অনেকেই আগামীকালের এমবিএ (আইবিএ) অ্যাডমিশন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আইবিএ'র ব্যাপারে শুনেছেন কিন্তু আইবিএ তে পড়ার স্বপ্ন মনে লালন করেন না এরকম মানুষ হয়তো খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে।

 

অনেকের হয়তো কালকে এক্সাম হলে যাচ্ছেন ভালো প্রস্তুতি নিয়ে , অনেকে আবার যাচ্ছেন "এক্সাম দিয়ে দেখি। হইলে হবে, না হইলে না হবে" টাইপ চিন্তা ভাবনা নিয়ে। অনেকেরই রয়েছে দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, অনেকেই আবার পরীক্ষা দিতে যাচ্ছেন কোন প্রস্তুতি না দিয়ে। কালকের পরীক্ষায় সফলতা অর্জনের জন্য অনেকের পুঁজি হবে দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায়, অনেকেই আবার উৎরে যাবেন অস্বাভাবিক মেধার জোরে।

যার যেটাই থাকুক না কেন, আগামীকালের পরীক্ষায় সফলতা পেতে চাইলে কিন্তু আপনার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, আপনার মেধার থেকেও বড় একটি বড় গুণ থাকতে হবে আপনার। সেটি হচ্ছে লিখিত পরীক্ষার ওই দেড় ঘন্টা সময় কত এফিসিয়েন্টলি ম্যানেজ করতে পারবেন আপনি। এই সময়টাকে যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারেন আপনি, তাহলে আপনার সেই দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম বা অস্বাভাবিক মেধা কোনটাই কাজে আসবেনা।

 

প্রশ্ন হলো, কিভাবে এফিসিয়েন্টলি ব্যবহার করবেন আপনি ওই মূল্যবান দেড় ঘন্টা সময়?

আমার নিজের এক্সপেরিয়েন্স থেকে কিছু আইডিয়া শেয়ার করিঃ

১। পরীক্ষার প্রশ্নের নম্বর বন্টন এরকমঃ ইংরেজী-৩০, গণিত-৩০, অ্যানালাইটিক্যাল অ্যাবিলিটি-১৫, লিখিত-২৫। আপনার টার্গেট হচ্ছে আইবিএ তে টেকা। ১০০ মার্কের মধ্যে ১০০ মার্ক ই পাওয়া না। বলা হয়ে থাকে, আইবিএ'র যে শিক্ষক প্রশ্ন করেছেন উনি নিজে পরীক্ষা দিলেও ১০০ তে ১০০ পাবেন না। আর, এই পরীক্ষায় কে ফার্স্ট হয়েছে আর কে লাস্ট হয়েছে সে খবর কেউ রাখেনা। যারা শেষমেশ ভর্তি হতে সক্ষম হবেন, তারাও কখনও জানতে পারবেনা যে ব্যাচে যারা ভর্তি হয়েছে তাদের মধ্যে কে ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে আর কে শেষ! সুতরাং, আপনার টার্গেট হবে ভর্তি পরীক্ষায় সিলেক্টেড হওয়া, প্রথম হওয়া না।

 

২। সবাইই মোটামুটি জানেন, আইবিএ তে টিকতে হলে ইংরেজী এবং গণিত অংশে ভালো করার কোন বিকল্প নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, এই ভালো করার সংজ্ঞা কি? ভালো করা মানে কি ৩০ এ ৩০ পাওয়া? মোটেই না। ভালো করা মানে হচ্ছে এমন একটি মার্ক সিকিউর করা যেন আপনি বাদ না পড়ে যান। সে মার্ক আসলে কতো? সাধারণত ধরে নেওয়ায় হয় যে, ইংরেজি ও গণিত অংশে ২০ করে এবং অ্যানালাইটিক্যাল অংশে ৮ পেলে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন। তার মানে আপনি ইংরেজী ও গণিত সেকশনে ১০ টি আর অ্যানালাইটিক্যাল সেকশনে ৭ টি প্রশ্ন ছেড়ে দিয়ে আসলেও 
এক্সামের পরে অক্ষেপ করার কোন কারণ নেই।

 

