শুরুতেই একটু ভিন্ন বিষয়ে যায়। দক্ষিন কোরিয়া ও ভারত এবং উত্তর কোরিয়া ও পাকিস্থানের সাথে খুব ভাল মিল আছে কিছু ক্ষেত্রে । বার্মার সাথে বাংলাদেশের ঠিক তেমন মিল আছে।

 

দক্ষিন কোরিয়ার আজন্ম শত্রু উত্তর কোরিয়া। ঘরের পাশেই অস্ত্রের ঝনঝনানি সেই স্বাধীন দেশ হবার পর থেকেই। সারাক্ষন হুমকি দিয়ে এসেছে উত্তর কোরিয়ার সামরিক শাষন আর ডিক্টেটরসীপ। দক্ষিন কোরিয়া যে কাজটি করছে সেটা হল ধৈর্য। নিরবে নিজের দেশের উন্নয়ন করে আজ সারা বিশ্বের উন্নত দেশের কাতারে তাদের নাম। তাদের এক সময় কিছুই ছিল না। এমনকি তাদের না আছে কোন প্রাকৃতিক সম্পদ। কিন্তু বাংলাদেশের থেকে ছোট দেশ হবার পরো আজ তাদের অর্থনীতি সারা বিশ্বের মধ্যে ১১ তম। জিডিপি প্রায় ১.৪৪৬৬ ট্রিলিয়ন ডলারের। বিশ্বাস না হলেও তাদের রপ্তানি তাদের থেকে ৩০ গুন বড় দেশ ভারত থেকেও বেশি $471 billion। জনগনের ভেতর দরিদ্যতা নাই। উত্তর কোরিয়ার মত না খেয়ে থাকেনা। তাদের সক্ষমতা এমন যে তারা চাইলে উত্তর কোরিয়ার পুরা দেশের জিডিপি (২৮.৫ বিলিয়ন) এর ২ গুন সামরিক ব্যয় করতে সক্ষম। পরমানুর হিসাব বাদ দিলে সামরিক ক্ষেত্রে আজ দক্ষিন অনেক বেশি শক্তিশালি।

 

military imagemilitary image

 

ভারত তাদের দেশের নিরাপত্তার জন্য শুরু থেকেই পাকিস্থান চীন কে হুমকি হিসাবে দেখেছে। পাকিস্তান ও একই ভাবে । কিন্তু পাকিস্তান অনুসরন করেছে উত্তর কোরিয়ার নীতি। ঘাস খাবে তবু সামরিক ভাবে পাল্লা দিতেই হবে। ভারত দুই দেশের হুমকি সত্তেও নিয়েছে ভিন্ন পলিসি। তারা সামরিক খাতের সাথে অর্থনীতিতেও জোর দিয়েছে। ফলাফল আপনারা জানেন। আজ ভারতের সামরিক বাজেট পাকিস্থানের টোটাল বাজেট থেকেই বেশি। পাকিস্থানের এখন পাল্লা দিতে গিয়ে ঋনগ্রস্থ দেশে পরিণত হয়েছে। অথচ তারা যদি অনেক আগে থেকেই সঠিক পরিকল্পনা করত তবে হয়ত তাদের জিডিপি ভারতের অর্ধেক হতে পারত এতদিনে। সামরিক দিক থেকেও প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে হত না।

 

এবার আসি বাংলাদেশ আর বার্মা নিয়ে। বার্মা অনেক আগে স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে আমাদের তুলনায়। উত্তর কোরিয়া, পাকিস্থানের মত বার্মাও দীর্ঘকাল সামরিক শাষনের অধীন ছিল। ১৯৪৮ সালে স্বাধীন হবার পর এত বছরে দেশটার জিডিপি দাড়ায়ছে মাত্র ৬৭ বিলিয়ন ডলারে। তারাও পাকিস্থান, উত্তর কোরিয়ার নীতি অনুসরন করে সবার আগে ইয়াবা খেয়ে হলেও সামরিক বাহিনীর উন্নয়ন করেছে। ফলাফল, অগাধ সম্পদ থাকা সত্তেও জনগন ভাত না পেয়ে ইয়াবা খেয়ে দিন কাটায়। নিরপত্তার পেছনে এত খরচ অথচ নিজের দেশের মুল্যবান পাথর, স্যাফায়ার গুলা এই অস্ত্র কিনতে তুলে দেয় অন্য দেশের কাছে। অশিক্ষিত জনগন আবার এই সামরিক বাহিনীর পক্ষেই ছাপায় গায়। আর তাদের দেশের অস্ত্র গুলা দেশের কোন কাজে লাগছে কিনা জানা নায়, তবে আকাজে লাগছে।
 

