২৯ ডিসেম্বর ৩৮ তম বিসিএস এ প্রিলিমিনারি পরীক্ষা । 


একবারে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি চলছে জোরশে।  সবাই টান টান উত্তেজনার মধ্যে প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য আপ্রাণ পরিশ্রম করছে। এ মুহুর্তে স্বজনদের পক্ষ থেকে সঠিক গাইড লাইন, মোটভিশেন এবং দোয়া অনেক বেশি প্রাপ্তি । তবে অনেক স্বজন না বুঝে বরং মেন্টাল প্রেশার তৈরি করে দেন। 

 

৩৮ তম বিবিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার্থী দের স্এবজন হিসেবে শেষ  মুহুর্তে আমার কিছু পরামর্শ - 

১। টেনশন করা যাবে না । যা পড়েছেন তাতেই নিজেকে নির্ভার ভাবুন । প্রশ্ন বেশিরভাগ আসবে আপনার আই্ কিউ টেস্ট করতে সো মুখস্ত বিদ্যার চাইতে বেশি কাজে লাগবে আপনার ইনস্টান্ট ডিশিসন মেকিং পাওযার এন্ড কুইক ইনটেলিজেন্স । আপনি যে বাক্যটি পড়েছেন ঠিক সেই বাক্যাটর আশেপাশেই প্রশ্ন হবে। কিন্তু উত্তর টা দিতে হবে বুদ্ধি খাটিয়ে । কারণ ডিরেক্ট সেই প্রশ্নটা কোন বইতে নেিই্ ।  অন্যদেরকে পাত্তা দিবেন না । এবং কতজন পরীক্ষা দিচ্ছে , এত বিশাল সংখ্যক পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে এই বিষয়টা মাথাতেই রাখবেন না। আল্লাহর রহমতের আশা করবেন । 

 

২। পারলে আশেপাশে ঘুরে আসুন । ১- ২ ঘন্টার জন্য । ব্রেন এর রিলাক্সেশন এর জন্য । ব্রেণে মোটেও চাপ দিয়ে নিজেকে অসুস্থ বানাবেন না। পর্যপ্ত ঘুমান।পরিমিত  খাওয়া দাওয়া করুন।জ্বর / ঠান্ডা লেগে গেলে কিন্তু সব শেষ । খবরদার অসুস্থ হওয়া যাবে না। আর অসুস্থ হয়ে পড়লে টেনশন না করে নিজেকে পড়াশুনা থেকে পুরােই মুক্তি দিয়ে রিলাক্সড মোড নিয়ে আসবেন । 


 
৩। অনলি রিভিশন এন্ড রিভিশন । নতুন কোন টপিকস পড়বেন না শুধু সাধারণ জ্ঞানের কিছু আপ টু ডেট এর দিকে নজর দিতে পারেন। 
স্থপতি , ভাস্কর্য , বিভিন্নেইংরেজি সাহিত্যের , বাংলা সাহিত্যের লেখক , বিভিন্ন দিবস , মুদ্রা , শাসন ব্যবস্থা , রাজা, রাষ্ট্রপ্রধান , মুুক্তিযুদ্ধ এগুলো আরেকবার চোখ বুলান । 


 
৪। পরীক্ষার ২ টা ঘন্টা সময় কিভাবে উইটিলাইজ করবেন সেটা নিয়ে একটা প্রিপারেশন এন্ড প্লান অব একশন তৈরি করুন। যে সাবজেক্ট আপনি ভালো পারবেন বলে মনে হয় সেটা দিয়ে শুরু করতে পারেন । তবে আমার মতে ১ নাং প্রশ্ন থেকেই শুরু করা উত্তম । আপনি প্রথম ৬০ - ৭০  মিনিটে পুরো ১ থেকে শুরু করে  ২০০ প্রশ্নের এ টু জেড একটা ঝড়ো অভিযান চালাবেন । কনফার্ম  উত্তর গুলো শুধু দাগাবেন এ সময়। পরবর্তী ৪০ মিনিটে আরেকবার অভিযান চালাবেন এবং আরো কিছু উত্তর দাগাবেন , প্রতমবার না পারা প্রশ্নগুলো নিয়ে  এ সময়  আপনার ব্রেন কাজ করবে ফলে আপনি আপনার ব্রেনের হেল্প পাাবেন।   । এবং লাস্ট ২০ মিনিটে ৩য় নাং অভিযান চালাবেন। 
 
