আপনি মনে করে দেখুন সর্বশেষ আপনার কোন বন্ধুর যখন প্রমোশন হয়েছিল বা বেশি বেতনে নতুন চাকরি পেয়েছিল, আপনার অনুভুতি কি ছিল? আপনি খুশি হয়েছিলেন নাকি হিংসা হচ্ছিলো?

এবার আপনার নিজের শেষ সাফলতার কথা মনে করুন। তখন নিজের সম্পর্কে আপনার কতটা ভাললাগা কাজ করেছিল  আর কতটা আনন্দিত হয়েছিলেন আপনি?

আসলে যখন চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বেশি থাকে, আমাদের নিজেদের উপার্জন থেকে ব্যয় বেশি হয় তখন মাঝেমাঝে মনে হয় আমার ওয় বন্ধুর মত আমার কেন বেতন বাড়ে না, আমি কেন আরো ভাল চাকরি পায় না?

 

কিন্তু একবার চিন্তা করে দেখুনতো, কতই না ভাল হত যদি আপনি অন্যের ভাল সংবাদেও নিজের ভাল সংবাদের মতনই খুশি হতেন! 

আমেরিকান জার্নাল ওব এপিডেমিওলোজিতে প্রকাশিত হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাডি মতে অন্যের সাফল্যে নিজের আনন্দিত হওয়া আশাবাদী হওয়ার অন্যতম উপাদান। 


এই স্টাডিতে ৭০,০০০ জনকে পর্যবেক্ষন করা হয় এবং যারা আশাবাদী তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার অনেক কম। 

এর মানে কি বুঝলেন অন্যের সফলতায় আমি খুশি, ব্যাস এইটুকুই? আসলে এটা সম্পুর্ন আপনার এটিচিইড।  আপানার কাছের বা পরিচিত বন্ধুর সাফল্যে আপনার প্রশংশিত মন্তব্য বা ভালবাসার প্রকাশ তার সাফল্যকে আরো উপভোগ্য করে তুলবে। জীবনের কিছু সময়ে এমন এটিচিউডের বহিঃপ্রকাশ আসলে চ্যালেঞ্জিং। তবে এটা করতে পারলে সমাজ থেকে হতাশা কমবে, ভালবাসা বাড়বে, আশাবাদী মানুষ অবশ্যয় এই ভালবাসাপুর্ন এটিচিউডের রিটার্ন পাবে।

 

আসুন এখন দেখি পজেটিভ এটিচিউড কিভাবে আমাদেরকে সফলতা অর্জনে সহায়তা করে:

 

১. স্বাস্থ্য: 
অন্যের সফলতা আমরা যদি নিজেদের সফলতার মত করে উদযাপন করতে পারি তাহলে আমাদের খুব দ্রুত মানষিক উন্নতি হবে, সবসময় হাসিখুশি থাকার ক্ষমতা তরান্বিত করবে।

 

এবং ভবিষ্যতে এটি আমাদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে যথেষ্ট সহায়তা করবে। উপরে উল্লেখিত স্টাডি অনুযায়ী এটি শুধু হৃদরোগ সংক্রান্ত কারনে মৃত্যুর হার কমায় না, স্ট্রোক, রেস্পাইরেটরি, ইনফেকশন, ক্যান্সার ইত্যাদির কারনে আকস্মিক মৃত্যুর হারও কমায়।


পজিটিভ এটিচিউড,  অন্যের সাফল্যে আনন্দিত হওয়ার রিটার্ন হিসেবে এমন স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সত্যিই খুব বড় পাওয়া।

 

২. স্যটিস্ফেকশন:

অন্যের সাফল্য উতসাহ  আর স্বার্থহীনভাবে গ্রহন করার মধ্য দিয়ে আমার ব্যাপক ভাবে স্যাটিস্ফেকশন পেতে পারি। একটা উদাহরন দেই। ধরুন আপনার বন্ধুর একটা বড় কোম্পানিতে ভাল বেতনে চাকরি হল। আপনার অনুভুতি কেমন হবে আপনি বুঝতে পারছেন না। আপনি খুশি হতে পারেন তবে ঐ মুহুর্তে আপনার মনে হতে পারে আপনি তার থেকে কম সফল যেটা থেকে আপনার আবার খারাপ লাগবে। আপনি এমনভাবে উদযাপন করুন, যেন এটা আপনারই সাফল্য। আমি পজিটিভ ভাবে চিন্তা করুন। আপনি এইটা মনে করুন যে, এত বড় কোম্পানিতে আপনার পরিচিত এবং কাছের একজন মানুষ আছে। দেখবেন আপনার মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি পাবে।

ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস গার্ল্ফ্রেন্ড এর ফাউন্ডার তাই গুডউইন এর মতে,  অন্যের সফলতা উদযাপনের মধ্য দিয়ে তার সাথে ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে যখন লক্ষ্য করে তার সাফল্যে আপনি নিজের সফলতার মত খুশি হন এবং উদযাপন করেন, আপনার যেকোনো ব্যাপারে তার পজিটিভ রেসপন্স থাকে।

 

৩. সফলতা:
অন্যের সাফল্যে আপনি যখন উদযাপন করবেন, তার সাথে আপনার ঘনিষ্ঠতা আরো বাড়বে। আপনাদের মধ্যে বিভিন্ন ব্যাপারে শেয়ারিং হবে। ধরুন আপনার বন্ধু যেখানে চাকরি করে সেখানেয় এখন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে এবং আপনি আগ্রহি সেক্ষেত্রে আপনার বন্ধুর সাথে ভাল সম্পর্ক থাকলে সে আপনাকে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারে। আবার সফল বন্ধুদের সাথে আপনি যত বেশি চলাফেরা করবেন, আপনার মধ্যে সফল হওয়ার অনুপ্রেরণা তত বাড়বে। আপনি সফলতা পাবেন।

 

৪. ইচ্ছা শক্তি :
অন্যের জন্য নিজের সুযোগ যদি চলে যায়, তাতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কাছের মানুষের অর্জিত সাফল্য যখন আপনি মন থেকে উদযাপন করা শিখবেন, আপনার ইচ্ছাশক্তি বৃদ্ধি পাবে। আমেরিকান ফুটবল খেলোয়াড় এবং কোচ ভিন্স লোম্বার্ডির মতে, সামর্থের অভাব, শক্তির অভাব বা জ্ঞ্যানের অভাব  একজন সফল ব্যাক্তি এবং অন্যদের মধ্যে পার্থক্য না। বরং সফলতা পাওয়ার দৃড় ইচ্ছাই পার্থক্য।  

 

অন্যদের সফলতা উদযাপন করলে  আমাদের ভিতরের ঘুমন্ত ইচ্ছাশক্তি জেগে ওঠে। 


উপরের কথা গুলো যদি বুঝে থাকেন এবং আপনার ভাল লাগে, তাহলে অন্যের সাফল্য নিজের সাফল্য উদযাপন এর মতই উদযাপন করুন। আপনার পরিচিতদের সফলতায় তাদেরকে অভিনন্দন জানান, গিফট পাঠাতে পারেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান। আপনার পরিবারের সাথে শেয়ার করুন। একটা সুন্দর হাস্যজ্জ্বল পরিবেশ তৈরি করুন। আপনি নিজেও সফলতা পাবেন।

 

অনুবাদিত। সুত্র: সাকসেস ম্যাগাজিন।