ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রায়শই বিজনেস মিটিং এ ব্যবসা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে থাকেন |অর্থ বিনিয়োগ করে তা সময় মত ফেরত আনবার কাজ সম্ভবত পৃথিবীর সবচাইতে ডিফিকাল্ট কাজের একটি| স্বভাবতই এই কাজে নিয়োজিত ব্যবস্থাপকরা সব সময় একটা আতংকের ভিতর থাকেন| তাদের এই ভয় বা আতংক দূর করতে ব্যপস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাদের এই বলে আশ্বস্ত করেন যে,নিয়ম নীতি ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন শর্তাবলী পরিপালন করে কেউ যদি লোন দেন তবে তার কোন ভয় নাই |

 

বাস্তবিক অর্থে পরিস্থিতি কী সত্যিই সেরকম?

বেশীর ভাগ অভিজ্ঞতা কিন্তু ভিন্ন কথা বলে| লোন অনুমোদনের সকল শর্ত পরিপালনের পর দেয়া লোন যখন মন্দ হয়ে যায় তার দায় দায়িত্ব সম্পূর্ণটাই দেয়া হয়ে থাকে বিতরনকারী ব্যবস্থাপক বা আরএম এর উপর | একটা লোন এপ্রুভাল প্রসেসে তার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিরুপনের জন্য সকল ব্যাংকে একটা স্পেশালাইজড টীম থাকে, যা 'ক্রেডিট রিক্স ম্যানেজমেন্ট' টীম নামে পরিচিত|

 

কোন লোনের মার্কেটিং এর দায়িত্বের সাথে ইনিশিয়াল রিক্স এসেসমেন্টের দায়িত্ব অবশ্যই আরএম ও ব্যবস্থাপকের উপর বর্তায় | তার দ্বৈত ভুমিকার সাংঘর্ষিকতা এড়ানোর জন্য ব্যাংকের সবচাইতে মেধাবী কর্মীদের দ্বারা সবচাইতে পাওয়ার ফুল করে গড়ে তোলা হয় ক্রেডিট রিক্স ম্যানেজমেন্ট ইউনিট| সাধারনত কখনই কোন লোন মন্দ হবার জন্য সি.আর এম কে দায়ী করতে আমার অভিজ্ঞতায় আমি দেখিনি| বলে রাখা দরকার আমার এযাবত কালের ক্যারিয়ারের অর্ধেক সময় কেটেছে সি.আর.এম এ| বরং কোন লোন বাচানোর তাগিদে বা সেখান থেকে এক্সিট নেয়ার লক্ষ্যে আইনী কাঠামোর মাঝে থেকেই ব্রাঞ্চ যখন কোন প্রস্তাবনা পাঠায়,বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সেটাকে আরো টাইট সিচুয়েশেনে ফেলার ব্যবস্থা পোক্ত হয়ে আসে|

 

 

এর কারন যারা এসেসমেন্ট বা এপ্রুভাল দেন লোনটি ভালো চলল কী খারাপ হলো তাতে বলতে গেলে তাদের যেরকম কোন দায়বদ্ধতা থাকে না| ক্ষেত্র বিশেষে, প্রবলেম কায়েন্ট নিয়ে ব্রাঞ্চের লাইফ আরো টাফ করার সুব্যবস্থা করা হয়| তারা হয়ত ধারনা করেন প্রবলেম একাউন্টে যত টাইট দেয়া যাবে,ম্যানেজার সাহেব তার বাড়ী গিয়ে বসে থাকলেই গ্রহিতা চা কফি খাইয়ে ব্যাংকের টাকাটা ফেরত দিয়ে দিবেন |

 

