একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় আলোচিত বিষয় হল ওয়ার্ল্ডভিউ। কিন্তু কি এই ওয়ার্ল্ডভিউ? ওয়ার্ল্ডভিউ হল এমন কিছু ধারণার সমষ্টি যা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় বড় প্রশ্নের উত্তর দেয়, এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আমাদের কিভাবে সাড়া দেওয়া উচিত সেটা শেখায়। ব্রাসেলস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত অধ্যাপক লিও অ্যাপোস্টেল একটা কাঠামো দাঁড়া করিয়ে গিয়েছেন, যে কাঠামোর মধ্যকার প্রশ্নগুলোর জবাব দেওয়ার মাধ্যমে একজন তাঁর জীবনের সম্ভাবনাগুলোকে বুঝতে পারে। সে তিনটি প্রশ্ন কি যা একজন মানুষকে তাঁর জীবনের সম্ভাবনা সম্পর্কে অবগত করতে পারে? পড়ে নিন!

 

১. জীবনের প্রকার বা ধরণ কি?

ওয়ার্ল্ডভিউ এর প্রশ্নগুলোর মধ্যে এটা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জীবনটা আসলে কিরকম? বেশী গতানুগতিক, না অর্থহীন, না সবার থেকে আলাদা – কিরকম আমাদের জীবনটা? এই প্রশ্নটা এই বিশাল মহাজাগতিক ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থানটাকে বুঝতে চেষ্টা করে। এক দিক থেকে চিন্তা করলে আমাদের জীবনকে আমাদের কাছে অর্থহীন বলে মনে হলেও আরেক দিক থেকে চিন্তা করলে অনেকে বলবেন যে না, জীবনটা আসলে অনেক বেশী অর্থবহ, একটা নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ যার একটা লক্ষ্য রয়েছে। আপনি আপনার জীবনটাকে কি অর্থহীন না অর্থবহ ভাবছেন, এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার মাধ্যমেই তাই একটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বোঝা যায় – যে আপনার জীবনে আদৌ সম্ভাবনা আছে কি নেই। এই সম্পূর্ণ মহাজগতটাই একটা নির্দিষ্ট কাঠামো বা কারোনের উপর দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর মানে এই জগতের অংশ হিসেবে আমাদের জীবনেরও অবশ্যই একটা অর্থ আছে। জীবনের আসল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য তাই যে যত তাড়াতাড়ি খুঁজে বের করতে পারে, সে তাঁর জীবনের সর্বোচ্চ উপযোগিতা গ্রহণ করতে পারে। প্যাটি হাউজ বলেছে – “ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে, অবগতভাবে বা অনবগতভাবে আমাদের জীবনটা আসলে আমাদের সকল বিশ্বাসেরই সমষ্টি।“

 

২. আমরা কোথায় যাচ্ছি?

এই প্রশ্নের মূলত দুটো ভাগ রয়েছে। প্রথম ভাগে রয়েছে প্রত্যাশা। আমরা আমাদের জীবন থেকে কি প্রত্যাশা করি? সে প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো আমরা করছি কি না? আমরা কি পেতে চাচ্ছি জীবনে – এসব জিনিসগুলোর জবাব জানা থাকলেই জীবনের প্রত্যাশা সম্পর্কে একটা ভালো ধারণা পাওয়া যায়। আপনি নিজেকে নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলো করে দেখতে পারেন –

  • আমার ভবিষ্যত কি আমার জন্য ভালো হবে?
  • ভবিষ্যতে কোন কোন ভালো জিনিস আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে?
  • আমি নিজে কিভাবে ভবিষ্যতটাকে ভালো করার জন্য কাজ করতে পারি?

প্রশ্নের দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে নিজের দর্শন বা দূরদৃষ্টি। ভবিষ্যতে আমরা আসলেই কোথায় যেতে চাই, কোন অবস্থায় থাকতে চাই – এসব জিনিসগুলো আসে এই দূরদৃষ্টি থেকেই। নিজের এই দূরদৃষ্টির মাধ্যমেই একটা সফল ভবিষ্যতের রূপরেখা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়। এ বিষয়ে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের একটা বিখ্যাত লাইন আছে – “আমি স্বপ্ন দেখি সেই দিনের যখন এই পৃথিবীর সবাইকে সমভাবে অধিকার দেওয়া হবে।”

 

৩. আমি কি বিশ্বাস করি?

আমি আমার ব্যক্তিগত জীবনে কোন ধারণার উপর বিশ্বাসী, সেটাই আমার ভবিষ্যতকে আরো বেশী সফল করে। এই পৃথিবীতে য বিদ্রোহ, আন্দোলন কিংবা পরিবর্তন হয়েছে, তাঁর মূলেই ছিল একটা না একটা ধারণা – যে ধারণার মাধ্যমে কেউ না কেউ তাঁর দূরদৃষ্টি দিয়ে ভেবেছিলেন একটা সফল ভবিষ্যতের। কোন বিষয়ের উপর আমি নিজে বিশ্বাস করি, তাঁর প্রতি নিজের একটা স্পষ্ট ধারণা থাকলে জীবনের সকল বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে একটা সফল ভবিষ্যত বিনির্মাণের পথে ধাবিত হওয়া সম্ভব!

 

তথ্যসূত্র - এডিক্টেড টু সাক্সেস।