"জন্মাতরবাদ ভারতীয় উপমহাদেশের অবধারিত দর্শন। এ অঞ্চলে এক জন্মে পরীক্ষা দিতে হয়, আরেক জন্মে ফল বেরোয়, দু-জন্ম বেকার থাকতে হয়, এবং ভাগ্য প্রসন্ন হ’লে কোন এক জন্মে চাকুরি মিলতেও পারে।" - হুমায়ন আজাদ।

 

আইনের ছাত্রদের জীবনের স্বপ্নের পরীক্ষা বিজেএস পরীক্ষা  । ১০ম বিজেএস পরীক্ষা ।  ২০১৫ সালের নিয়োগ এটি। অথচ সার্কুলার হয় এক বছর পরে অর্থাৎ ২০১৬ সালের মার্চ মাসের ৩ তারিখে। পদসংখ্যা ১১৫। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ২০ এপ্রিল। প্রিলির ফল প্রকাশিত হয় ২১ এপ্রিল। লিখিত পরীক্ষা শুরু হয় ৩০ জুলাই ২০১৬ এবং সমাপ্ত হয় ৯ আগস্ট ২০১৬।

 

মাত্র ১২৪৮ পরীক্ষার্থীর খাতা মূল্যায়ন করে ফল প্রকাশিত হয় তিন মাস পর ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ভাইভা শুরু হল ২৭ ডিসেম্বর ১৬ শেষ হল ২২ জানুয়ারি ২০১৭। ফল প্রকাশিত হল ২৯ জানুয়ারি ২০১৭। ২০৭ জনকে বাংলাদেশে জুডিশিয়াল ‍সার্ভ স কমিশন থেকে সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপাত ঘোষনা করা হলো।  মেডিকেল টেস্ট হল ৫ ও ৬ মার্চ ২০১৭। তারপর থেকে আমরা দিনের পর দিন প্রহর গুনছি নিয়োগের জন্য। মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে বিজয়ী হয়ে আজ ভাগ্যচক্রে আবদ্ধ হয়ে পড়ছি।

 

 

২০১৭ সাল শেষ হল ২০১৮ সাল আসল, আমাদের দিন পরিবর্তন হল না। আমরা ২০১৫ সালেই পড়ে রইলাম। চাকুরী নামক প্রহসন আমাদের জীবন থেকে কেড়ে নিল তিনটি বছর। আমরা খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছি। চরম অবমাননাকর সময় পার করছি।

নির্মম, নিষ্ঠুর নিয়তিই হল আজ আমাদের পরিণতি। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় আইনমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করি। মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট এর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

 

সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাবৃন্দের নিকট দয়া ভিক্ষা চাচ্ছি। আমরা আর পারছি না। অপেক্ষার ‍ সময় কাটতেই চায় না। আমাদের জীবনের মুল্যবান সময় যেমন একদিকে নষ্ট হচ্ছে । তেমনি রাষ্ট্র আমাদের ‍ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে । ‍ যে স্পিরিট এবং প্রেরণার জোয়ার আমাদের মাঝে ছিল তা দিন দিন কমে যাচ্ছে ।
 
দয়া করে আমাদের বাঁচান, কতগুলো মেধাবী সন্তানকে বাঁচান। আমাদের পরিবারের আয়ের উৎস হিসেবে আমরা অবতীর্ন হতে গিয়ে উল্টো আমরা এখন পরিবারের বোঝা । কারণ আমাদের সামাজিক স্টাটাস বেড়েছে কিন্তু আয় বাড়েনি। এমতাবস্থায় রাষ্ট্রের নিকট আকুল আবেদন   ভবিষ্যৎ জজ সাহেবদের পরিবার গুলোকে বাচান  ।

 

আমরা পরিবারের সদস্যের নিকট প্রশ্নবিদ্ধ। সমাজের মানুষের বিদ্রূপের শিকার। বন্ধু মহলে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছি। দয়া করে আমাদের সম্মানটুকু রক্ষা করেন।

 

ভাইভা রেজাল্টের পর ৪ - ৬ মাস সময় মেনে নেওয়া যায় । একজন শিক্ষার্থী 
অনার্স শেষ করে্ই যদি সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয় , তবে তার জন্য পরিবেশ পরিস্থিতি বোঝা অতটা সম্ভব হয়ে উঠে না। মেন্টাল ম্যাচুরিটির জন্য ৪- ৬ মাস যথেষ্ট । কিন্তু তাই বলে ১২ - ১৪ মাস সময়টা আসলেই অনেক কঠিন ।

আমার পরিচিত অনেকে এখন এমন ভাবে কথা বলে বা এমন ভাবে তাকায় যেন - আমাদের চাকুরী হয় নি । আমরা যেন  একটা মিথ্যা প্রচার করেছি । যদি ও আমার ক্ষেত্রে আমাকে অবিশ্বাস করার মত পরিচিতজনের সংখ্যা হাতে গোনা দু একজন । কিন্তু আমার অনেক ব্যাচমেটদেরে ক্ষেত্রে এ সংখ্যাটা আশংকাজনক ।

 

সত্যি কথা বলতে কি , বিয়ের পিড়িতে বসতে গেলে ও মেয়ের বাবারা বলে - ”ছেলের তো এখনো চাকুরী হয় নি” । সত্যি তো - আমাদের তো এখনো চাকুরী হই নি।

আমার সহ্যশক্তি প্রচন্ড । আমি সহজে হতাশ হয়ে পড়ি না।  তারপর ও আমি মাঝেমাঝে হতাশ হয়ে পড়ি । এভাবে কতদিন বসে থাকা যায় । গেজেট হবে হবে এই আশায় কোন প্রতিষ্ঠানে ও যোদদান করি নাই । অনেকেই এখনো বেকার হিসেবে বাবার টাকায় দিন কাটাচ্ছি ।

এ অবস্থার আশু প্রতিকার হওয়া দরকার।

 

২৯ জানুয়ারি আমাদের সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার এক বছর পূর্ণ হবে । আল্লাহ আমাদের সহায় হন । আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় আইনমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করি। মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট এর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

 

লিখেছেন - নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ১০ম বিজেএস এ সুপারিশকৃত একজন।