৫। পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জামা কাপড় , ডকুমেন্ট, এডমিট কার্ড কলম ইত্যাদি রেডি করে ফেলুন। মিনিমাম ২ টা কলম মোটা দাগ পড়ে এমন ভাবে রেডি করে রাখুন। 

 

৬। সুটেড বুটেড হয়ে টাই পেচিয়ে পরীক্ষার হলে যাবেন না । নিজেকে যত বেশি কমফোর্ট ফিল করানো যায় সেই ধরনের ড্রেস পড়বেন। তবে শীত যেন না লাগে সেদিকে ও লক্ষ্য রাখবেন। 

 

৭। পরীক্ষার দিন এমন কোন লেজুড়কে পরীক্ষার কেন্দ্রে আপনার সাথে নিয়ে যাবেন না যে মানসিক সমস্যার সৃস্টি করে । নিজের বাচ্চা থাকলে তাকে পরীক্ষার হলের আশেপাশে না নিয়ে যাওয়া্েই  বেটার। 

৮। কিছু তারিখ বা সুত্রের শট নোট করুন। যেগুলো পরীক্ষার দিন সকালে আপনি চোখ বুলাতে বুলাতে কেন্দ্রে যাবেন। 

 

৯। পরীক্ষার ২০ মিনিট আগে কেন্দ্রে ঢুকুন । নিজের আসন  নিশ্চিত করার পরে পানি পান বা প্রাকৃতিক কাজ সেরে চোখে মুখে পানি দিয়ে ফ্রেশ হয়ে আপনার সিটে বসুন। অন্যরা বিভিন্ন হট টপিকস নিয়ে আলোচলা করতে পারে যেগুলো শুনলে পরীক্ষার আগে আপনার মনে হবে ইশ আমি কেন এগুলো পড়লাম না। সো আপনার মতে অনুশোচনা ও অতৃপ্তি তৈরি হবে । সো কারা কি আলোচনা করছে তার দিকে কান পাতবেন না। 

১০ । দেয়াল ঘড়িটাকে নিজের সুবিধাজনকভাবে কাজে লাগান। দেয়াল ঘড়ি নিয়ে ২-১ টা প্রশ্ন আসে সেটা আগে থেকেই বসে বসে ঠিক করে রাখুন । কোণ , সময় ইত্যাদিজনিত। মনযোগ দিয়ে এম আর শীট পুরণ করুন । কোন ভুল করবেন না। পরীক্ষা শুরুর আগেই শীটটাতে একবার ভালো করে চোখ বুলিয়ে নিন্। 

১১ । আপনি কারো সাথে আলাপ করতে যাবেন না। নিজে ক্যাবলাকান্ত হিসেবে চুপচাপ থাকুন । পরীক্ষার আগেপরে অন্য কারো সাথে আলগা পিরিত দেখানোর দরকার নািই্ । পরীক্ষা শেষ হলে সোজা বাসায় চলে আসুন। 

 

 

১৩। জব সলুশন , প্রিভিয়াস বিভিন্ন নিয়োগের প্রশ্ন এবং ডাইজেস্ট এইগুলোই আপনার এখন নিত্য সংগী ।  এই কয়দিন আর মডেল টেস্ট দেওয়ার দরকার নাই।  যখন যে টপিক পড়তে মন চায় সেই টপিক টাই পড়ুন । একবার করে চোখ বুলান । যে টপিকস পড়তে মন চাচ্ছে না তা নিয়ে বসে সময় নষ্ট করবেন না। 

১৪। কোন রকম পিছনের দরজা দিয়ে ঢোকার সুযোগ  অন্তত বিসিএস পরীক্ষায় নেই । সো এমন কোন প্রলোভন এ আর কান দিবেন না্ 

 

১৪ । ফেসবুকে / নেটে  ততটুকু সময় থাকবেন যতটুকু সময় প্রয়োজন । আপনি যদি পরীক্ষার্থী হন আর আমার এই পোস্টটি না পড়েন তবে আপনার জন্য শুভ কামনা। আর যদি পড়েই থাকেন তবে আপনার নিজস্ব বুদ্ধিমত কাজ করলে আপনার জন্য ও শুভ কামনা। 

 

৩৮ তম বিসিএস প্রিরিমিনারী যুদ্ধের সকল টি টোয়েন্টি খেলার ব্যাটম্যানদের সবার জন্য জন্য রইল  শুভকামনা । 

 

ইব্রাহিম খলিল মুহিম,
আইন বিভাগ , ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৬ তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার সুপারিশপ্রাপ্ত - ৫৫ তম 
১০ ম বিজেএস এসিস্টান্ট জজ / জিুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট , সুপারিশপ্রাপ্ত