সে বাপু আপনার বিসিএস হোক আর ব্যাংকই হোক, একটা হ্যান্ডসাম মার্কস বরাদ্দ থাকে অনুবাদে। সেটা বাংলা থেকে ইংরেজি অথবা ইংরেজি থেকে বাংলা হতে পারে।আমরা অনেকেই এই অংশটাকে একটু এড়িয়ে চলতে চাই। একটু ভয়ও যে পাই না, তা জোর গলায় বলতে পারছি না।আসুন দেখি, এই লেখায় অনুবাদ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দেয়া যায় কি-না দেখি।

ভ্যাজর ভ্যাজর শুরু করার আগেই একটা উদাহরণ টেনে আনি।এটি অগ্রণী ব্যাংকের কোন এক পরীক্ষায় এসেছিল। লেখার এবং বোঝার সুবিধার্থে নাম্বারিং করে লিখলাম। আমার স্বল্পজ্ঞানে যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করেছি।

 

উদাহরণঃ
(1)During the 7th Five-year Plan’s implementation period, Bangladesh is expected to be in a better position to leverage its demographic dividend what is now on the decline in India and negative in China.

(2)Apart from job creation and poverty reduction measures, the new plan focuses on a long term and sustainable growth, infrastructural development and spurring private investment, crop diversification, identifying informal sectors, technical education, export diversification and planned urbanization.

(3)It is believed that Bangladesh will be able to reduce poverty more quickly even with a moderate growth rate, and that inequalities will come down if GDP expands qualitatively.

 

প্রাসঙ্গিক কিছু কথাঃ
#১। আসলে অনুবাদ কেমন হওয়া উচিত- এই প্রশ্নের ‘Black and white’ মানে সাদা-কালো, মানে, আক্ষরিক হবে নাকি ভাবানুবাদ হবে- তার কোন জবাব নাই। তবে এটুকু বলা যায়, কোন আইনগ্রন্থের অনুবাদ হলে সেটা যথাসম্ভব আক্ষরিক এবং Concept বা Idiology হলে আক্ষরিক অনুবাদ না করে ভাবানুবাদ করাই যুক্তিসংগত।

#২। মূল টেক্সটে নির্দিষ্ট একটি শব্দ বা বাক্য দিয়ে যা বোঝানো হয়েছে, তা তুলে আনতে গিয়ে যদি প্রচলিত শব্দের চেয়েও একটু দূরবর্তী অর্থের কোন শব্দ দিয়ে ওই সেন্সটা ক্লিয়ার করার প্রয়োজন পড়ে, তাহলে সেটাই করতে হবে।এইক্ষেত্রে অনুবাদ যত বিশ্বস্ত এবং আক্ষরিক হবে সেটা ততটাই কৃত্রিম হয়ে উঠবে। তাই সাবলীল অনুবাদ হতে হলে সেটা ভাবানুবাদ হওয়াই উচিত।

#৩। আপনাকে যথাসম্ভব সতর্ক থাকতে হবে যেন অনুবাদটা কৃত্রিম না হয়ে যায়। তারমানে অনুবাদটা এমনভাবে করতে হবে, যাতে মূল উৎস সম্পর্কে অবহিত না থাকলেও পড়তে গিয়ে মনের মধ্যে যেন এটা অনুভূত না হয় যে, এটা একটা অনুবাদ।

#৪। মনে করুন, ইংরেজিতে আড়াই লাইনের একটা রাবার চরিত্রের বাক্যকে বাংলা অনুবাদেও আড়াই লাইনের একটা বাক্য করা হলো। তাতে জিনিসটা সহজং অনুবাদ না হয়ে তো জটিলং অনুবাদ হয়ে গেল।

#৫। একটা বাক্যকে অনুবাদের সময় ভেঙ্গে কয়টা বাক্য বানানো হচ্ছে, তাও একটা বিষয়। যে বাক্যগুলো অনেক লম্বা, অনেকগুলো বাক্যাংশ (clause) নিয়ে গঠিত হয়, সেগুলোকে ইংরেজি থেকে হুবহু অনুবাদ করতে গেলে সাধারণত জিনিসটা ততটা স্পষ্ট ও গতিশীল হয় না। সেক্ষেত্রে এটিকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে পুনঃউপস্থাপন (reproduction) করাই better।

#৬। একটা শব্দের মূল্য হচ্ছে শব্দটা কি অর্থ প্রকাশ করছে, তারমধ্যে। তাই অনুবাদে আরোপিত অর্থ যাতে না ঘটে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