মাঠের খেলাটা কিন্তু তাদের ধারনার চাইতেও অনেক কঠিন|

বিষয়টা যদি এমন হত এপ্রুভাল দিয়েছ তুমি এর থেকে বের হবার ওয়ে আউট সমভাবে বাতলানোর দায়িত্বটাও তোমার উপর বর্তায়, তাহলে অনেক ডিফিকাল্ট একাউন্ট থেকে সেটা আরো খারাপ হওয়ার আগে বের করে আনা সম্ভব হত, অবশ্যই রুল রেগুলেশন মেনে| বিষয়টা বাস্তবে ব্যবস্থাপক বা আর.এম'দের জন্য এমন যে, তুমি এনেছ তুমি দিয়েছ, এবার আদায়ের সকল দায়িত্ব ও তোমার| এমনিতে কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে আমি শব্দ'কে এভয়েড করার রেওয়াজ চালু আছে | যেমন,আমরা করেছি, আমরা পেরেছি, আমরা করব, আমরা পারব ইত্যাদি | শুধু মন্দ লোনের ক্ষেত্রে তুমি দিয়েছ, তুমি এনেছ, তুমিই যেভাবে হয় আদায় কর এর ব্যবহার লক্ষণীয়| আর এই তুমি হবার অবর্ননীয় মানুষিক পেইন শুধু ভুক্তভোগীরাই জানেন | এযেনো, 'কোথাও কেউ নেই'' শুধু নিজে ছাড়া |

 

 

গুটিকয়েক বাণিজ্যিক ব্যাংক ছাড়া বর্তমানে প্রায় সকল ব্যাংকেই নির্দিষ্ট একটা আমাউন্টের উপর এফডিআর এর বিপরীতে লোন বা ১০০% মার্জিন এর বিপরীতে এল.সি বা গ্যারান্টি ইস্যু করবার ক্ষমতাও ব্রাঞ্চের হাতে থাকে না| ব্যবস্থাপক বা আর.এম' রা মুলত যে কাজটা করেন সেটা হচ্ছে মার্কেটিং |লোন অনুমোদনে তার বা তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা থাকে সন্দেহ নাই | তবে লোন অনুমোদন ও বিতরনের সিদ্ধান্তটা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সহ এমাউন্টভেদে পরিচালনা পর্ষদ সকলের| তাই সিন্ধান্তটা হয় আমাদের| সিদ্ধান্ত সঠিক হলে সফলতা যেমন সকলের, সিদ্ধান্ত ভুল হলে সেটাকে সঠিক করবার চেষ্টাও হওয়া উচিত সকলের|

 

কোন অনৈতিক বা নীতি বিরুদ্ধ কাজের সাথে জড়িত না থাকলে কাউকে ব্যক্তিগত ভাবে দোষারোপ করার সংস্কৃতি থেকে বের হতে না পারলে ভবিষ্যতে ব্যাংকগুলোতে সুস্থ ও সৎ মানুষিকতার ব্যক্তিরা ব্যবস্থাপক বা আর.এম এর কাজ করতে আগ্রহী হবেন না,যদি না একান্ত বাধ্য হন| কী কারনেই বা একজন ব্যবস্থাপক তার ক্যারিয়ার, মানুষিক প্রশান্তি,মান সম্মান এমনকি রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট হুমকীতে ফেলে শত শত কোটি টাকা লোন দিবেন? আখের গোছানোদের সংখ্যাই দিন দিন বাড়তে থাকবে|

 

এদেশে বর্তমান ঋৃণ সংস্কৃতি যেই অবস্থায় আছে, তাতে বর্তমানে ভাল থাকা বেশীর ভাগ লোনই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য মন্দ লোন | ভালো হলে সবার খারাপ হলে তোমার এটা কোন টীম গেইমের অংশ বা নিয়ম হতে পারে না|

 

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর - ১৯৭২ থেকে ২০১৭

Foreign Bankers Rule!

ব্যাবস্থাপনা পরিচালকদের ক্যারিয়ারের শুরু যেই ব্যাংকে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে ক্যারিয়ার শুরু করে বর্তমানে প্রাইভেট কমার্শিয়াল (কনভেনশনাল) ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক