৩৬তম বিসিএসের ফলাফল নিয়ে কিছু ভাবনা:

এবার অনেক ডাক্তার, প্রকৌশলী বিসিএস এর প্রথমদিকের স্থানগুলো অধিকার করেছে। অনেকেই বলছেন পেশাজীবীরা কেন তাদের অর্জিত দক্ষতা ব্যবহার না করে সাধারণ ক্যাডারে আসবে। কারণগুলো কি আমরা ভেবে দেখেছি?

 

১। প্রকৌশল ভিত্তিক সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিচালনা বোর্ড এর প্রধান সহ অন্যান্য সদস্য প্রশাসন ও নন টেকনিক্যাল ব্যক্তির প্রাধান্য, প্রকৌশলীদের অবস্থান গুরুত্বহীন রাখা হয়।অনেক প্রকৌশলী বাবা নিজের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে ছেলেমেয়েকে সাধারণ ক্যাডারে যেতে উৎসাহ দেন।

 

২। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে নারী ডাক্তারদের জন্য টয়লেটের কিরকম ব্যবস্থা কেউ কি খোঁজ রাখেন? অনেক ডাক্তার দিনের পর দিন পদোন্নতি ছাড়া মেডিক্যাল অফিসার, কৃষি অফিসে কৃষি কর্মকর্তা হয়ে থাকেন।প্রশাসনে পদন্নোতি নিয়ে এরকম জটিলতা নেই। ডাক্তার, কৃষিবিদ কে তার চেয়ে বিসিএস জুনিয়র ইউএনও এর অধীনে কাজ করতে হয়।

 

৩/ প্রশাসন ক্যাডারে যে মানের আবাসন সুবিধা পাওয়া যায়, তা কি ডাক্তার/ প্রকৌশলী পান? একই কথা গাড়ির লোন এবং মেইনটেইনেন্স সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও!

 

সুযোগ সুবিধার এরকম অসুষম বন্টন ঘটলে, অধিকতর মেধাবীদের অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীদের অধীনস্থ করা হলে এরকম ঘটনা ঘটতেই থাকবে। এজন্য পলিসি আগে ঠিক করা প্রয়োজন। এখন সবাই খেলার দলের টিম ম্যানেজার হতে চাইছে।এরকম হলে ভালো খেলোয়াড় পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।

 

যোগ্য ব্যক্তিকে তার প্রাপ্য মর্যাদা না দিলে, সে নিজের পেশা ছেড়ে যেখানে মর্যাদা এবং সুযোগ সুবিধা বেশি সেখানে যেতে চাইবে! এখনই পলিসি ঠিক না করা হলে আমরা অদূর ভবিষ্যতে দক্ষ বিসিএস ক্যাডার পেলেও, দক্ষ পেশাজীবীর ( বৈজ্ঞানিক,গবেষক, শিক্ষক, চিকিৎসক,প্রকৌশলী......) সংকটে পড়তে যাচ্ছি।

- Farzana Nasreen, Lecturer, Jagannath University 

Former Assistant Director, Bangladesh Bank. BBA, MBA, Department of Finance, University of Dhaka