সময়টি ১৯৯৯ সালের ২০-৩০ জুন। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে তুমুল হট্টগোল হচ্ছে। প্রসঙ্গ, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জন্য দেশের টাকার অপচয় করে ৮ টি মিগ ২৯ এর অর্ডার করেছে বাংলাদেশ। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান  এইচ.এম.এরশাদ এবং বি.এন.পি চেয়ারপার্সগম খালেদা জিয়া এই মিগ২৯ কেনাকে "সরকারী সম্পদের অপচয় " হিসেবে উল্লেখ করেন।



বাংলাদেশের মত দেশের "মিগ২৯" এর মত বিমান কিনার খবরে সারা বিশ্বের টনক নড়ে, যেমন নড়েছিল আমাদের দু'টি সাবমেরিন কেনার খবরে। এখন যেমন ভারত বলেছিল, বাংলাদেশের সাবমেরিন কেন দরকার, বাংলাদেশের শত্রু নেই, তেমনিভাবে বিশ্ব মোড়ল আমেরিকা তখন প্রেস নোট রিলিজ করে। বাংলাদেশের মিগ ২৯ কেনার খবরে তারা উদ্বিগ্ন। অবশ্য এরই মধ্যে বাংলাদেশ আমেরিকা  থেকে এফ১৬ কেনার চেষ্টা চালায়। আমেরিকা সেটাকে  বাংলাদেশের জন্য অপ্রয়োজনীয়  বলে আখ্যা দেয়। এবং এফ১৬ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তারই পরিপ্রেক্ষিত অনুযায়ী বাংলাদেশ ৮টি মিগ২৯ অর্ডার করে। প্ল্যান ছিল ৩২ টি মিগ ২৯ সার্ভিসে রাখার। সেই ১৯৯৯-২০০০ সালে মিগ ২৯ পাওয়া অনেকটা ২০১৮ তে সু৩৫ পাবার মতোই। এটা যথেষ্ট অত্যাধুনিক ছিল সেই আমলে আর আজো এটি আধুনিক এবং আমাদের মিগগুলো মুলত রাশিয়ার জন্যই বানানোর কথা ছিল। কিন্তু অর্থনৈতিক মন্দার জোরে রাশিয়া তা বিক্রি করে দেয়। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়া ১৯৯৯ সালে সংসদে বলেছিলেন, বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্যই শক্তিশালী সামরিক বাহিনী দরকার।
 


আজ ২০১৮ সালে এসেও আমাদের গর্ব সেই ৮ টি মিগ ২৯। আমেরিকা বলেছিল, বাংলাদেশের ৩ দিকে ভারত, একদিকে সমুদ্র, এক কোনায় মায়ানমার। বাংলাদেশের শত্রু নাই, মিগ নেয়া যাবেনা। আমরাও এফ১৬ দিব না। আজ ২০১৮ তে এসে কতটা যুক্তিযুক্ত এ কথাগুলো?? বেগম খালেদা জিয়া  নির্বাচনে জয়ী হয়ে অর্ডারে থাকা আরো ৮ টি মিগ ২৯ এর ডিল বাতিল করেন। তিনিও মত দেন, বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয় দেশ এফ৭ ই যথেষ্ট। কি করবে মিগ ২৯ দিয়ে বাংলাদেশ?? অথচ রাশিয়ার মিগ কর্পোরেশনকে বাকি ৮ টি মিগ ২৯ এর টাকাও পরিশোধ করা হয়েছিল। ম্যাডাম তার বদলে এ.পি.সি নিলেন, রাশিয়া সেই মিগ বিক্রি করলো বেলারুশের কাছে। বেলারুশ থেকে আমাদের জন্য বানানো কিছু মিগ ২৯ সেকেন্ডহ্যান্ড হিসেবে পেল মিয়ানমার।

 

আজ তাদের একটিভ মিগ ১১-১২ টি। আর আমাদের ৮ টি। দু,দেশের রেটিও ৮:১১ থেকে ৩২:১১ মিগ ২৯ ও হতে পারত। প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার  নামে  বেগম খালেদা জিয়া  মিগ ২৯ দুর্নীতি মামলা করেন। বেচে দেবার চেষ্টা করেন মিগ২৯ গুলো। কিন্তু ব্যর্থ হন। অনেক তালবাহানার পর শেখ হাসিনাও দুর্নীতি মামলা থেকে বেকুসুর খালাশ পান।
 


রাজনৈতিক প্রতিহিংসা করে কি লাভ হলো? ক্ষতি যা হবার দেশেরই হলো। রাশিয়ার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক খারাপ হয় মিগ না কেনার ফলে। তারা আজও বাংলাদেশকে এতটা গুরুত্ব দেয়না পটেনশিয়াল কাস্টোমার হিসেবে। কারন তারা জানে মিয়ানমার এ বেচলেও নিশ্চয়তা আছে কিন্তু বাংলাদেশে বেচলে সরকার চেঞ্জ হলে নিশ্চয়তা নাই। ডিল বাতিল হতে পারে। কে করবে নিজের লস?

 

তাই, এম.আর.সি.এ নিয়ে বলে লাভ নেই। যদি সব ঠিক থাকে মিগ ৩৫ ডি+সু ৩০/৩৫ আসবে।। ২০২০ এ মিগ, ২০২৩ এ সু। আশা রাখছি।

 

কর্মজীবন ডট কম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার দায় লেখকের নিজের। ধন্যবাদ।।