মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ৩০ লক্ষ নয়। মাত্র ৩ লক্ষ! আর বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি, তা ছিল গৃহযুদ্ধ এবং ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ।

 

কেউ কেউ বলেন ৯ মাস অর্থাৎ ২৭০ দিনের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ্য লোকের মৃত্যুবরণ ঘটেছে!! মানে প্রতিদিন প্রায় ১১,১১১ জন কে হত্যা করা হয়েছে! ব্যাপার টা আসলেই যেন কেমন কেমন!!

 

একজন মানুষ কে হত্যা করলে কত খবর হয়ে যায় আর এত মানুষ প্রতিদিন মারা হইছে? কেমনে কি?? বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে প্রায় ৪৬ বছর আগে অথচ এই বিতর্ক এখনো যাচ্ছে না ... যে মহান মুক্তিযুদ্ধে নাকি ৩০ লক্ষ লোক শহীদ হয় নাই ... হয়েছে মাত্র ৩ লক্ষ!

 

আচ্ছা বেশি তর্ক বিতর্কের দরকার নাই!! কয়েকটা নমুনা দেখিঃ

(১) মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের লোক সংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটি। এখন যদি প্রত্যেক পরিবারে ৫ জন করে সদস্য করে থাকে তবে ১৯৭১ সালে মোট পরিবারের সংখ্যা গড়ে দেড় কোটি। ৩০ লক্ষ শহীদ মোট জনসংখ্যা সাড়ে ৭ কোটি অর্থাৎ = ৪% অর্থাৎ = ১,৫০,০০,০০০ x ৪% = ৬,০০,০০০ পরিবার অর্থাৎ ৬,০০,০০০ পরিবারের কেউ না কেউ তো মারা গিয়েছেন। এখানে এটা বুঝতে হবে অনেক পরিবারের এমনও হয়েছে কেউ বেঁচে ছিলেন না, আবার ১ জন ছাড়া সবাই মারা গিয়েছেন, আবার ১ জন মারা গিয়েছেন অথবা পরিবারের কেউ মারা যাননি! অর্থাৎ দেড় কোটি পরিবারের মধ্যে ৬ লক্ষ পরিবার হামলার শিকার হয় নি একথা নিশ্চয়ই আপনার না বিশ্বাস করার কথা!

 

অথবা এভাবে দেখুন, দেড় কোটি পরিবার ছিল আর প্রতি পরিবারে সদস্য সংখ্যা গড়ে ৫ জন! ৩০ লক্ষ লোক দেড় কোটি পরিবারের মারা গিয়েছে অর্থাৎ প্রত্যেক পরিবারে শতকরা ০.২০ জন। যার মানে প্রতি ১০০ পরিবারের মধ্যে ২০ টি পরিবার যারা পাকি / পাকির দোসর দ্বারা নির্যাতিত হয়েছে! সংখ্যাটা কি অমূলক!! আপনিই বলেন?

 

(২) মানব ইতিহাসে যত গণহত্যা হয়েছে এর মধ্যে বাংলাদেশের ১৯৭১’ এর গণহত্যায় স্বল্পতম সময়ে এই সংখ্যা সর্ববৃহৎ। গড়ে প্রতিদিন ৬,০০০ - ১২,০০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এটি হচ্ছে গণহত্যার ইতিহাসে প্রতিদিনে সর্ব্বোচ্চ নিধনের হার। তার মানে দাঁড়ালো পাক বাহিনী এই নাপাক কাজ (দিনপ্রতি ৬০০০-১২০০০ বাঙালী নিধন) করছে মোটামুটি ২৬০দিনে (একাত্তুরের ২৫-এ মার্চ থেকে শুরু করা হয়ে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত)।

 

আর এ নিউজ ভারতের দালালদের দেওয়া তথ্য না বরং, ইউ এন এর নিরপেক্ষ ডাটা নিয়ে একটু হিসাব করা যাক। চলুন একটু ক্যালকুলেটর নিয়ে বসি সবাই:(ফোনের ক্যালকুলেটর খুলেন সবাই) বাঙালী নিধনের লোয়ার লিমিট: ৬০০০ x ২৬০ = ১৫,৬০,০০০ (১৫ লক্ষ ৬০ হাজার)। আর নিধনের আপার লিমিট: ১২০০০ x ২৬০ = ৩১,২০,০০০ (৩১ লক্ষ ২০ হাজার)। যদি আমরা “এটার মাঝামাঝি” নিয়ে হিসাব করি, তাইলে সংখ্যাটা দাঁড়ায়: ২৩,৪০,০০০ (তেইশ লাখ চল্লিশ হাজার)। ... আচ্ছা যান ৩০ লক্ষ নয় তাই বলে ৩লক্ষ তো আর হতে পারে না! অন্তত ২৩ লক্ষ তো হবেই!!