 

বাংলাদেশ অন্যদিকে স্বাধীনতার পর থেকেই পড়ে মহা বিপদে। এখন ১৭ কোটি মানুষ। কিন্তু সামরিক শাষন শেষ হবার পর গণতন্ত্রের শুরু ১৯৯০ থেকেই বাংলাদেশ অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিতে থাকে। যার ফলে আজ আমাদের জিডিপি ২৫৪ বিলিয়ন। মাথাপিছুতেও , পাকিস্থান, মিয়ানমারকে ছাড়িয়ে।

 

তবে এখনো আমরা সুখয়-৩৫ এর মত বিমান কেনার আগে অর্থের অজুহাত দেই। আগের পোস্টে এটা নিয়ে বলেছি। ২০২৫ সালের পর হয়ত আমাদের অবস্থা এমন হবে যে আমাদের সামরিক বাজেট মিয়ানমারের পুরা বাজেটের অর্ধেকের বেশি। তারা পাল্লা দিতে যেয়ে ঠিকি পিছিয়ে পড়বে।

বাংলাদেশের এখন দরকার ধৈর্য এবং সঠিক ভাবে নিজেদের উন্নতি ধরে রাখা। রোহিঙ্গা ইস্যুতে অনেকে যুদ্ধের কথা বলতেছেন। এর আগে আমাদের নিচের বিষয় গুলা ভাবতে হবে।

 

১. আমরা দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছি অর্থনীতিতে, বার্মার সাথে এখনই কোন ভ্যাজালে গেলে আমাদের এই গতি থেমে যাবে। আমরা কি সেটা করতে রাজি আছি??

২. ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর টানা ৩ মাস হরতাল ডাকা হয়। গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতে আমাদের দেশে গার্মেন্সের ক্রেতারা এদেশে আসেনি। রানা প্লাজার পর এরকম পরিস্থিতি আমাদের লাইফ লাইন গার্মেন্টস কে অনেক পিছিয়ে দিয়েছে। আপনাদের কি মনে হয়, একটা যুদ্ধ বা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কোন ক্রেতা আসবে আমাদের দেশে??? ফলাফল পঙ্গু। সুযোগ নিবে আমাদের পাশের বিশেষ প্রতিবেশিরা। এই সু্যোগে পুরা বাজার ভারত দখল করবে এটা নিশ্চিত বলা যায়।

৩. চট্টগ্রাম বন্দর আমাদের লাইফ লাইন , মনে হয়না এই পরিস্তিতিতে কোন শীপ চাইবে এই বন্দরে ভীড়তে। তারা এটিকে এড়িয়ে যাবে।

 

৪. বার্মার কোন উন্নত শহর আছে কিনা জানা নায়। যা আছে সেটা রেংগুনে। এর অর্থ তাদেরকে আমরা আঘাত করলে তাদের খুব বেশি ক্ষতি করার মত শহর ও ওদের দেশে নাই। কিন্তু আমাদের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার অনেক উন্নত। এগুলা শেষ হয়ে যাবে।

 

এজন্য যারা চিল্লান এখনি পরমানু বানাতে হবে, বার্মার মত সব বাদ সামরিক বাহিনীতেই বিনিয়োগ করতে হবে তাদের বলি একটু ধৈর্য ধরুন। বাঘ এখনও শীশু। দাত, আর নখর উঠার সময় দিন। ওরা এমনিতেই আমাদের সাথে পারবে না যদি উত্তর কোরিয়া বা পাকিস্থানের মত নীতি চালিয়ে যাই। মনে রাখবেন, সিঙ্গাপুর খুব ছোট দেশ হয়েও আজ বিশ্বের ব্যায়বহুল সমরাস্ত্র কেনার সক্ষমতা রাখে।