ধরুন, আপনি ঘুমে আছেন, কিছু হিসাব থাকে না। হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল। দেখলেন চারিদিকে জম্বি। অর্ধমৃত মানুষ হাঠছে, আর যাকে পাচ্ছে তাকেই খেয়ে ফেলছে। আপনার পুরো এলাকা কুয়ারেন্টিন জোন ঘোষনা করা হয়েছে। কোন ভাবে আপনি বেচে ওই এলাকার বাইরে যেতে চাচ্ছেন। এমন সময় দেখলেন আপাদমস্তক সাদা স্যুট টাইপ পোষাক আর পিছে অক্সিজেন সিলিন্ডারওয়ালা কিছু মানুষ আপনার সামনে। কে এরা???? হুম। সবাই মোটামুটি পরিচিত এদের সাথে। আপনাকে এসে বলবে, হ্যলো, উই আর ফ্রম সিডিসি। হলিউডের কমন কাহীনি এটা।

 

কোন ভাইরাস আউটব্রেক। আর সাথে সাথে  সেটা মোকাবেলা করার জন্য সিডিসি। হেলিক্স, স্ট্রেইন, ওয়াকিং ডেড, দ্যা লাস্ট শিপ এর মত সিরিজ গুলাতেও। আর মুভি ধরলে রেসিডেন্ট এভিল সহ অসংখ্য মুভির নাম চলে আসবে। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন  Centers for Disease Control and Prevention সংক্ষেপে সিডিসি CDC , আমেরিকার বিখ্যাত সেই প্রতিষ্ঠান যাকে নিয়ে কৌতুহলের শেষ নাই। সারা পৃথীবিতে তাদের কাজ। কোথাও কোন ভাইরাল আউটব্রেক হলেই তাদের টিম পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাজির। স্যাম্পল সংগ্রহ করে গবেষনা, প্রতিরোধ, প্রতিকার নিয়ে কাজ করা। এছাড়া অনুজীব, ফুডবর্ন প্যাথজেন, বিভিন্ন রোগ নিয়ে চলে তাদের বিস্তর গবেষনা। অনেক ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়া আছে যেগুলা বিলুপ্ত কিন্তু সিডিসি এর কালেকশনে আছে। জানিনা জীবাণু অস্ত্র হিসাবে ব্যাবহারযোগ্য কিছু আছে কিনা। আসুন এবার আমরা জানি বাংলাদেশের সিডিসি নিয়ে।

 

ইন্সটিটিউট অব এপিডেমিওলজি, ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড রিসার্স Institute of Epidemiology, Disease Control and Research সংক্ষেপে আইইডিসিআর IEDCR হল বাংলাদেশের সিডিসি। অনেকেই হয়ত এর নাম শুনেনি। হলিউডের মত মুভি বানানোতো দুরের কথা। কিন্তু নিরবে তাদের উপর অর্পীত দায়িত্ব তারা পালন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মত দেশে যে প্রান্তেই কোন আউটব্রেক হয় সেখানেই তারা ছুটে যায়। ঘনবসতিপূর্ন দেশ হবার কারনে আমাদের দেশে অউটব্রেকের ঝুকি অনেক বেশি। বার্ড ফ্লু, নিপাহ ভাইরাসের মত বিভিন্ন আউটব্রেক দমানোর পেছনের মূল কৃতিত্ব তাদের। কিন্তু আমরা তাদের নামই জানি না।

 

যে কথাটি জানানোর জন্য এই লেখা, সেটা হল, সিডিসি সারা বিশ্বে যেকোন আউটব্রেক আগে থেকে চিহ্নিত করবার জন্য গ্লোবাল ডিজিস ডিটেকশন প্রোগ্রাম Global Disease Detection Program চালু করেছে। সারা বিশ্বে তাদের মোট ১০ টি গ্লোবাল ডিজিস ডিটেকশন সেন্টার রয়েছে। এই ১০ টা সেন্টারের একটা বাংলাদেশ। এছাড়া এই অঞ্চলে এই সেন্টার আছে শুধু চীন এবং ইন্ডীয়ায়। মুলত আইইডিসিআর এবং আইসিডিডিআরবি এই দুটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে এই কাজটি হচ্ছে। সিডিসি থেকে ট্রেনিং দেওয়া, বিভিন্ন পদ্ধতির সাথে পরিচিত হবার কারনে বাংলাদেশের সিডিসি এর মত ভূমিকা রেখে চলেছে এই প্রতিষ্ঠান। তাদের তৎপরতার জন্যই ২০০৯ এ ইনফ্লুয়েঞ্জা আউটব্রেক প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছিল। ন্যাশনাল ইনফ্লুয়েঞ্জা সেন্টার, বায়ো সেফটি ল্যাব ৩, নিপাহ ভাইরাস ডিটেকশন ল্যাবরটরি রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানে। সম্প্রতি সুপার ম্যালেরিয়ার প্রতিরোধে যথেষ্ঠ ভুমিকা ছিল আমাদের দেশের নাম না জানা এই প্রতিষ্ঠানটির। সম্প্রতি আইইডিসিআর সিডিসি এর পদ্ধতির সহায়তা নিয়ে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত ৪০০ বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ বিশ্লেষন করে তারা ৬ টা সম্ভাব্য সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এবং এর প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

 

আমাদের দেশের নিরবে সেবা দিয়ে যাওয়া এই প্রতিষ্ঠানটির জন্য রইল শুভকামনা। আমাদের দেশে ফার্মগেট গেলেই বোঝা যায় কত দ্রুত ছড়াতে পারে কোন পাথজেন। দূষিত পানির শরবত অমৃত ভেবে শত শত মানুষ পান করে যাচ্ছে। আমাদের দেশে ফ্লু ছড়ানো খুবই সম্ভব। বার্ড ফ্লু, নিপাহ ভাইরাস যেমন আমরা সফল ভাবে মোকাবেলা করেছি, হয়ত ভবিষ্যতে এরকম কোন আউটব্রেক হবার আগেই নিরবে সেটার মোকাবেলা করে যাবে এই প্রতিষ্ঠানটি।