আর মাত্র কয়েকদির পরেই শুরু হতে যাচ্ছে ৩৮ তম বিসিএস এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা । প্রিলিমিনারি আমার কাছে টি -টোয়েন্টির খেলার মত । টি টোয়েন্টি যেমন অল্প সময়ের খেলা হলেও এর জন্য মানসিক, শারীরিক, কৌশলগত, সময় উপযোগী বিভিন্ন প্রস্তুতি এবং সিদ্ধান্ত   গ্রহণ করতে হয় তেমনি বিসিএস / বিজেএস বা যেকোন প্রিলিমিনিারি পরীক্ষায় অল্প সময়ের পরীক্ষার জন্য লংটার্ম  মানসিক, শারীরিক, কৌশলগত, সময় উপযোগী বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়।  আপনি কৌশলী না হলে প্রিলি থেকে বাদ পড়বেন এটা নিশ্চিত। 

 

প্রিলিতে ৩০ -  ৪০ জনে একজনকে পাশ করানো হয়। বাট রিটেনে ২ - ৪  জনের একজনকে এবং ভাইভাতে ২-৩ জনের একজনকে পাশ করানো হয়।  সো এই সংখ্যার হিসেবে প্রিলি পাশ করাটাই আসল চ্যালেঞ্জিং।  বিসিএস প্রিলির জন্য সামনে যে কয়দিন সময় আছে তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে আপনি প্রিলিতে পাশ করবেন হেসে খেলে ।  এজন্য আমার কিছু পরামর্শ -

 

১) ইতিবাচক চিন্তা করুন - 

আপনি নিজেকে দুর্বল ভাববেন না। সবসময় ভাববেন আপনার প্রস্তুতির অবস্থা যেমন নড়বড়ে অন্যদের প্রস্তুতি ও তেমন নড়বড়ে। আপনি যেমন নানাবিধ কার্যক্রমে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন তেমনি অন্যরাও আপনার মতই নিজেকে নানাবিধ কার্যক্রমে ব্যস্ত রাখে। কারণ সে ও মানুষ, আপনি ও মানুষ । ইতিবাচক চিন্তা করুন সবসময়। নেতিবাচক কথা কেউ বললে সিস্টেমে তার আশপাশ থেকে কেটে পড়ুন। 

সো নিজে যে পজিশনে আছেন, যতটুকু পড়াশোনা করেছেন সেটাকেই সম্বল করে সামনে এগিয়ে যান। আর যদি আপনার ভাবনায় থাকে যে,  এই ৩৮ তম প্রিলিতে আপনি টিকবেন না। তবে আপনি পরীক্ষা কেন্দ্রের দিকে যাবেন না ( বাবার টাকা এবং আপনার মূল্যবান সময় অপচয়  করার দরকার নাই)  । 

 

২) রিভিশন , রিভিশন এবং রিভিশন -

বাকী সময়টুকু রিভিশন এর উপরে থাকুন । নতুন করে বেশি কিছু শিখতে চেষ্টা করবেন না । পুরাতন যা কিছু জানা আছে সেগুলো একবার করে চোখ বুলান । যে সব টপিক বা সাবজেক্ট আপনার কাছে অনেক জটিল মনে হয় সেগুলোর কথা ভুলে যান। আমি জানি , গণিতে এমন কিছু টপিক আছে যেগুলো থেকে প্রশ্ন আসবেই যেমন - বিন্যাস, সমাবেশ, সম্ভাব্যতা  ইত্যাদি।  বাট এগুলো অনেকের জন্য বেশ জটিল । আপনি নতুন করে এগুলো আর এখন শিখতে যাবেন না। তাহলে আপনার অনেক সময় নষ্ট হবে। আপনি বরং এই সময়টা রিভিশনের ওপর থাকুন যাতে আপনি জানা জিনিস পরীক্ষায় পারেন নাই বলে নিজের মাথার চুল ছেড়া না লাগে। 

 

৩) সময়টুকু কাজে লাগান ;

যে কয়টা দিন সময় আছে বিসিএস প্রিলিতে টেকার জন্য এই সময়টাই মোর দ্যান এনাফ । আপনি পুরো সময়টা স্টাডি নিয়ে থাকুন। বারান্দায় যখন হাটাহাটি করবেন যখন খাবেন বা ব্রাশ করবেন সবসময় একটু আগে যা পড়েছিলেন তা রিমেম্বার করার চেষ্ট করুন । Always make ur brain busy with storming . আপনি সময়ের সবোর্চ্চ ব্যবহার করুন। আশেপাশের কাওকে নিয়োগ করুন যাতে  সে  আপনার খাওয়ার সময়ে আপনারে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে পারে। গ্রুপ স্টাডি করতে পারলে তো কথাই নেই। বাট গ্রুপ স্টাডি যেন গ্রুপ গসিপিং বা গ্রুপ প্রেমের আড্ডাখানা না হয়। 

 

৪) সহজ বিষয়গুলো আত্মস্থ করুন:

সহজ সহজ টপিক গুলোই আগে রিভিশন দিয়ে দিয়ে শেষ করুন এতে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে । নতুন এবং জটিল বিষয়গুলো বাদ দিয়ে সহজ বিষয়গুলোর রিভিশন দিন এবং কত নাং এর প্রস্তুতি আপনার হয়েছে সেটার একটা ক্যালকুলেশন করুন। 

 

৫) এনার্জি জমিয়ে রাখুন ..

