আইবিএ তে প্রস্তুতির সবচেয়ে বড় বাধা আমার মনে হয় মানসিকভাবে শক্ত হতে না পারা। শুরু করার আগেই চিন্তা করা "আমি কি পারবো?" নিজেকে ছোট ভাবার এই প্রবণতা ছোট বেলা থেকেই গড়ে উঠে আমাদের মধ্যে। এই শেকল থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেই অনেকটা এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

 

একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, আজ আইবিএ তার আজকের এই যে অবস্থান অর্জন করেছে - তার পেছনে যেমন শিক্ষকমন্ডলী, পড়াশোনার সিলেবাস, এনভায়রনমেন্ট, কালচার আছে, তেমনই আছে আকাশ ছোঁয়ার মানসিকতা সম্পন্ন সব ছাত্র-ছাত্রী। নিজে থেকে চেস্টা না করলে কেও সেটা কখনও করে দিবে না। সুতরাং আপনার মধ্যে যদি চ্যালেঞ্জ নেয়ার মানসিকতা না থাকে, যদি একাগ্রচিত্তে নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার মানসিক শক্তি না থাকে - তাহলে একবার ভাবুন তো আপনার কি আইবিএ'তে পড়া উচিৎ? Are you deserving enough?

উপরের প্যারাটা পড়ে যদি আপনার মন খারাপ হয়ে যায় - তাহলে বাকিটুকু পড়াটা আরও জরুরী

 

 

অন্য বিষয় গুলো বাদ দিয়ে যদি এভাবে প্রশ্ন করি, বলুন তো ৩০ বা ২৫ মিনিটে কি ৩০টা ম্যাথ করা আসলেই সম্ভব? মাথায় রাখুন আইবিএ'ও বলে নাই যে আপনাকে সব গুলো ম্যাথ পারতে হবে - এটা অনেকটা টেস্ট ম্যাচ এর মতো, বল ছেড়ে ছেড়ে খেলতে হবে কিন্ত তাই বলে সব বল ছেড়ে দিয়ে দিন শেষে শূন্য রানে থাকারও কোন মানে হয় না, তাই না; ৩০টা ম্যাথ এর মধ্যে এমন কিছু ম্যাথ থাকতে পারে সেটা কোন ভাবেই আপনি ৪-৫ মিনিটের আগে solve করতে পারবেন না। এগুলো যত তাড়াতাড়ি বুঝে skip করতে পারবেন, ততই আপনার লাভ হবে - এখানেই prove হবে How Smart you are. সবসময় একটা জিনিস মনে রাখবেন আপনি কত’টা মেধাবী সেটা মুখ্য বিষয় নয়,বরং আপনি কত’টা smart সেটাই মুখ্য বিষয়। এই কারনেই কিন্তু বলা হয় Aptitude Test.

 

এখন এই যে ম্যাথটা ছেড়ে দেয়ার ডিশিসান নেয়ার ক্ষমতা কিভাবে অর্জন করবেন? এর জন্য প্রয়োজন কন্টিনিউয়াস প্রাকটিস - "একাগ্রতা"। প্রতিদিন একটা লক্ষ্যস্থির করুন - আড্ডা দিলে দিবেন - কিন্তু ওই লক্ষ্যটা পূরণ না করে ঘুমাবেন না; নিজেকে এভাবে প্রস্তুত করুন। শুধু আইবিএ না - যেকোনো লক্ষ্যেই পৌঁছে যাবেন।

 

 

নিজের সামর্থ্য নিয়ে ভাবুন – অবিশ্বাস্য কঠিন কোন টার্গেট ঠিক করে – ক’দিন পর হতাশ হওয়ার চেয়ে – যতটুকু আপনার সামর্থ্য, ততটুকু ঠিক করে পড়াশোনা শুরু করে দিন। নিজেকে ঠকাবেন না কখনই। আর যদি নিজের সামর্থ্য কতটুকু তা না জেনে থাকেন – accept the bitter truth, you aren’t smart enough!!
নিজের সামর্থ্য বলতে আইবিএ তে চান্স পাওয়ার সামর্থ্যের কথা বলা হচ্ছে না। আপনি প্রতিদিন কতটুকু পড়াশোনা করতে পারবেন - কতগুলো ম‍্যাথ এক্সারসাইজ করতে পারবেন, কতগুলো word শিখতে পারবেন... এই সামর্থ্যের কথা বলা হচ্ছে।

 

কখনই ভাববেন না যে, কোন কোচিং সেন্টার আপনাকে চান্স পাইয়ে দিবে। কোচিং সেন্টার থেকে আপনি সর্বোচ্চ পেতে পারেন গাইডেন্স। টর্চের আলো জ্বেলে দেখিয়ে দেয়া হবে পথ, বন্ধুর সেই পথ পাড়ি আপনাকেই দিতে হবে।

 

মোঃ মাহমুদুর রহমান
বিবিএ ১৮তম ব‍্যাচ, এমবিএ ৫৩তম ব‍্যাচ,
আইবিএ, ঢাবি।