চার্টার্ড একাউন্টেন্ট হিসেবে নিজ দায়িত্বে অভিজ্ঞতালব্ধ কিছু উপলব্ধি শেয়ার করা। কারো কাজে লাগলে তা উপরি পাওনা।

শুরুতেই বলে নেই, আপনি যদি প্রথমবারের মত পরীক্ষার্থী হন এবং এই স্টাটাস দেখে থাকেন তাহলে আপনি ধরে নিন আপনার যে পরিমান মনোসংযোগ, আত্বউৎসর্গ থাকার কথা সেখানে সামান্য পরিমান ঘাটতি আছে। কারনটা নিচেই বলছি!

 

প্রথমবার সাতটা/সাতটা/চারটা (লেভেলভেদে) পরীক্ষা দিয়ে সাতটাই/সাতটাই/চারটাই পাশ করা একেবারে অসম্ভব, এ মিথ যারা ছড়ায়, প্রথমে মনে মনে তারে একটা বকা দিয়া আপনি আপনার গোল সেট করেন। 
১. আপনি এইবার সবগুলা পাশ করবেন;
২. আপনি এইবারই সবগুলা পাশ করবেন;
৩. অবশ্যই আপনি এইবার সব পাশ করবেন।

আমার পরিচিত কয়েকজন ই প্রথমবারে আলাদা আলাদা ভাবে প্রত্যেক্টা লেভেল একবারে পাশ করসে। যারা পাশ করসে তারা কেউই আকাশ থেকে নামেনাই। নিজের ঘামে, পরিশ্রমে দাতে দাত চেপে দিনের পর দিন পড়ালিখা করেছে, দাত কেলাইয়া নিশ্চই বন্ধুগ লগে আড্ডা মারতে মারতে ৪২ দিনের ৩০ দিন কাটাইয়া 'হায়' 'হায়' বলিয়ে শেষের কয়দিন পড়তে বসে নাই। আমি প্রবলভাবে বিশ্বাস করি কেউ যদি এ ছুটি ঠিকমত ব্যাবহার করতে পারে, সে অবশ্যই অবশ্যই পাশ করবে।

সো, প্রথমবারে সবগুলা পাশ করতে যা যা করা লাগবে, আমার মতেঃ


১. সকল সোশাল সাইট বন্ধ করে দিন ফেসবুক সহ। মাস দেড়েক ফেসবুকে না থাকলে জীবনের বড় কোন ক্ষতি হবেনা আশা করি, অথচ থাকলে হবার সম্ভাবনা ৮০ ভাগ। আপনার জন্য আগামি ৪০/৪১ দিন হোক অফুরন্ত সম্ভাবনার দুয়ার খোলার প্রথম বড় কোনো পদক্ষেপ! আগামি ৪১/৪০ দিনের এক সেকেন্ড ও যাতে আপনার নস্ট না হয় সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখুন।

২. দিনে ১৬/১৭ ঘন্টা করে পড়ার কাজে লাগান। বসে পড়তে মনে না চাইলে হাটতে হাটতে পড়ুন। তারপর ও পড়া থেকে উঠা যাবেনা। তবে শুয়ে পড়ালিখার চিন্তা না করলেও চলবে । সামনেকার এই কয়টা দিনের হাড়ভাংগা পরিশ্রমই আপনার ভবিষ্যতের সোপান হিসেবে কাজ করবে। So, make every single second count!

 

 

৩. প্রথম দিকে একটু বেশি ঘুম আসবে। কফি খাওয়ার চেষ্টা করুন। কাজে না দিলে ৩০ মিনিট/ ৩০ মিনিটের মিনি ঘুম দিন। সর্বমোট ৬/৫.৩০ ঘন্টার বেশি কোনোভাবেই ঘুমানো যাবেনা। যারা রাতে বা সকালে যে সময়েই পড়তে পারেন না কেনো, কোনো সমস্যা নাই। নতুন করে রুটিনে পরিবর্তন আনার দরকার নেই।

 

৪. আপনার পুরো ছুটিতে এটলিস্ট দুইবার রিভাইজ দেয়ার প্ল্যান করেন। পুরো সময়টাকে দুই ভাবে ভাগ করে নিন। প্রথমবার একটু টাইম বেশি নিন। এর পরের বার রিভাইজ দেয়ার জন্য একটু কম সময় রাখলে চলবে। এর মধ্যে সময় বুঝে আপনার রুটিন পরিমার্জন করে নিন।

৫. পড়তে ইচ্ছা না করলে উঠে ইয়ুটিউব থেকে দুই একটা মোটিভেশনাল ভিডিও দেখে আবার পড়তে বসুন। অনেকগুলা অসাধারণ ভিডিও আসে। দেখলেই ভিতরে নাড়া দিয়া উঠে! যদি তাতেও কাজ না হয়। সকাল সকাল লাইব্রেরিতে চলে যান। লোকের পড়ালিখার স্পিড দেখে আপনার ও কিছু স্পিড আসতে পারে।

 

 

৬. পরিক্ষার হলে একটু আগে যান। প্রতিদিনই সিট চেঞ্জ হবে। গিয়ে দম নিন। তারপর দৃঢ়প্রতিজ্ঞ চোয়ালে পরিক্ষায় বাসে যান। দয়া করিয়া সম্পুর্নটুকু/সবগুলা প্রশ্নের উত্তর লিখে আসবেন। কোনো কিছু না পারলে আপনার বেস্ট জাজমেন্ট ইউজ করেন। তাও কিছু ফেলে আসবেননা। একেবারে মাথার উপর দিয়া গেলে অবশ্য ভিন্ন কথা!

পরীক্ষা পাশ করলে যতটুকু আনন্দ লাগে, ফেল করলে, সপ্নভংগের বেদনা তার চেয়ে ভয়াবহ ভাবে গায়ে বিধে। যারা নতুন পরিক্ষা দিচ্ছেন, একবার চিন্তা করে দেখুন। আপনার প্রিয়জনের হাসিমুখ কল্পনা করুন। অভিজ্ঞাত জ্ঞান হতে বলছি, আপনার আশেপাশের পুরা দুনিয়াটাই চেঞ্জ হয়ে যাবে।

সবাইকে শুভ কামনা। আশা করি একদিন আইসিএবি এর মেম্বার্স লাউঞ্জে দেখা হবে।

 

সিএ পাস করা কি কঠিন?

সময় গেলে সাধন হবেনা