 

 

(৩) মুক্তিযুদ্ধে চলাকালীন ৯ মাস অর্থাৎ ২৭০ দিনের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ লোকের মৃত্যুবরণ ঘটেছে!! যার মানে প্রতিদিন প্রায় ১১,১১১ জন কে হত্যা করা হয়েছে! ব্যাপার টা আসলেই যেন কেমন কেমন!! হিসেব টা একটু অন্যভাবে দেখলে হয় না! ৪৮০ টি থানা, ৪৫০০ ইউনিয়ন, ৬৮০০০ গ্রাম এই ভাবে একটু ক্যালকুলেশন করি চলেন।

 

অর্থাৎ প্রতিদিন প্রতিটি থানায় = (৩০,০০,০০০ / ২৬০) / ৪৮০ = ২৪ জন (আনুমানিক) হত্যা করা হয়েছে আর এই একই সূত্রে প্রয়োগ করলে প্রতিদিন প্রতি ইউনিয়নে ৩ জন (আনুমানিক) আর প্রতিটি গ্রামে ২৬০ দিনে মারা গিয়েছেন = ৩০,০০,০০০ /৬৮০০০ = ৪৪জন (আনুমানিক) সংখ্যাটি কি খুব বেশি?? গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে ... জনমানব শূন্য হয়ে গিয়েছে! আচ্ছা শুধুমাত্র ২টা দিনের কথা বলি, ২৫ শে মার্চ অপারেশন সার্চ লাইটের অভিযানে শুধুমাত্র রাজারবাগ পুলিশ লাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও শিক্ষক কোয়ার্টার সহ ঢাকা শহরে শুধুমাত্র ৩ ঘন্টায় আনুমানিক ৬,০০০ জনকে হত্যা করা হয়েছে!

 

পরিশেষে বলতে চাই এইসব বিশ্ব মিডিয়া ঢালাও ভাবে প্রচার করছে যে ৩০ লক্ষ নয় মাত্র ৩ লক্ষ মারা গিয়েছে! ভাই আমি আরো কমিয়ে ৩ হাজার জন মারা গেছে বলছি।মাত্র ৩ হাজার। তো আপনি কি বলতে চান ৩ হাজার কোনো সংখ্যা না!

 

শুধুমাত্র একটা ইনটেলেকচুয়াল জেনারেশন আমাদের মধ্যে হারিয়ে গেছে ... কে দিবে সেই ক্ষতি পূরণ? মুনীর চৌধুরী বেঁচে থাকলে কত লিজেন্ডারি উপন্যাস পাওয়া যেত! জহির রায়হান বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের সিনেমা সংস্কৃতি আজকে এখানে পড়ে থাকতো না। উনাদের অভাব কি আমারা টের পাচ্ছি না ... মোদ্দা কথা যাকে সাপ দংশন করেনি সে কিভাবে বুঝবে সাপের দংশনের যন্ত্রনা। দুঃখ একটাই আমরা স্বাধীনতার এত বছর পরে এসেও কেউ পাকির দালাল কেউ ভারতের কেউ আম্রিকার কিন্তু বাংলাদেশের দালাল কেউ হতে পারলাম না!

 

আপনাদের কাছে একটিই প্রশ্ন প্রথম আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মৃত্যুর হার কিভাবে নির্ণয় করা হল বলুন।আজো যখন কোন বাংগালিকে "মুক্তিযুদ্ধ" নিয়ে কটাক্ষ করতে দেখি কষ্ট লাগে।আজো যখন কেউ বলে,"বাংলাদেশে খুন,রেপ হয়না",পাকিস্তান ও করেছে,সো হোয়াট,,কিছু বলার ভাষা পাইনা।

 

 

বর্ডার ক্রস করতে গিয়ে মানুষ মারা গেল,ফ্যামিলিকে খুজে পেল না,অপুষ্টি আর রোগের স্বীকার হয়ে কত শিশু মারা গেল।রেপ ভিক্টিম কত মেয়ের এবোরশন হল।তার সংখ্যা তো আনিনি।আনলেও কি ৩০ হাজার,৩ লাখ সংখ্যাই দিবেন?নয় মাস যে যুদ্ধ করলাম তাতে ভারত,রাশিয়া সাহায্য দিয়েছে।এটায় রাশিয়ার এত নাম না নিয়ে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ বলা হবেই বা কেন?এ যুদ্ধে ভারত,রাশিয়া ছিল আমাদের সহায়ক শক্তি।তবে যুদ্ধ আমরাই করেছি ফ্রন্টলাইনে।আর সন্দেহ আছে এ বিষয়ে?

 

আল্লাহ শাস্তি দিবেন,যে অন্যায় করে দুনিয়া আর আখিরাত উভয়ই তার শাস্তি ক্ষেত্র।পাকিস্তান যা করেছে তার শাস্তি তারা পাবেই।আর পাকিস্তান কখনো অফিসিয়াল ক্ষমা চায়নি।তারা আমাদের বলেছে "ভুলে যেতে"...তাই ক্ষমা চেয়েছে যুক্তি দিবেন না প্লিজ

 

মুল লেখাটি মামুন ভাইয়ের, এটি বিশ্লেষণ এবং পরিমার্জন করা হয়েছে ।