গন্তব্য সাইন্সল্যাব মোড় থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি একটা রিক্সার আশায়। আজ রাস্তায় রিক্সার সংখ্যা অনেক কম মনে হচ্ছে। দু'একটা যাও আসছে তাও খালি নাই। মানুষ জনও খুব বেশি একটা নেই। চেনা ঢাকা শহর কেমন অচেনা মনে হচ্ছে। ও আচ্ছা তারিখটা বলি: ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৮।

 

যাই হোক অবশেষে একটা রিক্সা পাওয়া গেলো। ৪০ টাকার ভাড়া ৬০ টাকা হওয়া সত্বেও রাজি হয়ে উঠে গেলাম। রিক্সাচালক মামা মোটামোটি বয়ষ্ক। যাই হোক ফাঁকা রাস্তা তাই ভাবলাম মামার সাথে একটু কথা বলি।

 

আমি: মামা দেশের কি অবস্থা বলেন তো?

রিক্সাচালক মামা: আরে বইলেন না, আর অবস্থা!

আমি: কেন? কি হইছে?

মামা: খুবই খারাপ অবস্থা। রাজনীতির মধ্যেও পলিটিক্স ঢুকে গেছে!

আমি: (বেশ মজা পেলাম। রাজনীতির মধ্যে পলিটিক্স! এতো ভারতের সাথে ইন্ডিয়ার খেলা হওয়ার মতো অবস্থা!) যাই হোক আবার প্রশ্ন করলাম: রাজনীতির মধ্যে পলিটিক্স! বুঝলাম না ঠিক?

মামা: আর কইয়েন না মামা! দু'দিন পর পর এক একটা গেঞ্জাম। চাইলের কেজি ষাইট ট্যাকা! বাজারে সব কিছুতেই আগুন লাগছে। আর আমাগো নেতারা একজন আরেকজনের পিছে লাইগা আছে। গরিবের কথা কেও ভাবে না। খালি কতায় কতায় জনগণের কতা কয়। কিন্তু জনগণের খবর কেও রাখে না।

আমি: আর কথা বাড়ালাম না। লক্ষ্য করলাম মামা উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছে।

 

রিক্সাচালক মামাটি হয়তো যে কথাটি বলেছেন তার অর্থ ভুল। কিন্তু তার কথাগুলোতো আসলেই রূঢ় বাস্তবতা। এ দেশের সমাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষানীতি, জীবিকানীতি সবকিছুই পলিটিক্সে জর্জরিত!

 

এ দেশে যারা রাজনীতি করেন তাঁরা সবাই কথায় কথায় একটা কথা বলেন- জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। আসলেই কি তাই? আমাদের নেতারা আসলেই কি কখনো জানতে চেয়েছেন এ দেশের সাধারণ মানুষ কি চায়? ওনারাতো ক্ষমতায় থাকলে নিজেদের ও জনগণের মাঝে সবসময় একটা অদৃশ্য দেয়াল তুলে রাখেন! আর যখন ক্ষমতায় থাকেন না তখন পালিয়ে বেড়ান। ফলে জনগণের কথাগুলো কখনই তাঁদের কানে পৌঁছায় না। আমাদের নিজেদের জীবনের গল্পগুলো নিজেদেরকেই শুনতে হয়