মনে করে দেখুন তো, এ পর্যন্ত এমন কত মিটিংয়ে আপনি উপস্থিত ছিলেন যেখানে কোন সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য কিংবা দিকনির্দেশনা ছিল না? সেখানে হয়তো আলোচনার জন্য সাধারণ একটি বিষয় ছিল কিন্তু নির্দিষ্ট একটি বিষয়সূচি কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কোন সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া ছিল কি? এ ধরণের মিটিং সবচাইতে কম ফলপ্রসূ, কারণ এভাবে শুধু যে সময়েরই অপচয় হয় তা নয়, এতে একটি কার্যকর সঠিক সিদ্ধান্তে নেয়াও অনেক কঠিন হয়ে যায়।

 

একইভাবে, আবার একবার ভেবে দেখুন তো এমন কি কখনো হয়েছে যে আপনাকে কোন একটি কাজ দেয়া হল এবং কিছু নির্দেশনাও সাথে বলে দেয়া হল কিভাবে আপনি কাজটি করতে পারেন। এ ক্ষেত্রেহয়তো আপনার কাজটি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা আগে থেকেই থাকতে পারে,  কিন্তু প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকার কারণে কাজটি কিভাবে করা যায় তা পরিকল্পনা করতেই আপনার অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

এখন আমি যদি বলি আপনি প্রতিদিন একটা সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করেই দ্রুত একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন?

আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কিভাবে ব্যক্তিজীবন এবং কর্মজীবন উভয় ক্ষেত্রেই এই কঠিন সমস্যার সহজ সমাধান করা যেতে পারে মাত্র চারটি ধাপেই।

 

১। সঠিক মানুষের সাথে কথা বলুন

মিটিং করার আগে খুঁজে বের করুন তাদেরকে যারা ফলপ্রসূ একটি সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম বলে আপনি মনে করেন। কথা বলুন তাদের সাথে মিটিংয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে। সঠিক লোকের সাথে কথা বলার পরও যদি আপনার মনে হয় মিটিংয়ের বিষয়বস্তু আপনার কাছে পরিষ্কার না তাহলে এখানেই সে মিটিং বাতিল ঘোষণা করুন।

একইভাবে, যখন আপনি কোন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন কিংবা কোন একটি ছোট দলের হয়ে কাজ করছেন  এবং কিভাবে এগোলে কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বুঝতে পারছেন না, সেক্ষেত্রেও এমন কারো সাথে কথা বলুন যে আপনাকে সঠিক পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করতে পারে।

“It is your moments of decision that your destiny is shaped.” – Tony Robbins

 

 

২। অভ্যন্তরীণ সমস্যা, সুযোগ, ঝুঁকি এবং পুরস্কার কী কী হতে পারে তার আগেই নির্ধারণ করুন

ধরুন সঠিক লোকের সাথে আলোচনার পর যখন আপনার মনে হচ্ছে এ মুহূর্তে একটি সঠিক সিদ্ধান্তের আসলেই প্রয়োজন। এখন কী করবেন? একটু সময় নিয়ে ভেবে দেখুন এই সিদ্ধান্ত নিতে গেলে আপনি কী কী সমস্যা এবং ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারেন এবং একইসাথে দেখুন এখানে কোন সুযোগুলো আপনি কাজে লাগাতে পারবেন আর তার পুরস্কার কী হতে পারে। ভেবে বের করুন সফলতার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি কোথায় এবং কোনটি হতে পারে সবচেয়ে বড় সু্যোগ? যদি সিদ্ধান্তটি ভুল হয়ে যায় তাহলে পরিণতি কী হতে পারে? সিদ্ধান্তটি সঠিক হলে আপনার প্রাপ্তি কী? ভেবে দেখুন প্রতিটা দিক এবং সম্ভব হলে একটা ছকে গুছিয়ে লিখে ফেলুন।

 

৩। পূর্বপ্রস্তুতি নিন যে কোন সম্ভাব্য সমস্যা মোকাবেলার

সমস্যাটির প্রতিটা দিক বিশ্লেষণ করুন। অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলোর পাশাপাশি এটাও ভেবে দেখুন সিদ্ধান্তটি বাহ্যিক কী কী কারণে প্রভাবিত হতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছ থেকে কিংবা ক্রেতাদের কাছ থেকে কী ধরণের চ্যালেঞ্জ আসতে পারে অথবা প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই অন্যান্য ডিপার্টমেণ্ট থেকেও কোন বাধার সম্মুখীন কি হতে পারেন? সম্ভাব্য কী কী সমস্যা আসতে পারে এবং সেসব কিভাবে সমাধান করা যেতে পারে তা নিয়ে আগেই পরিকল্পনা করুন এবং প্রস্তুতি নিন। মোকাবেলার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন।

 

 

এই পূর্বপ্রস্তুতির জন্য আপনাকে যে অনেক সময় ব্যয় করতে হবে ব্যাপারটা এমন নয়, কিন্তু যাই করবেন তা যেন যে কোন উদ্ভূত সমস্যা মোকাবেলার জন্য যথেষ্ট হয়। এ ধরণের পূর্বপরিকল্পনা আপনাকে যে কোন প্রতিকূল পরিস্থিতে মানসিকভাবে স্থির থাকতে সাহায্য করবে।

“A good decision is based on knowledge not in numbers.” – Plato

 

 

৪। নিজেই নিজের সিদ্ধান্ত নিন

এবার আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পালা। এই পর্যায়ে এসে আপনাকে অবশ্যই দৃঢ়তার সাথে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যে বিষয়ে আপনি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন সে বিষয়ের খুঁটিনাটি সম্পর্কে যদি আপনার বিস্তারিত ধারণা থাকে তাহলে সিদ্ধান্ত নেয়ার কাজটি অনেকটাই সহজ হয়ে আসে। ২য় এবং ৩য় ধাপে আপনি সমস্যাটি সম্পর্কে যে বিশ্লেষণ করেছেন তার মাধ্যমেই আপনি সম্ভাব্য সব সমস্যা এবং বর্তমানে আপনার অবস্থান সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়ে যাবেন। সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের এই ধাপে এসে U.S. Navy SEALS এর “Extreme Ownership”  তত্ত্বটি আপনি অনুসরণ করতে পারেন যেখানে বলা হচ্ছে নিজেই নিজের সিদ্ধান্ত নিন এবং ভালো হোক খারাপ হোক সিদ্ধান্তের যে কোন ফলাফল মেনে নিতে সবসময় প্রস্তুত থাকুন।

আমরা প্রতিদিনই সচেতন ভাবে হোকবা অবচেতন মনে হোক অসংখ্য ব্যাপারে অসংখ্য সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। এই চারটি ধাপ অনুসরণ করে আমরা আমাদের রোজকার জীবনে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্ভাবনাকে সহজেই কমিয়ে আনতে পারি।

 

তথ্যসূত্র- এডিক্টেড টু সাকসেস।