#৭। প্রত্যেকটা ভাষাতেই বাগধারার প্রচলন (idiomatic expression) আছে। বাগধারায় যে শব্দগুলো ব্যবহার করা হয় সেগুলোর পৃথক পৃথক শাব্দিক অর্থের বাইরে ভিন্ন কোনো সমন্বিত অর্থেই উক্ত শব্দসমষ্টিকে ব্যবহার করা হয়। যেমন ‘pull up your socks’(মানে ‘তোমার আচরণ সংশোধন কর’) একটি বাগধারা। এখন যদি অনুবাদ করেন ‘তোমার মোজা টেনে ধর’, তাহলে কিন্তু গলায় দড়ি দিতে হবে।

#৮। সর্বোপরি, অনুবাদ করাটা বড় কথা নয়; অনুবাদটি কতোটা সহজবোধ্য হলো- সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

 

এবার উদাহরণটিকে অনুবাদ করি-
ক. আক্ষরিক অনুবাদঃ
(১)৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার বাস্তবায়নের সময়, আশা করা হয় যে, জনসংখ্যা লভ্যাংশের উৎকর্ষ সাধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি ভাল অবস্থানে থাকবে, যেখানে ভারতে পতনের এবং চীনে নেতিবাচক বিষয়।

(২)চাকরি সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচন কর্ম ছাড়াও নতুন পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রাইভেট বিনিয়োগে প্রসার, ফসল বৈচিত্রতা, অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ, প্রযুক্তিগত শিক্ষা, রপ্তানি বৈচিত্রতা এবং পরিকল্পিত নগরায়ন এর উপর গুরুত্ব দেয়।

(৩)এটা বিশ্বাস করা হয় যে, বাংলাদেশ দ্রুত দারিদ্র হ্রাস করতে সক্ষম হবে মধ্যপন্থী বৃদ্ধির হার থাকলেও, এবং অসাম্য হ্রাস পাবে যদি জিডিপি গুণগতভাবে বৃদ্ধি পায়।

 

খ. ভাবানুবাদ এবং সহজীকরণঃ
(১)(ক)৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার বাস্তবায়নের সময়, আশা করা হয় যে, ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ এর উৎকর্ষ সাধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি ভাল অবস্থানে থাকবে। (১)(খ)যেখানে উক্ত ক্ষেত্রে ভারত ব্যর্থ এবং চীন নিম্নমূখী। (২)(ক)চাকরির সুযোগ সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচন কর্ম ছাড়াও এই নব্য পরিকল্পনা বিভিন্ন বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করে। (২)(খ)যেমন- দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ব্যক্তি মালিকানাধীন বিনিয়োগে প্রসার, শষ্য বৈচিত্রায়ন, অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিতকরণ, কারিগরী শিক্ষা, রপ্তানি বৈচিত্রায়ন এবং পরিকল্পিত নগরায়ন।(৩)এটা বিশ্বাস করা হয় যে, প্রবৃদ্ধির হার মধ্যমমানের হলেও, বাংলাদেশ দ্রুত দারিদ্র হ্রাস করতে সক্ষম হবে এবং এই অসাম্য হ্রাস পাবে যদি জিডিপি গুণগতভাবে বৃদ্ধি পায়।

 

ব্যাখ্যাঃ
#১। আক্ষরিক অনুবাদটার ক্ষেত্রে বলার কিছুই নাই। নিজেই দেখুন, যেন জোর করে শব্দের মানে বের করা হয়েছে।
#২। ২য় ক্ষেত্রে, ১ম বাক্যটাকে ২টা, ২য় বাক্যটাকে ২টা করে বাক্যে বিন্যস্ত করা হয়েছে।
#৩। ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কারণ, এর বাংলাটা ইংরেজির থেকে কঠিন। ঠিক যেমন Chair এর বাংলা ‘আরাম কেদারা’। 
#৪। ২য় বাক্যটার ক্ষেত্রে, ১ম অংশকে ‘প্রধান’ রেখে ২য় বাক্য((২)(খ))টাকে উদাহরণ হিসেবে Reproduction করেছি।
#৫। পুরো Passageটিতে শব্দচয়ন এবং বাক্য বিন্যাসকে একটু সাজিয়ে নিয়েছি; কিছু অপ্রয়োজনীয় শব্দকে প্রয়োজনীয় স্থানে বসিয়েছি যাতে অনুবাদ থেকে জমাটবদ্ধ আবহাওয়া এবং কৃত্রিমতাটা দুর হয়ে যায়।

এবার, আপনি নিজে কয়েকটা অনুবাদ ট্রাই করুন। সত্যি বলছি দাদা, হয়ে যাবে এবং হতে বাধ্য।