শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুব বেশি পরিবর্তন না করলে সাধারনত মানুষের জীবনে ৪ টা প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকে। প্রথমে কিন্টারগার্টেন বা প্রাইমারি টাইপের স্কুল। তারপর ৩য় বা ৬ষ্ঠ স্রেনীতে ভর্তি হয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা পর্যন্ত। এরপর কলেজ এবং সব শেষে বিশ্ববিদ্যালয়। স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজে ওঠার পর কিঞ্চিৎ স্বাধীনতা অনুভুত হয় যার পুর্নতা পায় বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে। জীবন নিয়ে ভাবা, কিছু করা আর প্রাপ্ত বয়স্ক বন্ধু বান্ধবীর ছোয়ায় রঙ্গিন জীবন সত্যিই অন্যরকম।  জীবনের পরিধি যেন বাড়তে থাকে। তবে সবকিছুর পর একটা সময় মন ফিরে যায় স্কুল জীবনে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের এত ঘনিষ্ঠ সফল বন্ধু, কলেজের প্রিয় বান্ধবি এদের সবকিছুর উর্ধে মন পড়ে থাকে স্কুল জীবনের বন্ধু গুলোর কাছে। সবায় হয়তো সমানভাবে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয় না, একেক জন একেক ভাবে এগিয়ে যায়। জীবন থেমে থাকে না। তবে একবার যদি সেই পুরান দিনের স্কুলের বন্ধুর সাথে দেখা হয় আবেগে আমরা আপ্লুত হয়ে পড়ি।

 

স্কুলে পড়াকালীন সময়ে যেই শিক্ষকের ভয়ে সবসময় চিন্তিত থাকতে হত, যার বেতাঘাতের ভয়ে তাকে নিয়ে কতশত কটুক্তি তাকে দেখলে এখন সম্মানে মাথায় বসিয়ে রাখতে মন চাই। ভালবাসায় প্রান ভরে যায়।

 

 

স্কুল জীবনের সাথে আসলে জীবনের অন্য কোন অধ্যায়ের তুলনা চলে না। একেকটা মধুর স্মৃতি জীবনের একেকটা সফলতা। বেচে থাকার অনুপ্রেরনা। এশিয়া মহাদেশের ৫ম প্রাচীনতম আর বাংলাদেশের ২য় প্রাচীনতম স্কুল, প্রানের প্রিয় যশোর জিলা স্কুলের পথচলা সেই ১৮৩৮ সাথে। যশোর জিলা স্কুলের ১৮০ বছর উদযাপন আর প্রাক্তন ছাত্র পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২২ ও ২৩ শে ডিসেম্বর স্কুল প্রাঙ্গনে। দেখা হবে জীবনের সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের সাথে।  তাদের সাথে দেখা হবে যাদের হাতে আমাদের জীবনের ভীত স্থাপিত হয়েছে সেইসব স্রদ্ধেয় শিক্ষক যারা এখনও আছেন।

 

 

ওয়েব সাইট থেকে সংগৃহীত প্রানের প্রিয় স্কুলের কিছু তথ্যঃ

 

উনবিংশ শতাব্দীর  সূচনালগ্নে বৃটিশ শাসনের  প্রভাব ও  প্রতিপত্তিতে সুলতানী ও  মোঘল আমলের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকাংশে অচল হয়ে পড়ে।ফলস্বরুপ দারুণ অবহেলা ও উপেক্ষার শিকার হয় এ সব প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি এ দেশের মানুষের সৃষ্ট অনুরাগ একটি   নতুন ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্র তৈরী করে। ফলে প্রতিষ্ঠা পেতে থাকে  আধুনিক স্কুল ও  কলেজ। ১৮২৮  সালে লর্ড বেন্টিংক ভারত বর্ষের শাসন  কর্তা নিযুক্ত হবার পর ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে এ দেশে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তারই একটি ‌‌‌‌‌‌‌‌“ যশোর জিলা স্কুল” যা ১৮৩৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারী স্থাপিত হয়।

 

কোম্পানী আমলে পাশ্চাত্য শিক্ষা ভারত বর্ষে প্রচলনের নিমিত্তে এদেশে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয় । ঐ কর্মসূচীর প্রথম পর্যায়ে উপমহাদেশে যে চারটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয় ‌‌‍‌‍‌‌‌‌‌‌‌‌‌‍‍‌‌‌‌‌‌‌‌“ যশোর জিলা স্কুল” তার অন্যতম। সূচনালগ্নে নাম ছিল ‌‌‌‌‌‌‌‌“ যশোর মডেল স্কুল” যা ১৮৭২ সালে ‌‌‍‌‍‌‌‌‌‌‌‌‌‌‍‍‌‌‌‌‌‌‌‌“ যশোর জিলা স্কুল”।

 

প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ জন ইংরেজসহ মোট ৮৭ জন উৎসাহী দাতাদের মধ্যে ১১ জন দাতার নাম সম্বলিত একটি খন্ডিত তালিকা পাওয়া যায় , যাদের আর্থিক অবদানে যাত্রা শুরু হয়েছিল ‌‌‌‌‌‌‌‌“ যশোর মডেল স্কুল”দাতাদের মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া যায় তারা হলেন বাবু রাম রতন ১০০০/- , বাবু নীল কোমল পাল চৌধুরী ৪০০/-, রাজা বরদাকান্ত রায় ৪০০/-, দ্বারকা নাথ ঠাকুর ২৫০/-, বাবু প্রাণ নাথ চৌধুরী ১০০/-, বাবু শুক দাস রায় ২৫০/-, বাবু রাধা মোহন ঘোষ চৌধুরী ২০০/-,বাবু কালীকান্ত পোদ্দার ৫০/-, জনাব মোঃ আব্দুল্লাহ (উকিল) ১০/-, জনাব মোঃ করিম ৫/- দান করেন।

 

উল্লেখিত বিদ্যুৎসাহী ব্যক্তিদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় কোম্পানীর পক্ষে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ৩ ফেব্রুয়ারী ১৮৩৮ সালে এক ঘোষণা বলে যশোর জিলা স্কূল স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

 

 

১৮৩৮ সালে নলদী পরগনার জমিদার পত্নী রাণী কাত্যায়নী কাছারী বাড়িতে ১৩২ জন ছাত্র নিয়ে যাত্রা শুরু হয়। তম্মধ্যে মুসলিম ছাত্র সংখ্যা ছিল মাত্র ১৪ জন। ১৮৭২ সালে যশোর মডেল স্কুলটি জমিদার পত্নীর কাছারী বাড়ী থেকে যশোর শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে খড়কী মৌজায় ২৫ বিঘা জায়গায় এক মনোরম পরিবেশে (বর্তমান স্থান) স্থানান্তরিত হয় এবং যশোর জিলা স্কুল নামে অভিহিত হয়।

 

বাংলাদেশের প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের অন্যতম যশোর জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠানলগ্নে থেকে এদেশের অগণিত ছাত্রের জন্য উচ্চ শিক্ষার পথ উন্মুক্ত ও প্রসারিত করেছে। এই স্কুলের বিপুল সংখ্যক ছাত্র আজ বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উচ্চপদে অধিষ্টিত হয়ে দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করেছেন। এমনকি বাংলাদেশের বাইরে বহিঃবিশ্বে ও তারা বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে নিয়োজিত রয়েছেন এবং সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের  সুনাম বৃদ্ধি করেছেন।  

- Maddy [Student of Jessore Zilla School, Batch -2005]