বিভিন্ন মোড়ে পত্রিকা, ফুল, বাদাম, সিগারেট, শশা, আমড়া চকলেট ও হরেক রকম জিনিস বিক্রি করে বেড়ায় পথ শিশুরা। থাকে বিভিন্ন বস্তিতে কিংবা রাস্তার পাশে অথবা রেল জংশন এ। ঈদে নতুন পোশাক কেনা বা কোরবানি কিনেছে কিনা তা আপনি তার কাছ থেকে জানতে চাইলে উত্তরটা পাবেন লাজুক হেসে দুই দিকে মাথা নাড়াবে। যার অর্থ ‘না’।

কেন? কিনবে না? এ প্রশ্নের উত্তরে তারা বলবে, ‘আমার মা যে বাসায় কাম করে, সে বাসার আন্টি মায়েরে হেগো মাইয়্যার পুরান জামা দিছে। ওইটাই আমার নতুন জামা।’ কেউ কেউ হয়ত তাদের কিছু নতুন জামা কিংবা কিছু মাংস দিবে! 

নতুন না হলেও এ জামাটি পেয়েই বেজায় খুশি পথশিশু। নগরীর ফার্মগেট, আগারগাঁও, শাহবাগ ও মিরপুর এলাকার কয়েকজন পথশিশুর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণ শিশুদের মতো পথশিশুদেরও ঈদকে ঘিরে রয়েছে নানা রকমের পরিকল্পনা।

তাদেরও ইচ্ছা হয় ঈদের দিন নতুন জামাকাপড় পরে ঘুরে বেড়াতে। ভালো খাবার খেতে। কিন্তু সে ইচ্ছা পূরণ করার সামর্থ্য তাদের কই? কারণ দু’বেলা কোনোরকম খেয়ে পরে বাঁচতেই তাদের প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয়।

পথশিশুদের কারও মা-বাবা আছে, কারও শুধু মা ও ভাইবোন আছে। আবার কারও তাও নেই। তারা সারাদিন কাজ করে রাতে ফুটপাত, বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশন এসব স্থানে ঘুমায়।

বেশিরভাগ শিশুই কাগজ ও ভাঙ্গারি কুড়িয়ে, ফুল, পানি, পত্রিকা বিক্রি করে, কেউ ভিক্ষা করে এবং ফুট-ফরমায়েশ খেটে টাকা রোজগার করে। এ টাকা নিজের মা-বাবাকে দিয়ে সংসারের প্রয়োজনীয় খরচের জোগান দেয় এ শিশুরা।

ঈদের আনন্দ কি তা জানে না পথশিশুরা। নতুন পোশাক পরে বাবা-মার হাত ধরে কোনো বিনোদন কেন্দ্রে যাওয়ার অবস্থাও তাদের নেই। কারণ ঘরে যেখানে ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ অবস্থা সেখানে বিনোদন কেন্দ্রে যাওয়া তো তাদের জন্য দিবাস্বপ্ন।

সাধারণ দিনের মতো ঈদের ছুটিতেও পথে পথে নানা রকম পণ্য ফেরি করে বেড়াতে হয় তাদের। তাই ঈদ কবে এসেছিল আর কবে বা চলে যায় তা টের পায় না এ সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা।

কথা হলে শাহবাগের কয়েকজন পথশিশু জানায়, ঈদে তাদের নতুন জামা পরে শিশুপার্কে ঘুরে বেড়াতে ইচ্ছা করে। এ ছাড়া বেলুন ও খেলনা কিনতে এবং আইসক্রিম ও চটপটি খেতে মন চায়। কারও কারও নিজের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ঈদ করতে ইচ্ছে করে