৩। ৭৫ টি এমসিকিউ প্রশ্নের সবগুলোর ডিফিকাল্টি লেভেল কিন্তু সেইম না। সাধারণত দেখা যায় গণিত অংশে ৮-১০ টি সহজ প্রশ্ন থাকে যেগুলোর উত্তর আপনি আলমোস্ট মুখে মুখেই বের করে ফেলতে পারবেন, ১০-১২ টি প্রশ্ন থাকে মিডিয়াম লেভেলের যার উত্তর বের করার জন্য আপনার প্রশ্ন প্রতি ৪০ সেকেন্ডের বেশী সময়ের প্রয়োজন হবেনা। বাকী থাকে ৮ টির মতো প্রশ্ন, যেগুলো করতে সবারই একটু বেগ পেতে হয়। দরকার আছে কি এই ৮ টার উত্তর দেবার? বাকী ২২ টার মধ্য থেকে ২০ টা পারলেই তো আপনার টার্গেট পূরণ হয়ে গেলো!
ইংরেজী সেকশনে এরকম আলাদা আলাদা ডিফিকাল্টি লেভেল পাওয়া যায়না। তবে এক্ষেত্রে রিডিং কম্প্রিহেনশন করতে সময় বেশী লাগে বলে সেটা এক্সামের প্রথম ভাগে স্কিপ করাই শ্রেয়। অ্যানালাইটিক্যাল সেকশনে দীর্ঘদিন ধরেই ২ টি করে পাজল আসে। একটি তুলনামূলকভাবে কঠিন, একটি সোজা। আপনি স্কিমিং করে বুঝে নিন কোনটি সোজা। সোজা পাজলটি সহ এই সেকশন থেকে সর্বমোট ৭-৮ টি প্রশ্নের উত্তর দিন। এভাবে ইংরেজী, গণিত আর অ্যানালাইটিক্যাল সেকশন কমপ্লিট করার পরে যদি দেখেন যথেষ্ট সময় হাতে আছে, তাহলে যে সেকশনে আপনার এফিসিয়েন্সি বেটার বলে আপনি মনে করেন সে সেকশন থেকে শুরু করুন। আপনি ইংরেজীতে ভালো হলে রিডিং কম্প্রিহেনশন করে ফেলুন, গণিতে এক্সপার্ট হলে ছেড়ে আসা ১০ টি প্রবলেম করতে পারেন। এগুলোও শেষ করতে পারলে অ্যানালাইটিক্যাল সেকশনের ছেড়ে আসা পাজল টা করে ফেলুন।

 

৪। মনে রাখবেন, যেকোন অ্যাপটিচিউড টেস্টে আপনার মূল বাধা সময়। আপনাকেই ডিসিশন নিতে হবে আপনি একটা ডিফিকাল্ট প্রশ্নের পিছনে মাথার চুল ছিঁড়ে ৭-৮ মিনিট নষ্ট করে ফেলবেন, নাকি এই সময়ে সহজ সহজ ৫ টি প্রশ্নের উত্তর দেবেন। দিনশেষে কিন্তু একটাই সত্য, সব প্রশ্নের মান সমান। সুতরাং একটা কঠিন প্রশ্নের পিছনে ৭-৮ মিনিট নষ্ট না করে এই সময়ে ৫ টা প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটাই আপনার জন্য ভালো।

 

৫। একটা কথা লিখে রাখেন, ইগোয়িস্টিক মেধাবীরা কিন্তু সাধারণত আইবিএ তে প্রথমবারে ধরা খায়। পরীক্ষা দিতে বসে তাদের মাথার মধ্যে এই বিষয়টি কাজ করে, "শালা, আমি পারতেছিনা এইডা সলভ করতে! তোরে আইজ খাইছি।" হয়তো সে কিছুক্ষণ ধরে চেষ্টা করলে সফল হবে সেই কঠিন প্রশ্নটাকে সলভ করতে। কিন্তু এই চেষ্টা করতে গিয়ে সে জীবনের খুব বড় একটা ভুল করে ফেলেছে। এই সময়ে সে হয়তো ১০ টা সহজ প্রশ্ন সলভ করতে পারতো। সুতরাং পরীক্ষার হলে ইগোকে প্রশ্রয় দেবেন না। ভর্তি হতে না পারলে দেখবেন যাদেরকে কখনও পাত্তাও দেননি তাদের অনেকেই টিকে গেছে, আপনি পারেন নি। অথচ তারাও স্বীকার করে যে যে আপনি তাদের থেকে বেটার!

 

৬। সবশেষে একটা কথা বলি, আইবিএ অ্যাডমিশন টেস্টে সবথেকে বড় এফিসিয়েন্সি কি জানেন? আপনি কতো এফিসিয়েন্টলি একটা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন সেটা? না। আপনি কতো এফিসিয়েন্টলি একটা প্রশ্ন ছাড়তে পারছেন সেটা! কারণ, একটা কঠিন প্রশ্ন ছাড়তে পারার এফিসিয়েন্সির মধ্যেই লুকিয়ে আছে আর একটা সহজ প্রশ্ন সলভ করতে পারার ক্ষমতা।

অসাধারণ মেধাবী না হয়ে শুধুমাত্র স্ট্র্যাটেজিস্ট গড়পড়তা স্টুডেন্ট হলেও আইবিএ তে টেকা যায়।

পরীক্ষার্থী সব ভাইবোনদের জন্য রইলো একরাশ শুভকামনা

 

 

ম্যাথসে ভালো করার উপায়

ম্যাথসে ভালো করার উপায়-২ (বাকী অংশ)

কি পড়তে হবে?? কতটুকু পড়তে হবে???

English and Math Preparation