আচ্ছা আপনাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছেন, যিনি ফেসবুকে আনফ্রেন্ড করেছেন কাউকে?- যিনি আপনার মতবিপক্ষে কোন কথা বলেছে, রাজনীতি, লাইফস্টাইল, খাবার বা অন্যকিছু সম্পর্কে!এমন কেউ কি আছেন আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে যার সাথে আপনি কথা বলতে চাচ্ছেন না? এই ধরনের ঘটনায় আমরা সবসময় যেটা করি, অন্যকে দোসারোপ করতে পছন্দ করি। একবারের জন্যও ভাবি না, ভুলটাত আমরও হতে পারে, আমি কি তার সাথে ভালোভাবে কথা বলেছি! সে কি বলতে চায় তা কি বুঝতে চেয়েছি! -এই ধরনের অনেক প্রশ্নই রয়েছে যা নিজেকে করার অভাবে অনেক ভালো সম্পর্কও ভেঙ্গে যায়। আর এর মূল কারন, ভালোভাবে কথা বলতে না পারা। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রাক্কালে এসে, একজন ভালো মধ্যস্ততাকারী বা ভালো কথা বলতে পারে এই ধরনের লোকদের চাহিদা আকাশচুম্বি। বর্তমান চাকরীর বাজার আপনি কি পারেন তার চাইতে বেশী গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে আপনি কতটুকু স্মার্টলী কাজ করতে পারেন সেটার দিকে।

 

সুতরাং এটা বলাই যায় বর্তমান বিশ্বে, প্রতিটি কথাই বা কনভার্সেশন-ই এক একটি যৌক্তিক ধারা অবলম্বন করে। কিন্তু এই একটি ধারাই আমরা ঠিকভাবে পালন করতে পারছি না। আমেরিকায় একটি স্টাডিতে ১০০০০ কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে দেখা গিয়েছে, তারা ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ সময় অতিবাহিত করছে- কারন তারা সবচেয়ে বেশী ব্যাক্তিকেন্দ্রিক, বিভাজিত, এবং কোন প্রকার সমঝোতায় আসতে রাজি নয় কারো সাথে -এই সবের একটাই কারন আমরা একে অপরকে শোনার মত মন মানসিকতা রাখি না। এবং আমরা অধিকাংশ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি যেখানে আমরা বাস করি, আমরা কাকে বিয়ে করবো, বা যারা আমার ফ্রেন্ড হবে এইসকল কিছুই ঠিক করি আমরা যা পূর্ব থেকেই বিশ্বাস করি, কখনোই ভাবি না অন্য আরেকজন যা বিশ্বাস করে তাও সঠিক হতে পারে। একটি পরিপূর্ন আলোচনার পূর্বশর্ত  - বলা এবং শোনার মধ্যে ভারসাম্য, কিন্তু প্রতিনিয়তই আমরা এই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলি। এই ধরনের ভারসাম্যহীনতার জন্য অন্যতম দায়ী- আধুনিক প্রযুক্তি। পিউ রিসার্চ অনুযায়ী, এক-তীতৃয়াংশ আমেরিকান টিনএজার রয়েছে যারা দিনে ১০০+ ম্যাসেজ পাঠায় এবং তাদের মধ্যে অধিকাংশই পছন্দ করে ম্যাসেজ পাঠাতে যখন তারা অন্য কারো সাথে ফেইস টু ফেইস কথা বলে। তাই এখন বলাই যায়, প্রযুক্তি আমাদের জীবনের অন্যতম একটা দক্ষতা কেড়ে নিয়েছে, আজ আমরা বিভিন্ন অবিস্মরণীয় আইডিয়া বের করছি কাজে লাগিয়েছি এসকল কিছুই হচ্ছে কিছু এপ্লিকেশন বা সফটওয়্যারের মধ্যেই কিন্তু এক জনের সাথে আরেক জনের যে আলাপ-আলোচনা সেটা থেকে সবাইকে বঞ্চিত করছি। আমরা আজ বুঝতে অক্ষম বা অনুভব করতে অক্ষম- কথার ভাষা, একেকটা শব্দের স্বরের কারনে যে আলাদা অর্থ উপস্থাপন করে সেটাও জানি না।

 

তাই এখন একটা প্রশ্ন রাখতে চাই, ২১ শতাব্দীর বিশ্বে কি আজও সম্ভব- একটি আত্মবিশ্বাসী আলোচনা/ কনভার্সেশন? জ্বি হ্যাঁ, সম্ভব। আজকে আমরা দেখবো ১০ টি কনভার্সেশন পদ্ধতি । যার মধ্য দিয়ে নিজেকে আরেকবার জিজ্ঞাসা করার সুযোগ পাবো, আসলিই কি আমি ঠিকভাবে কথা বলতে পারছি, নাকি না! যখনই কনভার্সেশন পদ্ধতি  নিয়ে কথা চলে আসে, মাথায় শুধু ঘুরপাক খায়- চোখের দিকে তাকিয়ে থাকা, মনোযোগী হওয়া, মজার বিষয় নিয়ে কথা বলা ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি আজ বলতে চাই, ঝেড়ে ফেলুন সবগুলো এগুলো আসলে একটা ফন্দি ছাড়া কিছুই না, সুতরাং আজ এমন কিছু পদ্ধতি  নিয়ে কথা বলবো যগুলো আপনাকে আসলেই সাহায্য করবে নিজেকে প্রমান করারা জন্য-

 

