একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশের বড় কোন প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশিরা সুযোগ পেত নিম্ন পদে। অধিকাংশ উচ্চপদ দখলে ছিল বিদেশিদের। এটাই যেন যুগ যুগের নিয়মে পরিণত হয়েছিল। বাংলাদেশিদের মেধার যোগ্য মূল্যায়নেও ব্যার্থ হয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান।

 

সময়ের আবর্তে তারুন্য তার মেধা, মনন, পরিশ্রম, প্রযুক্তির সাথে নিজেকে বদলে ফেলে কর্পোরেট জগৎকে বুঝিয়ে দিয়ে যাচ্ছে আমরাও পারি। বিশ্বাস করা কঠিন, আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারতে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর একজন বাংলাদেশি। জনাব জুনায়েদ আহমেদ গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে ভারতে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের হয়ে গুরুত্বপূর্ন এই পদে দায়িত্ব পেয়েছেন। এর আগে তিনি জিম ইয়ং কিমের ওয়ার্ল্ড ব্যাংক টিমে চীফ অব স্টাফ পদের দায়িত্বে ছিলেন।

 

জনাব জুনায়েদ আহমেদজনাব জুনায়েদ আহমেদ

 

আমাদের দেশেই পরিবর্তন দেখুন কর্পোরেট দুনিয়ায়। রুবাবা দৌলা ম্যাম গ্রামীনফোনের চীফ কমুউনিকেশন অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পাওয়া দিয়ে শুরু। এখন গ্রামীনফোনের চীফ মার্কেটিং অফিসার জনাব ইয়াসির আজমান, যিনি ইন্ডিয়ায় টেলিনরের সার্কেল বিজনেস হেড হিসাবে দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। গ্রামীনফোনের হিউম্যান রিসোর্সের চীফও বাংলাদেশি।

 

জনাব ইয়াসির আজমান জনাব ইয়াসির আজমান

 

মালয়েশিয়ার কোম্পানী রবি প্রথমবারের মত সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টরের দায়িত্বে দিয়েছেন একজন বাংলাদেশি, জনাব মো: মাহতাব উদ্দিন আহমেদকে।

 

ব্যাংকিং সেক্টরে জনাব রুমি আলি স্যার কে দিয়ে শুরু। এএনজেড গ্রিন্ডলেইস ব্যাংকের সিইও হিসাবে তার প্রতি আস্থা রেখেছে মাল্টি ন্যাশনাল ব্যাংকটি। সিটি ব্যাংক এনএ এর সিইও হয়েছেন বাংলাদেশি জনাব মামুন রশিদ। সর্বশেষ স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক মালয়েশিয়া  সিইও হিসাবে বেছে নিল আরেক বাংলাদেশি, জনাব আবরার আনোয়ার কে। এরকম অসংখ্য উদাহরন আছে কর্পোরেট দুনিয়ায়।

 

জনাব আবরার আনোয়ারজনাব আবরার আনোয়ার

 

উচ্চপদের জন্য বিদেশিরাই যোগ্য এই ধারণাকে ভ্রান্ত প্রমাণ করে এগিয়ে যাচ্ছে তরুন সমাজ। এই গতি অব্যাহত থাকবে সেটাই কাম্য। একসময় দেখা যাবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আমাদের দেশের তরুনদের অবাধ বিচরণ।