সবুজ আকাশের মাঝে হালকা নীল, যেখান দিয়ে ধবধবে সাদা আলো এসে পড়ে সমান্তরাল রেল লাইনের উপর। নীরব সবুজ আকাশের নিচে হেটে চলতেই হঠাৎ ঝিকঝিক শব্দ। তারপর আবারো থমথমে সবুজ। জারাকে বসিয়ে বেশ কিছু ছবি তুলে নিলাম। রেললাইন পার হয়ে গভির জঙ্গল, আকাবাকা পথ। আকাশ সমান উচু উচু এক গাছ থেকে অন্য গাছে কিযেন ঝাঁপিয়ে পড়ছে। ওগুলো বানর। সবায় দাড়িয়ে ওদের উড়ে বেড়ানো উপভোগ করছি আর ঈশিতা ভয়ে দৌড়ে সামনে চলে গেল। পিঙ্কু ভাই যখন বলল, ওর সামনের গাছেও বানর, বেচারিতো ভয়ে অস্থির। ও কোনভাবেয় আর সামনে আগাবেনা। বারবার অনুরোধ করছে, প্লিজ চল আমরা ব্যাক করি। কিন্তু কে শোনে কার কথা। আমার আট বছরের ভাইপো আহনাফ আর ৩ বছরের ইরা ও আমাদের সাথে আছে। বাকি সবায় খুব আগ্রহ নিয়ে গভির জঙ্গলে হেটে চলেছে। বড় বড় মাকড়শা, আহনাফ বলে ইস! যদি একটা কামড় দিত তাহলে স্পাইডারম্যন হয়ে যেতাম।
 

 

বেশ কিছু ছড়া আছে জঙ্গলের ভেতরে। বর্ষার সময় পানি বেশি থাকলেও এবার একেবারে খারাপ ছিল না। একদম স্বচ্ছ পানি। আমাদের উদ্দেশ্য আসলে খাসিয়া পল্লীতে যাওয়া। উচু টিলাতে ওদের সাথে দেখা না করে জারা ফিরবেই না। ২৫ টা ঘর আছে। ওদের দেখে অবাক হলাম। সবায় পানের ব্যবসার সাথে জড়িত মনে হল। কিছুক্ষন বসে তারপর আবারো এদিক সেদিক ঘোরাঘুরি করে লাওয়াছড়া ফরেস্ট থেকে বের হলাম।
 

দুপাশে শুধু উচু নিচু টিলা আর চা বাগান। এমন সবুজ দেখে মনে হয় সারাজীবন থেকে যায়। তবে চা বাগানের ভেতর বেশ গরম, আর বর্ষাকাল হলে জোক থেকে সাবধান থাকা ভাল। নীলকণ্ঠ নামের একটা চায়ের দোকান/কেবিন আছে। ওখানে সাত রঙের চা পাওয়া যায়। দেখতে দারুন তবে স্বাদের ব্যপারে কোন মন্তব্য করব না। শান্ত সুন্দর এক শহর শ্রীমঙ্গল। আমরা রাতে ছিলাম হলিডে গেস্টহাউজে। চার বেডরুমের একটা বাসা। দুইটা এসি আর দুইটা ননএসি রুম। প্রত্যেক রুমেয় একটা ডাবল আর একটা সিঙ্গেল বেড। একদমই বাসার মত পরিবেশ। গরম শীত বর্ষা যায় হোক না কেন আমার বার বি কিউ না করলে ট্যুর পরিপুর্ন মনে হয়না। তাই রাতের ডিনার চিকেন বার বি কিউ আর পরাটা।
 

 

আমরা ঢাকা থেকে একটা রিজার্ভ মাইক্রো নিয়ে গিয়েছিলাম। তাতে শহরে ঘোরাঘুরির জন্য আলাদা করে আর কিছু ভাড়া করতে হয় না। আর শ্রীমঙ্গল/ সিলেটে সিএনজি গ্যাস থাকায় খরচ ও কম হয়। এছাড়াও বাস বা ট্রেনেও যাওয়া যায়। আর থাকার জন্য বেশ কিছু রিসোর্ট / গেস্ট হাউজ আছে। উচু টিলাতে বাংলো সাথে সুইমিংপুল ও আছে। আর লাক্সারি কিছু চাইলে আছে গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ।
 

যাদের এখন ও চায়ের দেশে যাওয়ার সুযোগ হয়নি, আর দেরি না করে ঘুরে আসুন। কম সময়ে বিউটিফুল বাংলাদেশের কিছু অসাধারন দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। আসুন আমরা নিজের দেশটাকে ঘুরে দেখি। বেশি বেশি ট্যুর দেয়। মন ভাল থাকবে।