দুই এক মার্ক কাভারেজ দেওয়ার জন্য অনেক বেশি সময় নষ্ট করাটা ঠিক হবে না। টি টোয়েন্টিতে যেমন রিক্স নিয়ে দৌড়ায়ে এক দুই রান নিতে গিয়ে , রান আউট হওয়ার রিক্স নিয়ে বেশি এনার্জি  নষ্ট না করে চার-ছয় এর দিকে ভালো করে মনোযোগ দিতে হয় ঠিক তেমনি প্রিলিতে কষ্টসাধ্য দুই এক মার্কের দিকে নজর কম দিয়ে আগে যেসব বিষয়গুলো সহজ সেগুলো কভার করুন। 

 

৬) প্রতিদিন সবগুলো ম্যাটারিয়ালস টাচ করুন -

কিছুদিন আগে বলেছিলাম - আপনার বিসিএস রিলেটেড যত বই - খাতা - ম্যাপ - নিউজ পেপার - আর্টিকেল - ম্যাগাজিন - হ্যান্ডনোট যা কিছু আছে তার একটা লিস্ট করতে । এই লিস্টে হয়ত দেখা যাবে ৫০ - ৬০ টা ম্যাটারিয়াল হয়েছে । সেগুলাতে প্রতিদিন টাচ করেন । প্রত্যেকটাতে টাচ করবেন । কোনটার জন্য ২ মিনিট , কোনটার জন্য ২০ মিনিট এভাবে । প্রতিদিন ম্যাপ দেখবেন - গুগল ম্যাপ / বড় যে কোন ওয়াল ম্যাপ । 

 

 

৭) মডেল টেস্ট ৫০ টা প্রশ্ন -

প্রতিদিন ৫০ টা করে প্রশ্নের মডেল টেস্ট দিন। এবং সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিন । এবং পরে হিসাব করে দেখেন কাটাকাটি করে কত থাকে । আপনি ৬০ % এর সঠিক উত্তর দিতে পারলে টিকবেন বলে আশা করা যায় । বাসায় মডেল টেস্ট দেওয়ার সময় মাইনাস মার্কিং নিয়ে ভাববেন না। 

 

৮ ) জোর করে কোন সাবজেক্ট পড়বেন না -

যখনই কোন বই পড়তে ভালো লাগবে না তখনই সেই বই / সাবজেক্ট বাদ দিয়ে অন্য বই পড়বেন । কিন্তু অমনোযোগীতার সাথে এক মিনিট ও পড়াশুনা করবেন না। আপনার সামনে বই খোলা আর কানে হেডফোন আর চোখ টিভির দিকে বিপিএল ম্যাচে থাকবে তাহলে আপনার ব্রেণ কেমনে পড়াশুনা মনে রাখবে বলেন । সো এবারের বিপিএল সহ আরো যা আছে তা বাদ  দিয়ে দিন না । হেডফোন নামক জিনিসটার কথা ভুলেই যান আমার মত । এই জিনিসটা ছাড়া তো আমি দিব্যি আছি । গান / নাটক / মুভি টুকটাক যা দেখবেন / শুনবেন হেডফোন ছাড়াই শুনেন । এটা স্মৃতিশক্তির মারাত্মক ক্ষতি করে । 

 

৯) ভোরে পড়ুন বাকি কয়েকটা দিন

আগামী কয়টা দিন Early to bed and Early to rise অভ্যাসটা করেই দেখুন না। ভোরবেলার এক ঘন্টার পড়া সারাদিনের দশঘন্টার চেয়ে উত্তম মনে হয় আমার কাছে। 

 

১০) জাহাজের খবর নিবেন না। -

৩৬ তম বিসিএস এ সুপারিশপ্রাপ্তদের মেডিকেল হয়েছে কিনা ? কবে গেজেট হবে ? ৩৭ এর ভাইভা কেমন চলছে ? কি কি প্রশ্ন ভাইভাতে কমন পড়তেছে ?? 

ভাইভায় ‍কি  ড্রেস পড়ে যেতে হবে ?

- এই ধরনের বর্তমানের অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। নিজে এখন স্বার্থপর হন কয়েকটা দিন । পড়াশুনার বাইরের অন্য কাজগুলো অন্যদের দিয়ে করানোর চেষ্টা করুন। 

 

১১ ) সৃষ্টিকর্তার কাছে চান -

সবকথার মুলকথা ভাগ্য লাগবে প্রিলিতে টিকতে আর সেটার মালিক সৃর্ষ্টিকর্তা । সুতরাং তার কাছে চান । এত বিশাল সংখ্যাক প্রতিযোগীকে দেখে মোটেও ঘাবড়াবেন না। এবং ঠিক কতজন প্রিলি দিচ্ছে এই প্রশ্ন কিন্তু পরীক্ষায় আসবে না । সুতরাং এই রকম আজাইরা তথ্য জানতে গিয়ে ব্রেনের সেল বন্ধ করে রাখবেন না।