মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসাবে অন্যান্য মুসলিম দেশ গুলার কাছে পাকিস্তানের বিশেষ অবস্থান রয়েছে। প্রায় কিছু মানুষ পারমাণবিক শক্তিধর বলে পাকিস্তানকে প্রশংসায় ভাসিয়ে নিজ দেশকে হেয় করে থাকেন। আফসোছের সাগরে হাবুডুবু খেতে খেতে একটু বাস্তবতায় ফিরে আসা যাক।

 

রুশ আফগান যুদ্ধে পাকিস্তান আমেরিকার যোগসাজসে আফগান মুক্তিকামীদের পাশে দাঁড়ায়। রুশ ইনভেশন শেষ হলে পাকিস্তানের সাথে আফগান মুক্তিকামীদের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায়। যুদ্ধ তার রেশ রেখে যায় মানুষের চিন্তায়। স্বাভাবিক জীবনে যার প্রভাব অবশ্যম্ভাবি। যুদ্ধ পরবর্তি বিশৃংখলা থেকে স্থিতাবস্তা ফিরিয়ে আনা সব থেকে বড় পরীক্ষা। অস্থির আফগানস্থানে ক্ষমতার পালাবদলে উগ্রপন্থিরা ক্ষমতা নেবার পর পাকিস্তান তাদের সমর্থন দিয়েছে। যার ফলেই আলকায়েদার মত সংগঠনের সৃষ্টি। আগুন নিয়ে খেলা খুব সাহসের কাজ। কিন্তু সেটাকে নিয়ন্ত্রন করার ব্যাবস্থা থাকা উচিত। যা হবার সেটাই হয়েছে। আমেরিকার হামলায় তোরাবোরা পাহাড় যখন ধংসস্তুপ, বিন লাদেন তখন পাকিস্তানের এবোটাবাদে সেনাবাহিনীর ক্যান্টনমেন্টের খুব কাছে নিশ্চিন্তে ঘরসংসার করছেন। এটা কারো বুঝতে বাকি ছিল না যে পাকিস্তান তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে রেখেছে। পরিণতি, পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের আকাশসীমাকে তোয়াক্কা না করে আমেরিকার এবোটাবাদে অভিযান।

 

পাকিস্তানের আইএসআই কাশ্মির ইস্যুতে নিজেদের সেনাবাহীনিকে ব্যাবহার না করে গড়ে তোলে লস্করি তোইয়েবা, জয়েসি মোহাম্মদের মত কিছু গ্রুপ। চোরা গুপ্তা হামলা করে তারা কিন্তু কাশ্মিরি লোকজনের উপকার করতে পেরেছে কিনা জানি না তবে অনেক মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। স্বাধীনতার প্রশ্নে এরকম জংগি সংগঠনকে অস্ত্র তুলে দেওয়া বা প্রশিক্ষন দেওয়া কি একমাত্র পথ?? বরং সন্ত্রাসি হামলা গুলা কাশ্মিরি ভাইদের আন্দলোনকে সন্ত্রাসী তকমা লাগিয়ে ইন্ডিয়া ফায়দা লুটেছে।

 

আমাদের দেশের কথায় ধরি। আরসা যখন বার্মা সেনা চৌকিতে হামলা করল, ফেবু ভরে স্টাটাসেএ বন্যা। কেউ আমিন না লিখে যাবেন না, আলহামদুলিল্লাহ, উচিত কাজ হয়েছে ইত্যাদি মন্তব্যে। তখন আমার মনে হয়েছে তাদের এই কাজের বিনিময়ে জীবন দিতে হবে সাধারণ রোহিংগাদের। ফলাফল সেটাই বলে। হাজার মানুষের জীবন গেল। শত শত গ্রাম পূড়ল। কই তখন আরসাকে আর দেখা যায়নিতো? তারা ভয়ে গর্তে মুখ লুকিয়া এক তরফা অস্ত্র বিরতি ঘোষনা করেই দায়ীত্ব শেষ।

 

বাংলাদেশকে কূটনৈতিক যুদ্ধে নেমে প্রমাণ করা লেগেছে সাধারণ রোহিংগারা জংগি না। বার্মাও ইন্ডিয়ার মত সবাইকে জংগি তকমা দিয়ে হালাল করতে চেয়েছে তাদের অভিযান। কেউ কিন্তু আরসাকে দায়ি করছে না। প্রশ্ন হল আরসা কি জানত না এরকম পরিণতি হতে চলেছে? অবশ্যই জানত। জানার পরও তারা এটা করেছে। তারপরো আরসা অনেকের কাছে বীর।

 

ফিরে আসি পাকিস্তান প্রসংগে। পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তানকে বিনা অনুমতিতে মার্কিন বিমানের বোম্বিং খেতে হইছে। নিজের দেশের মানুষকে বাচানোর রাস্তা পাকিস্তানের ছিল না। একের পর এক গ্রাম বোমা বর্ষনে শেষ হয়ে গেছে। কি লাভ হল তাইলে এই পরমাণু বোমা থেকে? যেখানে নিজের দেশে অন্যে এসে বোমা ফেলে যায়। চুপ করে পরে মৌন সম্মতি দিয়ে সেই মার্কিনদের সাথেই নিজ দেশে বোমা ফেলতে হয়? বোম ফেলালেই সমাধান হয়না সেটাও তারা পরবর্তিতে টের পেয়েছে। প্রতি বছর শত শত জংগি হামলায় ধুকেছে তাদের দেশ, তাদের অর্থনীতি। স্কুলের নিষ্পাপ বাচ্চা থেকে শুরু করে, জানাজায় দাঁড়ানো সাধারন মানুষ, কেউ নিস্তার পায়নি। ঈদের দিন, পবিত্র রমজান মাসেও ঝরেছে রক্ত।

 

বার্মা ইস্যুতে যারা বলছেন রোহিংগাদের প্রশিক্ষন, অস্ত্র দিয়ে রাখাইন স্বাধীন করা হোক, তারা আর যাই হোক সুস্থ নয়। আগুন নিয়ে খেললে সেটা আপনার হাত পূড়াবেনা সেই নিশচয়তা কেউ দিতে পারেনি। পাকিস্তান ও পারেনি। তাদের হাত তারাই পুড়িয়েছে। ব্যাক্তিগত অভিমত। ভুল বলে থাকলে যুক্তি দেন। মেনে নিব। অযথা কাউকে ডিফেন্ড করার নামে অন্ধের মত ব্যাবহার কাম্য নয়।