দুইধারে সবুজ গাছের মাঝে পিচঢালা কালো রাস্তা শেষ হওয়া মাত্রই বিশাল সমুদ্র। ঝমঝম বৃষ্টি। সুবিশাল সমুদ্র সৈকতের যতদূর চোখ যায়, কোন মানুষ নায়... ঢেউ এ বাড়ি খাওয়া সৈকতটা যেন আমাদের ৪ জনের জন্যই অপেক্ষা করছিল। আমি ১১ বার কক্সবাজার গিয়েছি, তবে এমন অনুভুতি কখনয় হয়নি, যেইটা কুয়াকাটা বিচ থেকে পেলাম। ফাকা বিচে ঝমঝমে বৃষ্টি ... সাগরের ঢেউ আর ফুটবল... লাইফ ইজ টু... বিউটিফুল! 

 

কুয়াকাটা কুয়াকাটা

 

সজিবের অফিসে বসে দুপুর ১২ টায় হঠাৎ মনে হল কুয়াকাটা যাব। ফোন করলাম খুব কাছের ছোট ভাই পিয়াসকে। ১ টায় অপুর বাসায় বসে প্লান করলাম, রাতেয় রউনা দিব। আন্টির হাতের অসাধারন নাস্তা খেয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মনে হল, রাতে না... এখনই যাব। ব্যাস... বৃষ্টির মধ্যে বাসায় এসে লাঞ্চ করে আমরা বের হয়ে গেলাম বিকাল ৪ টায়। যাত্রা শুরু করলাম কুয়াকাটার পথে- আমি, পিয়াস, অপু আর রায়হান। অপুর পারসোনাল গাড়ি... তাই জার্নিটা ছিল খুবই কমফোর্টেবল। 

 

কুয়াকাটাকুয়াকাটা

 

যশোর থেকে খুলনা হয়ে গোপালগঞ্জ পার হয়ে বরিশাল পৌউছালাম রাত ১০ টায়। ইলিশ মাছ দিয়ে রাতের খাবার শেষ করে আমরা কুয়াকাটায় হোটেলে উঠলাম রাত ১২।৩০ এ। আগে থেকে অপু হোটেল বুকিং করে রেখেছিল। সকালে ৭ টায় ঘুম থেকে উঠে হোটেলেয় নাস্তা করে ফুটবল কিনে আমরা বিচে গেলাম। ঝমঝমে বৃষ্টি... এক অসাধারন অনুভুতি। প্রায় ৪ ঘন্টা বিচে আনলিমিটেড মাস্তি... সাগরে ঝাপাঝাপি... ক্যামেরাম্যান দিয়ে ছবি তোলা... ফুটবল... বিচে মটরসাইকেল চালানো... ডাব খাওয়া... এন্ড হোয়াট নট! 

 

কুয়াকাটাকুয়াকাটা


দুপুরে লাঞ্চ করলাম আবারো ইলিশ দিয়ে। বিকালে মটরসাইকেল ভাড়া করে বিচের উপর দিয়ে আমরা পশ্চিম দিকে যাচ্ছি... কিছুদূর যাওয়ার পর লেবুরবন নামের এক জায়গা। সুন্দরবনের মত বিচের উপর সারি সারি গাছ। গাছের গুড়িগুলো পানির উপরে... আরো কিছুদূর যাওয়ার পর এপার থেকে সুন্দরবনের পুর্ব অংশ দেখা যায়। লাল কাকড়া আছে কিছু... ডান দিকে বন, বাম পাশে সমুদ্র, সামনে নীলাভ আর সাদা রঙের রঙ তুলি দিয়ে আঁকা এক অদ্ভুদ আকাশ- কখনও গাড়ো কখনও হালকা নীল কখনও পেস্ট কালার। এমন সুন্দর আকাশ আমি আগে কখনও দেখিনি। কিছুক্ষন এই দৃশ্য চিবিয়ে খাওয়ার পর আমরা আবার ফিরে এলাম। মেঘে ঢাকার কারনে সূর্যাস্ত খুব একটা বোঝা যায়নি। তবে আকাশটা ছিল অসাধারন। 

 

কুয়াকাটাকুয়াকাটা

 

সন্ধার পর আমরা রাত ৯।৩০ পর্যন্ত বিচে সময় কাটালাম। অপুর কণ্ঠে অসাধারন কিছু গান শুনলাম, বাউল ডেকেও গানের আয়োজন করলাম। রাতে আগে থেকে অর্ডার করা কোরালের বার-বি-কিউ। এরপর রুমে যেয়ে শান্তির ঘুম। 

পরদিন সকালে আবারো বিচে কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে দুপুর ১ টায় রউনা হলাম যশোরের উদ্দেশ্যে। সম্পুর্ন জার্নি ছিল ব্যাপক আরামদায়ক যার পুরো ক্রেডিট অপুর আর আমাদের ড্রাইভার জাহিদ ভাইয়ের। রাত ১০ টায় আমরা নিরাপদে যশোরে পৌঁছে গেলাম। 

 

কুয়াকাটাকুয়াকাটা

 

তথ্যঃ আমরা ছিলাম হোটেল বীচ হ্যাভেনে। রুম ভাড়া ডাবল বেড ১৬০০/-, আফটার ডিস্কাউন্ট ৮০০/-। এছাড়া আশেপাশে ছোট বড় অনেক হোটেল আছে। বড় হোটেলের মধ্যে চোখে পড়ে- হোটেল বীচ হ্যাভেন, বনানি প্যালেস, হোটেল মোহোনা। বরিশালে লাঞ্চ করেছিলাম- ইলিশ পার পিছ- ২০০/-, কুয়াকাটায়- ইলিশ- ১২০/-, ইলিশের মাথা-১৫০/-, চিংড়ি ৫ পিছ- ১২০/-, রাতের বার-বি-কিউ- ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের কোরাল, ১৫ টা পরটা সহ- ১৫০০/-। সকালের নাস্তাতে খিচুড়ির টেস্ট ভাল ছিল- ডিম ভাজি সহ ৬০/-। আমরা ৩ বেলায় “খাবার ঘর” নামের রেস্টুরেন্টে খেয়েছি। বিচে যেতে হাতের ডান দিকে। মটর সাইকেলে বিচ থেকে পশ্চিম দিকে গিয়েছি- ২ টা মটর সাইকেল ৫০০/-। ডাব খেয়েছি পর্যাপ্ত। একটা ওয়াটার বাইক ছিল, ঘোড়া ছিল রেট জানা হয়নি। যশোর থেকে যাওয়ার সময় মাত্র ১ টা ফেরি (গোপালগঞ্জ দিয়ে), আসার সময় ২ টা ফেরি ছিল (নড়াইল দিয়ে)। রাস্তা খুব-ই ভাল। তবে অনেক ব্রিজ- যাওয়া আসায় ১ হাজার টাকার বেশি টোল। 

আসুন আমরা বেশি বেশি ট্যুর দেয়... মানুষ সম্পর্কে ধারনা বাড়বে। মন বড় হবে... মন ভাল থাকবে। এই ট্যুরের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি আমরা প্রত্যেকটা মুহুর্ত উপোভোগ করেছি। আবার যাব ইনশাল্লাহ... নতুন কোথাউ।

 

স্বপ্ন পুরন! থানচি-তিন্দু-রেমাক্রি-নাফাখুম-রুমা-বগালেক।

কড়া করে একটা চা হবে!

খইয়াছড়া ঝরনায় হারিয়ে যাওয়া!

থাইল্যান্ড ভ্রমন - ১ম পর্ব