আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথে এক্সট্রিম স্পীডে চান্দের গাড়ি চলছে... স্বচ্ছ শীতল পানিতে বড় বড় পাথর, পায়ের নিচে সাজানো ছোট পাথর... আকাশ সমান উচু পাহাড়ের মাঝ দিয়ে নদী... ঝিরিপথ... ঝরনার গর্জন...ভঁয়... আনন্দ... আর আমরা... 

২০১১ তে প্রথম তিন্দু আর নাফাখুমের ছবি দেখি, তখন থেকেয় স্বপ্ন যাওয়ার। গত ৫ বছরে যাওয়ার সুযোগ না হলেও গত ১ মাস ধরে খুব উতলা হয়ে ছিলাম। ২৬ তারিখ তানিম জানালো ওরা ২ জন যাবে, ২৭ তারিখ সকালের মধ্যে কনফার্ম করতে হবে। মন আর মানছেনা। বৌ ও কোন আপত্তি জানায়নি। অফিস থেকে ছুটি ম্যনেজ করলাম। ২৭ তারিখ রাতেয় রউনা দিলাম বান্দরবনের উদ্দেশে। ৩ জন না, আমরা ১০ জন। তানিম ছাড়া সবায় অপরিচিত। বাস ছাড়ল রাত ১০ টায়। বান্দরবন শহরে নামলাম সকাল ৯ টায়। আরো আগেয় নামার কথা ছিল, তবে ১ ঘন্টা সময় হসপিটালের সামনে গেছে। গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে একজন যাত্রীর গালে ১১ টা সেলায় লেগেছে। 

 

থানচি থানচি

ফিস্ট রেস্টুরেন্টে ডিম খিচুড়ি খেয়ে চান্দের গাড়ি রিজার্ভ করে সোজা থানচি। সময় লাগল ২ ঘন্টা ১৫ মিনিট। ভাড়া ৩৫০০/- থানচিতে নৌকা সংকট। ২ ঘন্টা বসে থেকে পাওয়া গেল। ২ টা বোট রিজার্ভ করলাম। প্রতি বোট ৫০০০/- । অসাধারন সাঙ্গু নদী। ক্রিস্টাল ক্লিয়ার পানি। স্রোত অনেক। পানি কম থাকায় বেশ কয়েকবার নেমে ঠেলা লেগেছে। পানিফোবিয়ার ওজুহাত দেখিয়ে তানিম সাহেব একবারও নামেননি। এছাড়া আমরা সবায় বেশ কয়েকবার নেমে নৌকা ঠেলেছি। তিন্দু আর বড় পাথর... ওয়টা আসলে সত্যি ছিল নাকি স্বপ্নের মাঝে কল্পনা আমার সন্দেহ। এত সুন্দর জায়গা!!! রেমাক্রি পৌঁছানোর ১০ মিনিট আগেয় সন্ধ্যা নেমে এল। ব্যাস আমরা ধরা। ঘুটঘুটে অন্ধকারে ১০ মিনিটের রাস্তা পাথরে বাড়ি খেতে খেতে ১ ঘণ্টা সময় লাগল। 

 

রেমাক্রিরেমাক্রি


রেমাক্রিতে নেমে ছোট পাহাড়ের উপর আমাদের থাকার ব্যাবস্থা। মাচার উপর ঘর। ১০ জন এক ঘরে। পার পারসন মনে হয় ১৫০/- লাগছে থাকার জন্য। রাতের খাবার ডিম ভাজি, আলু ভর্তা আর ডাল- ৯০ টাকা। সুন্দর এক সকালের প্রতিক্ষায় অডমস মেখে ঘুমিয়ে পড়লাম।

পোকার কট কট শব্দে ঘুম ভাঙল আমার ভোর ৫ টায়। একটু পরেয় আমাদের আসল গন্তব্যে যাত্রা শুরু। রেমাক্রি খালের পাশ দিয়ে ছোট বড় পাথর আর পাথর... ঝিরি দিয়ে পানি চলছে... পিচ্ছিল ঝিরি পার হয়ে কখন মাটি দিয়ে হাটছি... কখনও পাহাড় দিয়ে... কখনও পানি দিয়ে... অসাধারন অন দা ওয়ে! যাওয়ার পথে ছোট ছোট কয়েকটা ঝরনা। ১ ঘন্টা ৫০ মিনিট হাটার পর কাঙ্ক্ষিত ঝরনার শব্দ। ইয়েস!!! পোঁছে গেছি নাফাখুমমমমম । সে এক অদ্ভুত অনুভুতি। অসাধারন ঝরনা। প্রথমে ঝরনার ধারে ভয়ে দাড়ায়নি। ঝরনার উপরে বিরাট বিরাট পাথরের খাজে বাথটাবের মত কিছু স্পেস আছে... ওখানে শুয়ে থাকার মজাটায় অন্যরকম। কিছুক্ষন পর ঝরনার নিচে অনেকে নামল। উপরে বসে বেশ কিছু পিক নিলাম। ফিরতে মন চায়না, তবুও আসতে হবে... ১ ঘন্টা ছিলাম স্বপ্নের নাফাখুমে। এরপর আবারও হেটে রেমাক্রি... তারপর থানচি...

