আমাদের সামাজে ধাপে ধাপে বিভিন্ন পরিবর্তন হয়েছে। একটা সময় ছিল যখন নারীরা ঘর থেকে বের হতে পারতনা। আজ তারা উচ্চশিক্ষিত। প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন দেশি বিদেশি কোম্পানিতে কর্মরত। নারীর ক্ষমতায়নের এই যুগে নারীদের সামনে এগিয়ে যাওয়া অপ্রতিরোধ্য। ব্যাপারগুলো আসলেই কি এত সহজ? নারীদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে এখনও নানামুখী বাধা অতিক্রম করতে হায়। কম বেশি সবায় এগুলা নিয়ে আমরা অবগত। তবে আশেপাশের উচ্চশিক্ষিত কিছু মানুষের ধ্যান ধারনা, একজনের ব্যাক্তিগত বিষয়ে তাদের জানার আগ্রহ সত্যিই অবাক করে।

 

 

এই ২০১৭ সালে এসে এখনও যেমন বাল্য বিবাহ হচ্ছে, অল্প বয়সে একজন মেয়েকে মায়ের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, আবার সমাজের অনেকেই উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্যে বা ক্যারিয়ার ওরিয়েন্টেড হওয়ার কারনে দেরিতে বিয়ে করছে। এইটা সম্পুর্ন তাদের ব্যাক্তিগত ব্যাপার। হয়তোবা ক্যারিয়ার বা উচ্চশিক্ষা না, অন্য কোন কারনে একজন এখনও বিয়ে করেননি। আপনি তার ভাল চাচ্ছেন। তার সুখের সংসার দেখতে চাচ্ছেন। আপনি তার শুভাকাঙ্ক্ষী। ভাল কথা। আপনি প্রয়োজন মনে করলে তার সাথে একবার কথা বলেন। কিন্তু ক্যানো প্রতিদিন তাকে পোক করতে হবে? ক্যানো সবার সামনে তাকে আংগুল দিয়ে আইডেন্টিফাই করতে হবে যে সে অবিবাহিত?

 

 

ক্যানো যেকোন ইস্যুতে তাকে ইংগিত করে কথা বলতে হবে? একজন মানুষকে তার ব্যাক্তিগত ব্যাপারে বার বার প্রশ্ন করলে তার কখনওই ভাল লাগে না। ভদ্রতার খাতিরে কেউ হয়তো রাগান্বিত হয় না, তার মানে এই না আপনি সারাদিন তাকে এক কথা জিজ্ঞেস করবেন! ইদানিং অনেক মেয়ে এবং ছেলেও দেরিতে বাচ্চা নিতে আগ্রহী। এখানে দুই রকম কারন থাকতে পারে। ১ম কারন তাদের দুইজনের নিজ ইচ্ছাতে তারা দেরি করছে। ২য় কারন তাদের ব্যাক্তিগত কোন সমস্যা আছে। কারন যেইটাই হোক না ক্যানো বাচ্চাটা কার হবে? বাচ্চাটাকে কে মানুষ করবে? নিশ্চয় আপনি না। যার বাচ্চা তার চিন্তা আপনার থেকে অনেক বেশি। তাহলে ক্যানো শুধু শুধু আপনার জানার এত আগ্রহ? মনে রাখবেন, আপনার বিব্রতকর প্রশ্ন তাকে শুধু কষ্টই দেয় না, আপনার প্রতি চরম বিরক্তর জন্ম দেয়।

 

তাই এধরনের প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকুন। একে অপরের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন। ব্যাক্তিগত ব্যাপারে আগ্রহ দেখানো বন্ধ করুন। উন্নত মানসিকতার কর্ম  পরিবেশ নিশ্চিত করুন।