আর্নেস্ট হেমিংওয়ে বা এফ. স্কট ফিটজেরাল্ডের মত লেখকদের লেখালেখি পড়লে জিনিসটাকে একদম বাচ্চামানুষের খেলা বলে মনে হয়। কিন্তু তা সত্বেও, তারা প্রচুর টাকা উড়াতেন। মদ্যপানসহ উচ্চাভিলাষী জীবনযাপন তো ছিলই, ফিটজেরাল্ড তাঁর সম্পত্তির একটা বিশাল অংশ ফ্রেঞ্চ রিভেইরাতে খরচ করেছিলেন, আর হেমিংওয়ে নোবেল পুরষ্কার জেতা বইগুলোর রয়্যালটি দেদারসে খরচ করেছিলেন আফ্রিকান সাফারি আর মাছ ধরার কাজে।

 

তাদের এরকম জীবনযাত্রার জন্য মনে হতে পারে যে লেখক হতে গেলেই বুঝি এরকম আবেগপ্রবণ, খামখেয়ালী - হতে হয়, যেসব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো একজন সফল ব্যবসায়ী নেতার মধ্যে একদম থাকা উচিত নয়। বুদ্ধিমান ব্যবসায়ীকে প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করতে হয়, বাজার সম্পর্কে ধারণা থাকতে হয় সবসময়, কখন কি করতে হবে বা কেন করতে হবে সেটা সম্পর্কে ধারণা থাকতে হয়, নিজের বাজেট এবং সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবগত হতে হয়। খামখেয়ালী হলে চলে না।

 

প্রথম শ্রেণীর নেতাদের আরেকটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল তাদের ক্যারিশমা, যা তাদের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে, যে সিদ্ধান্তটা নেবার ক্ষেত্রে তাদের সহায়তা করে তাদের ভাবনাচিন্তা, তাদের জ্ঞান। আর ভাবনাচিন্তা করার ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কিংবা জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য লেখালেখি করার কোন বিকল্প নেই। প্রতিদিন লেখালেখি করলে জ্ঞান বৃদ্ধি ও চিন্তা করার ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কথা বলার ক্ষমতা, বক্তব্য প্রদানের ক্ষমতা - এসবও বৃদ্ধি পায়। লেখালেখি মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করতে সাহায্য করে যা বিভিন্ন তর্কে জিততে কিংবা আরেকজনকে অনুপ্রাণিত করতেও সাহায্য করে।

 

১. লেখালেখি করলে নিজের শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়

যত লেখালেখি করবেন, নতুন নতুন শব্দ সম্পর্কে জানতে পারবেন। নিজের শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে। কোন সময়ে কোন শব্দ বলতে বা লিখতে হবে সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হবেন। কখন কোন শব্দ ব্যবহার করতে হব এটা নিয়ে চিন্তা করার ফলে আপনার জিনিসপত্র মনে করার ক্ষমতাটাও আরেকটু ক্ষুরধার হবে। ফলে আপনি আরো স্বতঃস্ফূর্তভাবে লিখতে তো পারবেনই, সাথে কথা বলার সময়েও আদর্শ বক্তা হয়ে উঠবেন, যা একটা আদর্শ ও অনুপ্রেরণাদানকারী নেতার মূল বৈশিষ্ট্য।

 

২. লেখালেখি চিন্তা করার ক্ষমতাকে উন্নত করে

আপনি যখন লেখালেখি করেন তখন আপনাকে যথেষ্ট চিন্তা করে জিনিসটা লিখতে হয়,  ফলে জিনিসটা যুক্তিযুক্ত নাকি না, সে সম্পর্কে আপনার ধারণাটা মজবুত হয়। প্রত্যেকটা শব্দের পেছনে, প্রত্যেকটা বাক্য লিখার পিছনে, প্রত্যেকটা প্যারাগ্রাফ লিখার পিছনে একটা যুক্তি থাকে, সেটা যখনই আপনি বুঝতে পারবেন আপনার মধ্যে যুক্তি জিনিসটা বাসা বাঁধতে শুরু করবে। যা আপনাকে একটা সফল নেতা হবার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যে কোন তর্কে জেতার ক্ষেত্রে এই যুক্তিই হবে আপনার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। যে কোন মানুষকে অনুপ্রাণিত করার ক্ষেত্রে বা প্ররোচিত করার ক্ষেত্রেও এই যুক্তিবাদী চিন্তাভাবনা অনেক  উপকারে আসে।

 

 

৩. সৃষ্টিশীলতা বাড়ায়

লেখালেখি করলে নিজের মধ্যে সৃষ্টিশীলতা অনেক বৃদ্ধি পায়। চিন্তাভাবনার উন্নতি ঘটে। থমাস আলভা এডিসন কিন্তু একদিনেই বাল্ব আবিষ্কার করতে পারেননি। তাকে দিনের পর দিন গবেষণাগারে এটা নিয়ে পড়ে থাকতে হয়েছে। কিংবা অ্যালেক্সান্ডার গ্রাহাম বেল যদি টেলিগ্রাফ নিয়ে গবেষণা না করতেন, আজকের এই টেলিফোন আবিষ্কার হত না। কোন সফল ধারণাই একদিনে সফল হয় না। দিনের পর দিন অভ্যাসের ফলেই কোন একটা আবিষ্কার বা সৃষ্টিশীলতা সফলতার মুখ দেখে। আর এই সৃষ্টিশীলতা বৃদ্ধির জন্য লেখালেখি সবচেয়ে বড় মাধ্যম।

 

৪. আত্মবিশ্বাস বাড়ায়

আপনি যদি এমন কিছু একটা বলেন বা লেখেন যা সম্পর্কে আপনার আসলেই ধারণা আছে, শ্রোতা বা পাঠক আপনার সেই আত্মবিশ্বাসটা সহজেই বুঝতে পারে যা তাদেরকে আপনার প্রতি বিশ্বাসী করে তুলতে আরো সাহায্য করে। যেসব নেতা নিজেদের লেখা বা কথা নিজেরা আসলেই বিশ্বাস করেন, মানুষ তাদের প্রতি বিশ্বাস রাখতে আরো বেশী পছন্দ করে। আর এই ক্ষমতাটা তখনই আসে যখন আপনি নিয়মিত লেখেন।

 

 

 

৫. মনযোগ বাড়াতে সহায়তা করে

নিয়মিত লেখালেখি করলে আপনার মনযোগ বাড়বেই। লেখালেখি হল সেই আদর্শ উপায় যার মাধ্যমে আপনার মনযোগ বৃদ্ধি হয়। আপনাকে আরো স্থিতধী হতে সহায়তা করে, আপনার মন কি চায়, কেন চায়, তার পেছনে যুক্তি কি – এসব জিনিসগুলো ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করার ক্ষেত্র দেয় লেখালেখি। প্রতিদিন লেখালেখি করলে আপনার শব্দভাণ্ডারও অনেক বড় হয়, যে শব্দ আপনাকে একজন সফল লেখক হিসেবে পরিচিত করতে সহায়তা করে। কে জানে, হয়তোবা এই লেখাখি করতে করতে কোন এক দিন আপনিও ফিটজেরাল্ড বা হেমিংওয়ের মত বড় কোন লেখক হয়ে যাবেন!