বিজনেস ম্যানেজমেন্ট এন্ড এন্টারপ্রেনারশিপ গ্র্যাজুয়েট, "মিস সাউথ আফ্রিকা"ডেমি লেহ নেল পিটারস!! গতকাল এমেরিকার নেভাডা স্টেট এর লাসভেগাস শহরে হয়ে যাওয়া ৬৬ তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগীতায় ৯১ দেশের প্রতিযোগীকে পিছে ফেলে ক্রাউন জয় করে নেন ২১ বছর বয়সী দক্ষিন আফ্রিকার এই সুন্দরী!! ১৯৭৮ সালের পরে দ্বিতীয়বার এর মত সাউথ আফ্রিকায় গেল মিস ইউনিভার্স ক্রাউন!!

 

ডেমি লেহ নেল পিটারসডেমি লেহ নেল পিটারস

 

জয়ের পরে এক টুইট এ এই সুন্দরী বলেন- আমি খুবই ভাগ্যবতী কারন প্রতিযোগীতার সময় অন্য সবার শুধুমাত্র দুইজন প্যারেন্টস উপস্থিত থাকলেও আমার ছিল চারজন!!

 

ডেমীর বাবা এবং মা দুজনেই বিচ্ছেদের পর আবার বিয়ে করেন!!এবং মজার ব্যাপার হচ্ছে ডেমী তার জীবনে তার স্টেপ ড্যাড এবং স্টেপ মম এরও যথেস্ট পজিটিভ ভুমিকা আছে বলে সাংবাদিকদের জানান!! ডেমী আরো বলেন,তার জীবনে সবচেয়ে বড় মোটিভেটর তার ডিজেবল হাফ সিস্টার!! ডেমীর বোনের মস্তিস্কে সেরেবেলাম নামক এক উপাদানের ঘাটতি থাকায় সে চলাফেরা করতে পারেনা!!তবুও তার পজিটিভ চিন্তা শক্তি,বেচে থাকার অদম্য ইচ্ছা প্রতিমুহুর্তে ডেমীকে আরো ভাল করার অনুপ্রেরনা যোগায়!!

 

ডেমি লেহ নেল পিটারসডেমি লেহ নেল পিটারস

 

 

ডেমী মনে করেন প্রত্যেক মানুষ যাকে ঈশ্বর চলার,কাজ করার,এবং চিন্তা করার ক্ষমতা দিয়েছেন,তাদের মত ব্লেসড জগতে আর কেও নেই!!তাই বেচে থাকতে প্রতিটা মানুষের উচিত তার শরীর এবং মস্তিস্কের সর্বোচ্চ ইউটিলাইজ করা!!

 

মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগীতায় ডেমী কে প্রশ্ন করা হয়েছিল-তার মতে ওয়ারকপ্লেসে মেয়েদের সবচেয়ে বড় কোন অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়?? ডেমী বলেন- নারী এবং পুরুষ ওয়ার্কারের ওয়েজেস/স্যালারীর যে গ্যাপ সেটা তাকে খুব দু:খিত করে!!মেয়েরা ছেলেদের থেকে কম এফিশিয়েন্ট এই যুক্তিতে তাদের পারিশ্রমিক কম দেয়ার নামে এই ডিস্ক্রিমিনেশন মানতে ডেমী কখনই রাজী নন!! ডেমী পৃথিবীর সব মেয়েকে সেলফ ডিফেন্স শেখার আহবান জানান!!মনে করেন জীবনের নিজেকে ডিফেন্ড করার ক্ষমতা মানুষের কনফিডেন্স বাড়ায়!!হোক সেটা ভারবাল ডিফেন্স অথবা ফিজিক্যাল ডিফেন্স!!

 

 

মিস ইউনিভারস ডেমীর সবচেয়ে প্রিয় উক্তি  আলবারট আইনস্টাইন এর - "যে মেয়ে অন্যদশজনের সাথে তাল মিলিয়ে চলে সে সাধারন তাদের সাথেই কোন গন্তব্যে পৌছায়,কিন্তু যে মেয়ে নিজের পথ একা নিজে পাড়ি দেয় সে এমন কোথায় পৌছায় যেখানে আগে কেও যেতে পারেনি"

 

এই যে এত গুলা কথা,এখান থেকে আমরা কি দেখলাম ফ্রান্স?? দেখলাম যে স্টেপ প্যারেন্টস হলেই খারাপ হওয়া লাগবে এমন কোন বিষয় নাই!!মানুষ হিসেবে ভাল হইলে স্টেপ মম ড্যাড হইলেও সে ভালই হয়!! একজন ডিজেবল মানুষের থেকেও মানুষের অনেক কিছু শেখার আছে!!টাকা পয়সা ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স কিছু না সুস্থ একটা শরীর থাকার চেয়ে বড় নেয়ামত পৃথিবীতে কিছু নাই!!যারা হাত পা ঠিক থাকার পরেও কথায় কথায় হতাশায় মইরা যাইতে চায়,তারা অলরেডী মইরা গেছে,নতুন কইরা মরনের তাদের কিছু নাই!!

 

মজুরীর ক্ষেত্রে এই বৈষম্য আমাদের দেশে আরও বেশী!! এটা ঘোর অন্যায়!! কিন্তু এই যে দেখলাম এটা থেকে আমরা শিখলাম কি কিছু?? মনে হয় না!! কথায় আছে না?? স্পেয়ার দ্য রড,স্পয়েল দ্য চাইল্ড!! আমরা হচ্ছি সব স্পয়েলড পোলাপান!! কেও গলায় পাড়া দিয়া না ধরলে আমরা সাধারনত সাজগোজ ভুংভাং ছাড়া আর কিছু শিখিনা...।

 

 

আমরা বিউটি জিনিসটাকে মিসইন্টারপ্রেট করি!! - রাখী নাহিদ।

রেস্পেক্ট ছাড়া লাভ , সেইটা আবার কি জিনিস...??