 

নাফাখুমনাফাখুম

 

এত অল্প সময়ে এমন সর্গে পোষায় না। যারা যাবেন হাতে আরো বেশি সময় নিয়ে যাবেন। থাঞ্চি থেকে চান্দের গাড়ি রিজার্ভ করে গেলাম রুমাবাজার। ভাড়া ৩৫০০/-  রাতে ভাল খেলাম পেট ভোরে। হোটেলের বড় রুমে একসাথে ৮-১০ জন থাকা যায়। ভাড়া ১২০০/-। এছাড়া একটা ডাবল বেড, একটা সিঙ্গেল বেডের রুমের ভাড়া ৬০০/- - আরামে ৩ জন থাকা যাবে। রাতের ঘুমটা ভাল হল। সকালে মুরগী কিনে, চান্দের গাড়ি (২,৫০০/-) নিয়ে চলে গেলাম বগার উদ্দ্যেশে। গাইড ৬০০/- পার ডে। রুমাবাজার থেকে বগা যাওয়ার রাস্তা একটু বেশিই খারাপ। আমার বয়সযে ১৯ পার হয়েছে সেইটা ভালমত বুঝতে পারলাম। ভঁয় পায়ছি অনেক জায়গায়। আর খুব শক্ত করে গাড়ির উপরের রড ধরে বসে থাকতে হয়। আমার ডান হাতে আর ঘাড়ে সেইরাম ব্যাথা। ১ ঘন্টা ২০ মিনিট পর বগা পৌছালাম।

 

বগা লেকের উপর থেকে বগা লেকের উপর থেকে

 

এবার খাড়া পাহাড়ে উপরে উঠতে হবে। এটা বেশ কঠিন ছিল। ২/৩ মিনিট হেটে একটু রেস্ট নিয়ে নিয়ে যেতে হবে, তা না করে একবারে উঠার চেস্টা করলে তানিমের মত ১ ঘন্টা লাগবে আর বমি হবে। আমাদের সময় লেগেছিল ৩০ মিনিট। পাহাড়ের চুড়ায় উঠে নিচে চোখে পড়ল বিরাট এক লেক... ইহায় বগালেক। অসাধারন জায়গা। লেকের পাড়ে মাচার উপর ঘর। ঘরে ব্যাগ রেখে সবায় মিলে লেকে গোসল দিলাম। আহ! কি শান্তি। বগালেকের পাড়ে এক পাহাড়ী সুন্দরী মন থেকে এখনও যাচ্ছেনা... 


পুরা ট্যুরের বেস্ট পার্ট ছিল মেহেদী ভাই। তানিম ছাড়া কাউকেই চিনতামনা। মেহেদী ভাই মানুষটা এক কথায় অসাধারন। পুরা ট্যুরে আমাকে অনেক হেল্প করেছেন। বিশেষ করে নাফাখুম যাওয়ার পথে পিচ্ছিল ঝিরি উনি না থাকলে নিশ্চিত আছাড় খেতাম। অনিক ভাই রকজ। অসাধারন গানের গলা। সুজন ভাইতো বস মানুষ। রনি অনেক পেরা নিছে- থ্যাংকস ভাই। সাকিব পিক এর জন্য ধন্যবাদ। সাকিল, মিথুন, রিদওয়ান তোমাদের সাথে ভাল সময় কাটল। অসাধারন একটা ট্যুর শেষ করলাম। Thanks a lot Tanim for taking me with the superb group

 

বগা লেক বগা লেক

 

আসুন আমরা বেশি বেশি ট্যুর দেয়। মন ভাল থাকবে। তবে যেন পরিবেশ নষ্ট না করি। খাবারের প্যাকেট, সিগারেট এগুলা যেন ফেলে না আসি। আবারো যাব... অপেক্ষায় আছি নেক্সট ট্যুরের।