খরগোশ আর কচ্ছপের দৌড়ের সেই গল্পের কথা মনে আছে সবার? সেই গল্পের মোরাল কিন্তু অনেক জায়গায় অনেক রকমভাবে দেওয়া আছে। তবে সবথেকে বেশী প্রচলিত মোরাল হচ্ছে, ‘SLOW AND STEADY WINS THE RACE’। আমি ‘SLOW’ নিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছিনা। যার যার নিজ ক্যাপাসিটির উপরে নির্ভর করে সে SLOW হবে নাকি FAST।

 

তবে সবাই ই জানেন, এই ‘STEADY’ শব্দটার মধ্যেই কিন্তু সফলতার সকল বীজ লুকিয়ে আছে। শব্দটার কিছু Synonym দ্যাখেনঃ imperturbable, serious-minded, immovable, sober, undeviating, constant, unchanging, habitual, devoted, immobile, unwavering এরকম আরও অনেক। আপনি কিন্তু সবগুলো Synonym এর সাথেই আরেকটা শব্দের লিংক খুঁজে পাবেন। সেটা হলো ‘ধৈর্য্য’। আইবিএ বা ভালো একটা জব, যেটাই টার্গেট করেন না কেন, এই ‘ধৈর্য্য’ জিনিসটা না থাকলে আপনার প্রস্তুতির স্টেডিনেস বা কনসিস্টেন্সি থাকবেনা। আপনি যখন কনসিসটেন্সির সাথে একটি টার্গেট অ্যাচিভ করার পথে থাকবেন, আপনার প্রস্তুতিতে একধরণের গতি আসবে। প্রথম ২-১ মাস খারাপ লাগলেও তারপর সেটি আপনার অভ্যাসে পরিণত হবে। একটা পর্যায়ে এসে আপনি ভিতর থেকে ফিল করতে শুরু করবেন যে আপনার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। এই ফিলিং টা আসতে শুরু করলে আপনার সেলফ কনফিডেন্সটাও বাড়তে শুরু করবে।

 

আপনি একদিন হঠাৎ করে ২০০ টা অংক করলেন। তারপর তিনমাস রেস্ট নিলেন। আবার তিনমাস পরে এসে ৩০০ টা অংক করলেন। এতে আপনার লাভ একদম নাই এটা বলবো না। তবে আপনি যদি এই ৫০০ টা অংক দুইদিনে করে বাকী সময় রেস্টে না থেকে প্রতিদিন ১৫ টা করে অংক করতেন আপনার ২০ গুণ বেশী লাভ হতো। টার্গেট অর্জনের পথে আপনার কনসিস্টেন্সি নষ্ট করতে পারে এরকম অপশনগুলো থেকে দূরে থাকাটাই ভালো।

 

একটা এক্সাম্পল দিইঃ আমি আগে ঢাকা শহরের খুব নামকরা একটা কোচিং এ জিম্যাটের ম্যাথস করাতাম। ওই কোচিং এর একটা অদ্ভুত বিজনেস স্ট্র্যাটেজি ছিলো। স্টুডেন্ট একবার ভর্তি হলে তাকে লাইফটাইম স্টুডেন্টশিপ দেওয়া হতো। তারমানে সে একবার কোন কোর্সের জন্য ভর্তি হলে সারাজীবন ধরে ওই কোর্সে ক্লাস করতে পারবে। ভালো একটা সুযোগ। তাই না? না। ১০% ছাত্র-ছাত্রীর জন্য খুবই ভালো একটা সুযোগ নিঃসন্দেহে। তারা একই কোর্স বার বার রিপিট করতে পারে। কিন্তু বাকী ৯০% এর জন্য খুবই ক্ষতিকর। এরা এই সুযোগ আছে বলে কোর্সের যেকোন পর্যায়ে এসে বাঙ্ক মারে। সেটা ইভেন হতে পারে ফ্রেন্ডদের সাথে আড্ডা, মামার শালীর খালাতো বোনের ছেলের খৎনা, অথবা আজকে গা ম্যাজ ম্যাজ করতেছে ক্লাসে যাবনা….এই ধরণের কারণে। যাহোক, এই ৯০% এর মধ্যে ৮০% কোর্সটি শেষই করতে পারেনা পরে। ওই কোচিং এ ভর্তি হওয়াআমার পরিচিত অনেক ছাত্র-ছাত্রীও ৫-৬ বছর কোর্স শেষ করতে পারে নাই আর। মাঝখান দিয়ে ওই কোচিং টাই বন্ধ হয়ে গেছে।

 

এদের অনেকেই যোগাযোগ করে মাঝে মাঝে, ‘ভাইয়া, আপনি কি এখনও ওখানে ক্লাস নেন? আমি অমুক ব্যাচের স্টুডেন্ট ছিলাম। ……কারণে কোর্স শেষ করতে পারি নাই!’ কনসিস্টেন্সি নষ্ট হবার আরেকটি কারণ অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস। প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করলেন। কিছুদিন পরে দেখলেন, ‘আরে, আমিতো সবই পারতেছি। এখন একটু গ্যাপ দিলেও চলে। এক্সামের ১ মাস আগে আবার করবো!’ চরম ভুল করলেন।

 

আপনার প্রস্তুতির কনসিস্টেন্সি টা কিন্তু টার্গেট অর্জন করা পর্যন্ত রাখতে হবে। নাহলে ধরা খাওয়ার সম্ভাবনা ব্যাপক। যাহোক, আমি মাঝে মাঝে পরামর্শ দেবার চেষ্টা করি খুব ক্ষুদ্র পরিসরে। আমি স্বপ্নেও ভাবিনা যে আমার পরামর্শ শুনে একজন নাসায় জব করবে। আমার পরামর্শ শুধুমাত্র সেসব ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য, যারা বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে একটু ভালো জায়গায় উচ্চশিক্ষা বা একটা ভালো চাকুরীর জন্য স্বপ্ন দেখছে।

 

২০১৮ সাল শুরু হয়ে গেলো আজকে। নতুন বছরে আপনার টার্গেট ঠিক করে প্রস্তুতি শুরু করে দিন।

কনসিস্টেন্সি ধরে রেখে ছয় মাস থেকে এক বছর যদি একটু কষ্ট করতে পারেন, দেখবেন ২০১৯ সালের শুরুতে দেখবেন আপনি রীতিমতো উড়ছেন। কেউ ধরতে পারবেনা আপনাকে আর।