আগ্রহ থাকলেও তা বেশিদূর এগোয় না। সঠিক সাজেশন্স আর সঠিক পরামর্শক এর অভাবে এমনটি হয়। তাছাড়া ছোট বেলায় আমরা যে সকল শিক্ষকদের কাছে পড়ি তাদের অধিকাংশেরই বেসিক ধারণায় সমস্যা থাকার কারনে আমাদের ফাউন্ডেশনটা সেই ভাবে গড়ে ওঠেনা।

 

একটি চরম সত্যি হলো এই যে, যারা ভাল করতে চাচ্ছেন তাদেরকে অনেক খাটতে হবে। হয়তো আপনার পাশের বন্ধুটি আপনাকে দেখে হাসবে তাতে কি হয়েছে। এগিয়ে আপনাকে যেতেই হবে। কষ্টটা তখনই লাগবে যখন দেখবেন বন্ধুর চাকুরী হয়ে গেল অথচ আপনারটা হয় নাই। বন্ধুর সবই ভাল লাগে কিন্তু আগে চাকুরী পাওয়ার খবরটি নিজের বাবা মায়ের কাছে গেলে তখন সেটা খুব লাগে।

সবার জন্য শুভকামনা । 

-  Moazzem Hossain, Assistant Director, Bangladesh Bank, MBA, IBA, University of Dhaka