কাঁদতে থাকেন যত পারেন। আমরা তো মানুষ তাই না? আমাদের ইমোশন বলে একটা ব্যাপার আছে। ইমোশন কন্ট্রোল করা ভাল, তবে একেবারে চেপে রাখা স্বাথ্যসম্পন্ন না। বুকের ভেতরটা কে একটু হালকা হওয়ার সুযোগ দিয়েন। প্রথমেই নেগেটিভ বা জেলাসি টাইপের কথা বলার জন্য দুঃখিত। তবে এইটাই বাস্তবতা।

 

অভিনন্দন সকল ভাইয়া আপুদের যারা আজকে তাদের কাংক্ষিত সফলতা অর্জন করলেন। অভিনন্দন ৩৬ তম বিসিএস এ সুপারিশপ্রাপ্তদের। যারা আজ সফলতা পেয়েছেন তারা নিশ্চয় যারা সফলতা পায়নি, তাদের থেকে বেশি পরিস্রম করেছেন। যেই ভাইয়া বা আপু আজ নন ক্যাডারে বা যিনি আজ ক্যাডার বা নন ক্যাডার কোথাউ নিজেকে খুজে পেলেন না, মনে রাখবেন আপনি চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি ভাবছেন, তারপর ও কোথাউ না কোথাউ আপনি পিছিয়ে ছিলেন। আপনি আজ নিজেকে ক্যাডারদের মাঝে খুজে না পাওয়ায়  ব্যার্থ হয়ে যাননি। এইটা আপনার একটা অভিজ্ঞতা। আপনি ব্যার্থ তখনই হবেন যদি আপনি আপনার চেষ্টা ছেড়ে দেন। তবে হ্যাঁ, যাদের বয়স শেষ তাদের জন্য সমবেদনা। তাদেরকে অন্য সেক্টরে বা অন্য কোথাউ চেষ্টা করতে হবে। সবাই কিন্তু বিসিএস ক্যাডার হবে না। আর ভাগ্য বলে কিছু একটা আছে, এইটাও ভুলে গেলে হবে না। তবে ওয়যে বলেছিলাম, আপনার চেষ্টাতে কোথাউ হয়তো কোন ঘাটতি থেকে গিয়েছিল।

 

লেখার শুরুতেয় কাঁদার কথা বলেছি। আসলে মন খারাপকে আপনি থামিয়ে রাখতে পারবেন না। যদি পর্যাপ্ত চেষ্টা না করেয় মন খারাপ করেন, সেইটা মন খারাপ না, ঢং। আর পর্যাপ্ত চেষ্টা করেও যারা বুঝতে পারেননি সমস্যা কোথায় ছিল তারা আজ মন খারাপ করে নিন। কাছের মানুষের সাথে কষ্ট শেয়ার করুন। প্রয়োজন হলে আজ রাতে চোখের পানিতে বালিশ ভিভিয়ে ফেলুন। তবে হ্যাঁ সেইটা শুধুমাত্র আপনার বুকের জমে থাকা কষ্ট হালকা করার জন্য। দিনের পর দিন মন খারাপ করে বসে থাকলে আপনি শেষ।

 

নতুন উদ্যমে আবার শুরু করে দিন প্রস্তুতি। সফলদের সফলতায় অনুপ্রানিত হন। যাদের কাছের বন্ধু আজ ক্যাডার হল কিন্তু আপনি হতে পারলেন না, তাদের মানসিক অবস্থা আজ অন্যরকম। নিজের না পাওয়াকে ভুলে বন্ধুর সফলতায় উদযাপন করা অনেক কঠিন। তবে বিশ্বাস করুন এই চরম মানসিক কঠিন কাজটি আপনি যদি করতে পারেন, আপনি এর বিনিময়ে অনেক বড় প্রতিদান পাবেন।  প্রথমত তারপ্রতি আপনার ভালবাসা, আপনার প্রশংশা আপনার পজেটিভ এটিচিউড এইসব কিছু আপনাকে একজন আশাবাদী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। আপনার বন্ধু তার সফলতা উদযাপনে আপনাকে কাছে পেয়ে, আপনার প্রতি তার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ভালবাসা বাড়াবে। যেকোন সময়ে তার কাছ থেকে আপনি পজেটিভ রেস্পন্স পাবেন।

 

আপনি সুপারিশকৃত হলেন না, বন্ধু হয়ে গেল – এইটা ভাবলে আপনি কখনো মনকে মানাতে পারবেন না। বরং এইভাবে ভাবুন, একজন পুলিশের এ এস পি আপনার বন্ধু। আকজন এডমিন ক্যাডার আপনার বন্ধু। আপনি গর্বিতবোধ করুন একজন ফরেন ক্যাডার আপনার বন্ধু। এমন ভাবে চিন্তা করলে আপনি মানসিক প্রশান্তি পাবেন। তাকে দেখে আপনি নিজেও অনুপ্রানিত হবেন। আপনার চেষ্টা আর পরিশ্রম বাড়িয়ে দিন।

অপেক্ষা করুন আগামি বিসিএস এর রেজাল্টের যেদিন আপনি এই ভারচুয়াল দুনিয়ার নীল স্ক্রিনে একটা স্ট্যটাস দিবেন “ আলহামদুলিল্লাহ বিসিএস এ সুপারিশকৃত হলাম” । আপনার কাছের মানুষ সহ আপনার বাবা মা’র আপনাকে নিয়ে গর্বের শেষ থাকবে না। শুভ কামনা রইল।       

- Maddy