স্বাধীনতা দিয়ে শুরু। আজ আমাদের অর্থনীতি পাকিস্তাকে ছাড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীতিয় বৃহৎ অর্থনীতির পথে। ।
স্বাধীনতা আমাদের কী দিয়েছে। এরকম প্রশ্ন অনেকেই করেন। আমরা নিজেদের নিয়ে গর্ব না করে অপরের উন্নতিতে হিংসা করি। দেশের ভাল কিছুকেও আমরা কেন জানি এড়িয়ে খারাপের খাতে ফেলার চেষ্টা করে থাকি।
আগেই বলে রাখি, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে যতটুকু অভিজ্ঞতা হয়েছে তা হল ভারত এবং পাকিস্তান মনে করে বাংলাদেশ হচ্ছে গরিব একটা দেশ। মূলত এর প্রেক্ষিতেই লেখা।


বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে পূর্ব পাকিস্থান থাকাকালীন ১৯৬০, ১৯৬১, ১৯৬২, ১৯৬৩, ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানের থেকে বৃহৎ অর্থনীতির দেশ ছিল। আসুন জিডিপি এর আকার গুলো দেখে নেওয়া যাক-

 

শোষনের মাত্রা তিব্রতর হবার কারনে ধীরে ধীরে আমাদের থেকে ৫ গুন বড় রাষ্ট্রটি আমাদেরকে ছাড়িয়ে এগিয়ে যেতে থাকে। এই সময়ের জিডিপি এর তুলনা দেখে নিন

 



স্বাধীনতার পর আজ অবধি শুধু ১৯৭৩, ১৯৭৪, ১৯৭৫ সালে আমাদের জিডিপি ওদের থেকে বেশী ছিল। অর্থাৎ আমরা ছিলাম এই অঞ্চলের ২য় বৃহৎ অর্থনীতি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু কে হত্যা এবং সামরিক শাষন জারি হবার পর অর্থনীতি বিশাল ধাক্কা খায়। যার প্রভাব ১৯৭৬ সালে পড়ে। জিডিপি এর আকার প্রায় ৫২% সংকুচিত হয়ে ১৯.৪০ থেকে কমে ১০.০৮ বিলিয়নে দাঁড়ায়।
সর্বশেষ ২০১৭ সালের প্রাক্কলিত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.২৪% এ দাঁড়ায়, আর মাথা পিছু আয় দাঁড়ায় $১৬০২ মার্কিন ডলার যা গতবছর ছিল $১৪৬৫।
২০১৭ সালে পাকিস্থানের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.২৮%। আর মাথা পিছু আয় ২০১৫ সাল থেকে ২.৪% বা $৪৪ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে.২০১৬ তে হয় $১৫৬১ ডলার

 

২০১৭ সালে তাদের মাথা পিছু আয় হয়েছে ১৬২৯ ডলার যা আগের বছরের থেকে ৪.৩৫% বেশি।
আমাদের বিগত চার বছরে গড়ে মাথাপিছু আয় বেড়েছে প্রায় ১১.০৪% হারে। যেখানে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এটা ছিল্ ৪% এর নিচে। যদি আমরা এই গতি অব্যাহত রাখতে পারি তবে কম্পাউন্ড হিসাবে ২০৩০ সাল নাগাদ আমাদের মাথাপিছু আয় দাড়ানোর কথা প্রায় $৬,২২১ মার্কিন ডলার।

 

মাথা পিছু আয়ের প্রবৃদ্ধি বর্তমান হারে অব্যাহত থাকলে আশা করা যায় ২০১৮ সালে পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ।

এবার আসি বাজেটে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আমাদের বাজেট এবার ৪,০০,২৬৬ কোটি। ১৯৭২ সালে অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ সাহেব বাজেট দিয়েছিলেন ৭৮৬ কোটি। অর্থাৎ বাজেটের আকার বেড়েছে প্রায় ৫০৯ গুন। ২০০৯ সালে সরকার মাত্র ৯১০০০ কোটি টাকার বাজেট পেশ করে যা এখন ৪ লাখ এ ছুয়েছে। হাজার কোটি টাকার বাজেট ওই ২০০৯ এই শেষ। এর পর থেকেই লক্ষ কোটি টাকার বাজেট শুরু।

পাকিস্তান এর বাজেট নিয়ে বলতে গেলে আমাদের বলতে হবে তারা আমদের থেকে ৫ গুন বড় দেশ। তাদের বাজেট এবার ৪,৭৭,৮০০ কোটি পাকিস্থানি রুপি। বিনিময় হার ১ পাকি রুপি= ০.৭৭ বাংলাদেশি পয়সা। সে হিসাবে আমাদের টাকায় পাকিস্থানের বাজেট ৩,৬৭,৯০৬ কোটি টাকার সমান। সুখবর হল এই ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এসে আমাদের বাজেট্ পাকিস্থানের বাজেটকে ছাড়িয়ে গেছে। যা প্রায় ১০% বেশি।

 

ইতিমধ্যে আমরা বাজেট ও মাথা পিছু জিডিপিতে পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছি।
আর জিডিপির প্রবৃদ্ধি যদি আমরা বর্তমান হারে অব্যাহত রাখতে পারি, তবে ধারনা করা যায় ২০২৪ অথবা ২০২৫ সালে দক্ষিন এশিয়ায় দ্বীতিয় বৃহৎ অর্থনীতি হবার সুযোগ আমাদের সামনে। ১৯৭৫ সালে যেই গৌরব আমরা হারিয়েছি সেটা পুনরায় ফিরে পেতে আজ এতগুলি বছর চলে গেল।