কিছুদিন আগে ধর্ষণের শিকার কয়েকজন শিশুর কেইস এনালাইসিস করেছিলাম। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধর্ষক জামিনে জেলের বাহিরে, দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। কোথাও মামলা তুলে নিতে বাধ্য করা হয়েছে, কোথাওবা আবার টাকার বিনিময়ে কিংবা ভয় দেখিয়ে আপোষ করা হয়েছে। যেখান ভিক্টিমের পরিবার শক্তিশালী সেখানে এখনো ধর্ষক জেলে আছে।

 

 

নারী নির্যাতন শুধু নারী-পুরুষের সামাজিক অবস্থানই নয়, সমাজে বিদ্যমান 'শক্তিশালী-দুর্বল' শ্রেণীবিন্যাস ও অপরাধ দূরীকরণে আইনের প্রায়োগিক বৈষম্যের ফল। কারণ যা-ই হোক ভিক্টিম ওই নারী-ই। এই বিচারহীনতা অপরাধীদের উদ্বুদ্ধ করে, অন্য অপরাধীদের মনেও 'আমার কিছু হবেনা' টাইপের মানসিকতা জন্ম দেয়। তাছাড়া কোনো ঘটনার পর 'কে বা কী দায়ী' সেটা নিয়ে বিতর্ক অপরাধের শাস্তির বিষয়টি কম গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে, অনেক ক্ষেত্রে আড়াল করে দেয়।

 

ভিক্টিম "পর্দানশীল" না হলে ধর্মান্ধদের জন্য সুবিধা। ধর্ষণের কারন হিসেবে পোশাকই দায়ী বলে প্রমাণ করা যায়। আবার ভিক্টিম শিশু বা "পর্দানশীল" হলে প্রগতিশীলদের জন্য সুবিধা। পুরুষতান্ত্রিক সমাজকে গালি দিয়ে তর্কে জিতা যায়। কিন্তু শাস্তি আর হয়না। নারী নির্যাতনের সংখ্যাও কমেনা।

 

এক্ষেত্রে আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই, সেজন্যই সৃষ্টিকর্তার নির্দেশিত রাষ্ট্রেও আইনের ব্যবস্থা। শিক্ষা পেলে বা 'বিশ্বাসী' হলেই সবাই নৈতিক হবে এটা ভাবা ভুল।

 

Stop Violence Stop Violence

 

যেখানে বা যার দ্বারা-ই নির্যাতনের শিকার হোক না কেন, প্রত্যেক নারীকে এ বিষয়ে কথা বলতে হবে, নির্যাতকের পরিচয় সবার সামনে প্রকাশ করতে হবে। পারিবারিকভাবে সাহস জোগাতে হবে যাতে কোনো নারী-ই গোপনে কোনো নির্যাতন সহ্য করে না যায়। প্রতিদিন হাজারো ঘটনা অপ্রকাশ্য থেকে যায়, এভাবে অপরাধীরা উদ্বুদ্ধ হয়। অন্যকে নির্যাতনের ঘটনাগুলো প্রকাশে উদ্বুদ্ধ করতে হবে, কেউ প্রকাশ করলে এপ্রিসিয়েট করা উচিত। অপরাধীদের সামাজিকভাবে বর্জন করুন, ভিক্টিমকে না।