একজন বেকার যুবক/যুবতী। কিন্তু তার চাকুরী হয় না। তার অপরাধ হচ্ছে-
প্রথমত; তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা নয়
দ্বিতীয়ত; সে কোন মাইনরিটি গ্রুপে জন্ম নেয় নি
তৃতীয়ত; তার বাবা কোন সরকারি চাকুরীজীবীও নয়
চতুর্থত; সে কোন পিছিয়ে পরা এলাকায় জন্ম নেয় নি পঞ্চমত; তার বাবার অনেক টাকা পয়সা/ ক্ষমতা নেই
ষষ্ঠত; তার কোন মামা চাচাও নাই
সপ্তমত; তার কোন ভিআইপি লিংক নাই ইত্যাদি...

 

এমন অসংখ্য অপরাধের কারণে বিসিএস সহ সকল সরকারি চাকুরীতে প্রয়োজনীয় নম্বর পাওয়া সত্ত্বেও তার চাকুরী হয় না। এ গল্প শুধু একজন বেকারের নয়, এ দেশের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক যুবতীর।

 

এ কথা সত্য যে পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠীকে তুলে আনার জন্য যেকোন দেশে কোটার দরকার আছে। তবে সে কোটা থাকা উচিত একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় বা সংখ্যায়। যেমন একজন বঞ্চিতকে আপনি উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিলেন কোটার মাধ্যমে। অধিকন্তু সে একই জনকে আপনি যদি চাকুরী লাভের ক্ষেত্রেও কোটা সুবিধা দেন, তাহলে সে কোটাধারী তার উচ্চশিক্ষা লাভের কোটা দ্বারা কি জ্ঞান অর্জন করলো? তার আগের কোটাটির উপযোগ কি?

 

তথাপি কোটার মাধ্যমে আপনি একজন বঞ্চিতকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেন, কোন আপত্তি নেই। এর চেয়ে বেশি করতে চাইলে তাকে ৩য়/৪র্থ শ্রেণির চাকুরী দেন, এতেও আপত্তি নেই। কিন্তু কোটা দিয়ে আপনি যদি বিসিএস/বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক/১ম শ্রেণির চাকুরীর নিয়োগ দেন তাহলে তা সত্যিই একটি জাতিকে মেধাশুন্য তথা চিরতরে পঙ্গু করার কৌশল। যার জ্বলন্ত প্রমাণ আমাদের দেশ। আমরাই বোধহয় পৃথিবীর একমাত্র জাতি যারা এত নগ্নভাবে কর্মের চেয়ে জন্মকেই বড় করে দেখি!

 

পুনশ্চ; বিসিএস সহ দেশের সকল চাকুরীতে (৩য়/৪র্থ শ্রেণি ব্যতিত) একমাত্র প্রতিবন্দ্বী কোটা ব্যতিত সকল প্রকার কোটা বাতিল করা হোক। জয় হোক মেধাবীদের, কোটাধারীদের নয়। এ আওয়াজ ছড়িয়ে দেন সবার মাঝে।

 

- Wasi Ahmed 

Managing Director - ICON PLUS

Co-Founder - ClassRoom 

BBA, Department of Finance, University of Dhaka