আপনি কি কখনো এমন অনুভব করেছেন যে আপনি জীবনের একটি ক্ষেত্র থেকে বিছিন্ন হয়ে পড়েছেন অথবা জীবনের অন্যক্ষেত্র গুলো তে আপনি পিছিয়ে পড়েছেন?

হয়ত আপনি আপনার সম্পর্কগুলো নিয়ে একটা কঠিন সময় পার করছেন যা আপনার কর্মক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে অথবা এর চাপ ও চিন্তায় আপনার  স্বাস্থ্যহানি হচ্ছে?

 

শুধু জীবনের একটা ক্ষেত্রে লক্ষ্য না রেখে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও পরিপূর্ণতা আনতে একজন ব্যক্তির অবশ্যই কিছু কৌশল রপ্ত করা উচিত।

 

ধাপ-১ জীবনের বর্ণনামূলক একটি তালিকা তৈরি করা।

আপনি জীবনের ক্ষেত্রগুলোতে ঠিক কোন পর্যায়ে অবস্থান করছেন? ক্ষেত্রগুলো হতে পারে আপনার কর্মজীবন,অর্থ,স্বাস্থ্য,সামাজিক ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, ব্যক্তিগত অর্জন, আনন্দ,পারিপার্শ্বিক পরিবেশ। ক্ষেত্রগুলোর উপর আপনার সন্তুষ্টি বিবেচনা করে প্রতিটিকে ১ হতে ১০ এর মাত্রায় নম্বর দিন।

 

"তোমার দৃষ্টি রেখো নক্ষত্রে

এবং চরনযুগল ভূমিতে"- থিওভোর রুজভেল্ট

 

ধাপ-২ আবিষ্কার করুন আপনার প্রয়োজন।

কাজে ভারসাম্য ও পরিপূর্ণতা আনতে আপনার কি করতে হবে? জীবনে সন্তুষ্টি পাওয়ার জন্য বিশেষ ক্ষেত্রগুলো আপনি কি কি পরিবর্তন চান? দৃঢ়তার সাথে বিস্তারিত ভাবে লিখে রাখুন।চাইলে ধাপ ১ এর মত নম্বর দিয়ে তা নির্ধারণ করতে পারেন।

 

ধাপ-৩ আপনার অগ্রাধিকার কি হবে?

অনেক সময় জীবনের একাধিক ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। এটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। কারণ এটি শুধুমাত্র আমাদেরকে সুখী হওয়ার এবং পরিপূর্ণতা বৃদ্ধি করার সুযোগ দেয়। যে সমস্ত জিনিসগুলি আপনি পরিবর্তন করতে চাইতে পারেন তা জানতে অগ্রাধিকার ঠিক করা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যা মনে করি তাই-ই কি সবসময় অগ্রাধিকার? আরো পূর্ণতা পেতে আপনার প্রথম পদক্ষেপ কি? এক থেকে দুটো ক্ষেত্র নির্বাচন করুন এবং সেখান থেকে শুরু করুন।

 

ধাপ ৪: সফলতার জন্য নিজেকে তৈরি করুন।

কোনটি আপনার জন্য সবচেয়ে ভাল সাফল্য আনে তা নির্ধারণ করুন। আপনি কি পরিবর্তন করতে চান তা আবিষ্কার করার পর, আপনি লক্ষ্যটি কিভাবে অর্জন করতে পারেন তার জন্য সর্বোত্তম পদ্ধতি নির্ধারণ করুন। বিভিন্ন উপায় এবং সমর্থনকারী কৌশল আছে। আপনি সেরা এবং সবচেয়ে দক্ষভাবে কাজটি করার জন্য ভাবুন

 

ধাপ ৫: আপনার ব্লক নির্ধারণ করুন।

শুধুমাত্র নিজেকে জানা আপনার শক্তি বৃদ্ধির জন্য উপকারী নয়, আপনার জানতে হবে আপনি কোথায় আটকে যেতে পারেন। নিজেরে দুর্বলতা খুজে বের করুন। এগিয়ে চলুন এবং নিজের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠার জন্য সমাধান বের করুন। সামনে কি চ্যালেঞ্জ আসতে পারে তার উপায় বের করুন। এটি কেবল সময় এবং শক্তি সঞ্চয় করে না বরং আস্থার সাথে আপনার বাধাগুলি মোকাবেলা করতে সহায়তা করে।

 

"ঠিক আছে, ঠিক আছে না, যতক্ষণ না তুমি সেই পথে থাকো।"

 

ধাপ ৬: নিজেকে দায়ী রাখা

আপনার জীবন এবং কাজ আরো ভারসাম্য তৈরি করতে অবশ্যই আপনার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। এক কাজের ফলাফল দেখতে বিলম্ব হওয়া অন্যান্য কাজে অগ্রাধিকার বাড়ানোর কারণ হতে পারে। আপনি কি মাধ্যম অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা নিয়ে আপনি দায়বদ্ধ, সবসময় বড় উদ্দেশ্য এর উপর মনোযোগ নিবদ্ধ করা সাফল্য এর  জন্য অত্যাবশ্যক। জবাবদিহিতার জন্য একজন অংশীদার খুঁজুন, যে আপনার লক্ষ্যগুলো অর্জনে আপনাকে সাহায্য করার মত একজন কোচ হিসেবে সাথে থাকে অথবা আপনার মিশনটি সম্পূর্ণ করার পরে কীভাবে নিজেকে পুরস্কৃত করবেন তা নির্ধারণ করুন।