গত পাঁচ বছর যাবত যে যোগ্যতাগুলো বিশ্ব শাসন বা চাকরীর বাজারে গুরুত্ব বহন করত, তার এক তৃতীয়াংশ (৩৫%) পরিবর্তন হয়েছে। বিশ্ব আজ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পথে এগুচ্ছে, যা পূর্বের অনেক যোগ্যতাকেই পিছনে ফেলে দিয়েছে এবং বেছে নিয়েছে নতুন কিছুকে। সেখান থেকে আবার পরিবর্তিত হয়েছে তাদের গুরুত্ব, হয়ত আজ থেকে পাঁচ বছর পূর্বে যা ভাবা হতো খুবই গুরুত্বপূর্ন তা আজ নেমে এসেছে নিচের সারিতে এবং নতুন ও পুরাতনের মধ্যে সামঞ্জস্য সৃষ্টি করেছে- বিশ্ব শাষনের নতুন ধারা।

 

২০২০ সালকেই ধরা হয়েছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মাপকাঠি বা যাত্রার সময়কাল। যেখানে নিয়ে এসেছে উচ্চ প্রযুক্তির সমাহার- উচ্চক্ষমতা সম্পূর্ন রোবোটিক্স, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগাধ ব্যবহার, মেশিন ভাষার সার্বজনীন ব্যবহার, বায়োটেকনোলজি এবং  জেনোমিকের বিস্তৃত ব্যবহার।

 

যে  ১০টি যোগ্যতা আপনাকে আগামী বিশ্ব শাসনে যোগ্য করে তুলবে-

  1. Complex problem solving (জটিল সমস্যা সমাধান)
  2. Critical Thinking (সূক্ষ্ম চিন্তাভাবনা)
  3. Creativity (সৃজনশীলতা)
  4. People Management (কৌশলগত পরিচালনা)
  5. Coordinating with Others (অন্যের সাথে সাম্নজস্যপূর্ন কাজ)
  6. Emotional Intelligence (অনুভূতিপূর্ন বুদ্ধিমত্তা)
  7. Judgement and decision making with others (অন্যকে বিচার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহন)
  8. Service Orientation (কাজে মনোযোগী)
  9. Negotiation (আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছা)
  10. Cognitive Flexibility (জ্ঞানের নমনীয়তা)

 

 

এই যোগ্যতাগুলোই সাহায্য করবে আগামীর উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে। এবং এই উন্নয়নি আমাদের সহোযগীতা করবে আমাদের জীবন মান উন্নত করতে। এই উন্নয়ন ধারা পরিবর্তন করেছে আমাদের জীবন পদ্ধতী এবং আমাদের কাজের ধরন। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে এসে আমরা কাজের ধরনে আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি কিছু কাজ কালের বিবর্তনে হারিয়ে গিয়েছে, কিছু তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে এবং কিছু কাজ নতুনভাবে জায়গা করে নিয়েছে। তবে আর যাই হোক, ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্র নির্ধারিত হচ্ছে যোগ্যতা এবং দক্ষতার ভিত্তিতে তার কোন সন্দেহ নেই।

 

কোন যোগ্যতার দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া দরকার?

সৃজনশীলতা, প্রথম তিনটি যোগ্যতার মধ্যে একটি যা আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন একটি যোগ্যতা। সৃজনশীলতা, আজ থেকে পাঁচ বছর আগেও এতটা আলোড়ন সৃষ্টীকারী কোন যোগ্যতা ছিলো না, ২০১৫ সালেও এর অবস্থান ছিলো ১০ নম্বরে। নতুন পন্য, নতুন প্রযুক্তি, এবং নতুন কাজের ধরন আমাদের সহায়তা করছে সৃজনশীল হতে। তারই ধারাবাহিকতায় চাকরীর বাজারে এর মূল্যমান অনেক বেশি, কারন বিশ্ব ঝুকছে নতুনত্বের দিকে।

আমরা অনেকেই ভাবতে পারি রোবট আমাদের কাজের ক্ষেত্রকে সংকুচিত করছে। এটা সঠিক যে রোবট অনেক নিখুত কাজ করতে পারে কিন্তু এই রোবট মানুষের মত সৃজনশীল নয়। তাই আজও মানুষের মেধার কাছেই অবনত রোবটের দক্ষতা।

 

datafolqdatafolq

 

২০১৫ সাল অব্দি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছা, জ্ঞানের নমনীয়তা ছিলো উপরের লেভেলের দক্ষতা কিন্তু আগামী বিশ্ব এর প্রয়োজনীতা নামিয়ে নিয়েছে নিচের দিকে। কারন এখন, বিগ ডাটার কাজ কম্পিউটারের মাধ্যমে খুব সহজেই করা যাচ্ছে, যা অনেক ভ্যালিড সিদ্ধান্ত গ্রহনে প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

 

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের একটি সার্ভেতে দেখা যায়, ২০২৬ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই হবে কোন সফটওয়্যার কোম্পানীর বোর্ড ডিরেকটর। একই সাথে একটিভ লিসেনিং এখন আর কোন গুরুত্বপূর্ন দক্ষতার মধ্যে নেই, অন্যদিকে ইমোশনাল ইন্টেলেজেন্সি দেখা যাচ্ছে সেরা দশে এবং খুবই গুরুত্বপূর্ন দক্ষতা।

 

তথ্যসূত্রঃ World Economic Forum