  1. Don’t Multitask.     মানে এই নয় যে আপনি যখন কথা বলবেন, সকল কিছু ফেলে দিয়ে হাত গুটিয়ে শুধুই কথা বলবেন। এটার মানে- যখন কথা বলবেন তখন আপনার মন ধ্যান সকল কিছু যেন ওই অবস্থানেই থাকে, ওই মুহূর্তেই থাকে। কারো সাথে কথা বলার সময় কখনই মাথায় নিয়ে ঘুরবেন না- ওহ ওই লোকটা কি যেন বলেছিলো!  খাবার মেন্যু এগুলো! কাল এটা কি করলাম!, এই ধরনের সকল চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিতে হবে। কখনই অর্ধেক কথা বলার জায়গায় বাকি অর্ধেক অন্য কোথাও পাঠিয়ে দিবেন না।

 

  1. Don’t Pontificate      আপনি কোন কিছু বলতে বা লিখতে চান কোন প্রকার যুক্তি, তর্ক ছাড়া তাহলে ব্লগ লিখুন, কেনই বা অন্য কারো সাথে অযথা তর্কে জড়াবেন! একজন ভালো করভার্সেশ্নিস্টের অন্যতম দক্ষতা হলো, সে প্রতিটি কথার ভিতরে প্রবেশ করে রস আশ্বাদন করে এবং সেখান থেকে কিছু শিক্ষা প্রহন করে। মানুষ কি বলে তা মেনে নেওয়ার মত মনমানসিকতা থাকতে হবে, এর মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই একজনের প্রিয় পাত্র হতে পারেন। সর্বপরি, আপনাকে কিছু শিখার মানসিকতা থাকতে হবে।

 

  1. Use Open Ended Questions     ক্ষেত্রে আমাদের একজন সাংবাদিকের ভূমিকা পালন করতে হবে। আপনাকে ছেড়ে দিতে হবে, সে যা খুশি এন্সার করতে পারে। আপনি যদি কাউকে বলেন “ আপনি কি ভয় পেয়েছেন” সে কি এন্সার দিবে, হ্যা/না- এই ধরনের কোশ্চেনকে ক্লোজ এন্ডেড বা বদ্ধ প্রশ্ন বলে। এই ধরনের প্রশ্নে উত্তরদাতা নিজের ভাব ভালোভাবে প্রকাশ করতে পারে না। তাই আপনি যদি জিজ্ঞাসা করতেন “আপনি কেমন অনুভব করছেন” তখন একটি পরিপূর্ন উত্তর চলে আসত।

 

  1. Go with the Flow     মধ্যে অন্য কথা, একটা খুবই পরিচিত বাঙ্গালিয়ানা স্বভাব। তাই যখনই আপনার সাথে কেউ কথা বলবে, অবশ্যই সে যে দিকে কথা বলে সেদিকে যাওয়াই উচিৎ। কখনই উচিৎ হবে না, সে বলছে আপনাকে আজকের শেয়ার বাজারের কি অবস্থা আর আপনি তখন বলা শুরু করলেন অস্কারের কি অবস্থা!

 

  1. If you Don’t Know say, don’t know. আমরা হচ্ছে সবজান্তাসমিপেষূ, পৃথিবীর এমন কিছুই নেই যার উত্তর আমাদের কাছে নেই। তাই এই ধরনের আচরন সম্পূর্ন এড়িয়ে চলা উচিৎ, এবং সোজা উত্তর বলে দেয়া আপনি জানেন না! বলে দিন, জানি না।

 

  1. Don’t Equate with Others     আপনার অভিজ্ঞতার সাথে আরেকজনের অভিজ্ঞতার সামঞ্জস্য বা মিল খুজবেন না।মনে করুন, কারো পরিবারের কেউ মারা গিয়েছে, আপনিও বলছেন আপনারও কেউ মারা গিয়েছিলো! আপনার আর তার অনুভুতি বা আবেগ কি একইরকম, এমনও হতে পারে সেই ব্যক্তিটি তার পরিবারের মূল উপার্জনকারী ছিলো। সুতরাং, কখনই এটা করা যাবে না, প্রত্যেক ব্যাক্তির অভিজ্ঞতা আলাদা।কথা বলা মানেই নিজেকে মানুষের কাছে জাহির করা নয়।

 

  1. Try not to Repeat Yourself     বার এক কথা না বলা। আমরা প্রায়ই এই কাজটা করে থাকি, এক কথা বার বার রিপিট করতে পছন্দ করি, যা সম্পূর্ন কথা বলার ধরনকেই চেঞ্জ করে দেয়।

 

  1. Stay Out of the Weeds     সবসময় সবকিছুর ডিটেইল বলতে পছন্দ করি, কারো ব্যাক্তিগত সম্পর্কে। কিন্তু মানুষ কারো ডিটেইলের চাইতে বর্তমান অবস্থা কি সেটাই পছন্দ করে, তাই এসব ঝঞ্জাল ঝেরে দেয়াই উচিৎ।

 

  1. Listen     গুরুত্বপূর্ন এবং যে কোয়ালিটি সকলের থাকা দরকার তা হল- শোনার দক্ষতা। এটাই একমাত্র গুন যা আপনি নিজের মধ্যে চাইলেই কোন ঝামেলা ছাড়া উন্নতি করতে পারেন।গৌতম বুদ্ধ বলেছে, “যদি তোমার মুখ খোলা থাকে তাহলে তুমি কিছুই শিখতে পারবে না”। তাই একটা কথা বলা হয়ে থাকে, আমরা কথা শুনি বুজার জন্য নয়, উত্তর দেয়ার জন্য।

 

  1. Be Brief.     যে পদ্ধতি টি দরকার, সংক্ষিপ্ত করা। যখনই কিছু বলবেন, খুব ছোট করে ভালোভাবে বুজিয়ে বলার চেষ্টা করবেন।এই ধরনের কথা কে বলা হয়, মিনিস্কার্ট যা সকল কিছুকে ঢাকবে, পরিপূর্নভাবে।

 

Go out, talk to people, listen to people, and most importantly be prepared to be amazed.